রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন এবং রাজধানীর বেড়াইদের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছে বালু নদীর নাওড়া- বেড়াইদ নৌ ঘাট। স্থানীয় পথচারীদের সুবিধায় এ ঘাটে নৌপরিবহন ও স্থানীয় সরকারের যৌথ অর্থায়নে ২০১৬ সালে একটি ঘাটলা নির্মান করা হয়। বালু নদীর পানিতে গোসলের জন্য কিংবা নৌকায় ওঠতে নামতে এ ঘাটে পর্যাপ্ত সিঁড়ির ব্যবস্থা রাখার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে রাখা হয়নি তা। ফলে নির্মানের শুরু থেকেই কাজে আসলো না এ ঘাটের সিঁড়িগুলো। তাই মাঝিদের করা বিকল্প বাঁশের সাঁকোতে ভরসা এ পথে যাতায়াতকারীদের।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বালু নদীর পূর্বপার রূপগঞ্জের নাওড়া আর পশ্চিমপাড়ে রাজধানীর বেড়াইদ গ্রাম। বৃটিশ শাসন আমল থেকে এ ঘাটটি সচল থাকলেও কালের বিবর্তে তুলনামূলক উন্নয়ন ছোঁয়া পায়নি এ ঘাটটি। বেড়াইদ বাজারে আসা যাওয়ায় জন্য স্থানীয়দের একমাত্র নৌ যাতায়াত পথ এটি। নাওড়ার খাল, বিল আর রামপুরা খালের মিলনস্থল হওয়ায় এ অংশে বালু নদীর পানির ¯্রােত খর¯্রােতা রূপে থাকে সারা বছর। ফলে নদী ঘাটের মাঝিদের যাত্রী নিয়ে পারাপারে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। আবার যাত্রীদের ওঠানামায় ভোগান্তি থাকায় নিজেরাই বিকল্প বাঁশের সাঁকো করতে বাধ্য হয়েছেন।
এ ঘাটের মাঝি আসাদুল্লাহ মিয়া বলেন, একটা ঘাট করা হয়েছে। ভেবেছিলাম মানুষের কষ্ট দূর হবে। এখন যাত্রীরা সিঁড়ি না থাকায় এ ঘাট ব্যবহার করে না। স্থানীয় তরুণরা এখানে আড্ডা জমায়ে রাখে। মাঝিরাও বসার সুযোগ পায় না। আরেক মাঝি শরীফুল ইসলাম বলেন, ৫ টাকা করে পার করাই। যাত্রীরা ঘাটে দেয় ২ টাকা। ছোট নদীতে পার হতে গিয়ে ঘাটটির সিড়ি না থাকায় সবাই সমালোচনা করে। তারা বাধ্য হয়ে আমাদের করা বাঁশের সাঁকো পার হয়। নাওড়ায় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, বেড়াইদ বাজারে আমার মুদি দোকান। নিয়মিত যাতায়াতের জন্য এ ঘাট দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হই। ঘাটলার সিড়ির ধাপ বাড়ালেই এ সমস্যা দূর করা সম্ভব ছিলো।
এদিকে বেড়াইদ ঘাটে ইজারাদার সোলেমান মিয়া নিয়ম বহির্ভূত অতিরিক্ত টোল আদায় করলেও ঘাটে সরকারীভাবে বিনামূল্যে পারাপারে নিয়োজিত কোন নৌকার ব্যবস্থা রাখেননি। তবে ইজারাদার মাঝিদের বাঁধায় এ গুদারা রাখেন নি বলে অভিযোগ করে বলেন, ফ্রি গুদারা দিলে মাঝিরা যাত্রী পায় না। তাই এটা বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হয় রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, নদীর ঘাটলায় সিঁড়ি সংকট কেন হলো তা খতিয়ে দেখা হবে। কারো গাফিলতি পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তাছারা নৌ ঘাটে গুদারা ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। তবে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুঁইয়া বলেন, ঘাটলার সমস্যা সমাধানে অচীরেরই বরাদ্দ দিয়ে মানুষের চলাচল উপযোগী করে দেয়া হবে।


