Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

পাশে নেই উপজেলা চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানরা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২১, ০৭:৪৭ পিএম

পাশে নেই উপজেলা চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানরা
Swapno

বিগত দেড় মাস ধরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ফতুল্লার ডিএনডি এলাকার মানুষ। অথচ স্থানীয় উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের কোনো দেখা পাচ্ছেন না তারা। ডিএনডিবাসী জানিয়েছেন খোদ ডিএনডির ভেতরেই অবস্থান করছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কার্যালয়। আর এই কার্যালয়েই বসেন এই চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানরা। কিন্তু মানুষের সুখেদু:খে তাদের দেখা মিলছে না। এই মুহুর্ত্বে প্রবল কৃত্রিম বন্যায় ডুবে আছে ফতুল্লার ডিএনডি অঞ্চল। কিন্তু এই চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান একবারের জন্যও কোনো এলাকা পরিদর্শন করেননি। এলাকাবাসী মনে করেন আর যাই হোক তারা এলাকাগুলি পরিদর্শন করে বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে তুলে ধরতে পারতেন।

 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ডিএনডির জলাবদ্ধতায় নয়, বরং কোনো কাজেই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের কোনো দেখা মিলে না। তাই প্রশ্ন উঠেছে তাদেরকে কেনো রাখা হয়েছে। কি দরকার উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের। কোনো কাজই যদি তারা না করবেন তাহলে তারা কিসের জনপ্রতিনিধি। ডিএনডি এলাকাবসী মনে করেন আর যাই হোক সদর উপজেলার চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানরা যদি এলাকাগুলি পরিদর্শন করে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন তাহলেও মানুষ সহস পেতো। তারা গিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে এসে প্রশাসনকে এবং স্থানীয় এমপিকে জানাতে পারতেন। জানাতে পারতেন ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্বে নিয়োজিত সেনা বাহিনীকে বা কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু কোনো কাজেই তাদেরকে পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

 


এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় বিগত প্রায় চৌদ্দ বছরের বেশি সময় ধরে কোনো নির্বাচন হচ্ছে না। ফলে মানুষ নতুন কোনো জনপ্রতিনিধি পাচ্ছেন না। চৌদ্দ বছর আগে নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানরা হলেন, চেয়ারম্যান এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন আহম্মেদ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির। বহু বছর ধরে তারা এই উপজেলার চেয়ারম্যান হলেও জনস্বার্থে তাদেরকে কখনো কোনো কাজ করতে দেখা যায়নি। রহস্যজনক কারনে এই উপজেলায় কোনো নির্বাচনও হচ্ছে না। ফলে জনগন নতুন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানও পাচ্ছে না।

 

সূত্রমতে জানা গেছে, এই চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানরা জনস্বার্থে কোনো কাজ না করলেও প্রতি মাসে মোটা অংকের সম্মানী, ভাতা এবং অন্নান্য সুযোগ সুবিধা গ্রহণ ও ভোগ করছেন। উপজেলার চেয়াম্যানের মাসিক সন্মানী চল্লিশ হাজার টাকা। এছাড়া তিনি সরকারী গাড়ি ব্যাবহার করছেন। অন্নান্য ভাতাও নিয়মিত পাচ্ছেন। এছাড়া বেশ উপরি আয়ও রয়েছে বলে জানা গেছে। একই ভাবে দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রতি মাসে সন্মানী পাচ্ছেন সাতাশ হাজার টাকা করে। একইভাবে তারা অন্নান্য ভাতা এবং সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। কিন্তু তারা কেনো আছেন? কি কাজ করছেন? জানেনা সদর উপজেলার সাধারণ মানুষ।

 


এদিকে এ বিষয়ে ফতুল্লার লালপুর এলাকার বাসিন্দা শহীদ উল্লা মিয়া বলেন, আমরা বর্ষাকাল ছাড়াও সারা বছর ধরে ডুবে থাকি। এরই মাঝে এই এলাকা একটি পরিত্যাক্ত এলাকায় পরিনত হয়েছে। এখানে এখন আর বাড়িওয়ালারা ছাড়া কোনো ভাড়াটিয়া থাকে না। তাই যারা বাড়ি ভাড়ার উপর নির্ভরশীল ছিলো তারা না খেয়ে থাকছে। উল্টো বাড়ির রক্ষনাবেক্ষন খরচ চালাতে গিয়ে আমরা হিমসিম খাচ্ছি। আমাদের দূর্দশা নিয়ে শুধু সাংবাদিকরা লিখেন বা রিপোর্ট করেন। কিন্তু কোনো কাজ হয় না। বিগত ছয়/সাত বছর ধরে চলছে এই অবস্থা। তারা আরো জানান এলাকার চেয়ারম্যান স্বপন মাঝে মাঝে খোঁজ নেন। কিন্তু তিনি কিছুই করতে পারছেন না।

 

তিনি আরো জানান উপজেলার চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানদের তিনি কখনো এই এলাকায় আসতে দেখেননি। কখনোই তারা খোঁজ নেননি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন তারা যদি কোনো কাজই না করবেন তাহলে তাদেরকে রাখা হয়েছে কেনো। একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন ফতুল্লা ইউনিয়নের ইসদাইর এলাকার বাসিন্দারা। তারাও বলেন উপজেলা পরিষদ কেনো রয়েছে। তারা বছরের পর বছর ধরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন। কিন্তু কেউ কোনো খোঁজ নিচ্ছেন না। উপজেলা পরিষদের যে তিনজন চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছে তাদেরকে কখনো দেখা যায়নি বলে তারা জানান। তারা এই ধরনের অথর্ব উপজেলা পরিষদই বিলুপ্ত করার দাবি জানান। মূলত এভাবেই এখন বিভিন্ন এলাকার মানুষ তীব্র সমালোচনা করছে উপজেলার চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানদের। 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন