দেড় মাস ধরে জলাবদ্ধতা, অসহায় ফতুল্লার টাগারপাড়বাসী
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২১, ০৭:৩৪ পিএম
এলাকাটির নাম টাগারেরপাড়। ওই এলাকায় গড়ে উঠেছে ঘনবসতি এবং হাজার হাজার মানুষের বাস। গড়ে উঠেছে ছোট-বড় বেশ কিছু গার্মেন্ট কারখানা। ফলে এসব গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করেন হাজার হাজার শ্রমিক। গতকাল সকালে ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ লক্ষ্য করা যায়। শত শত গার্মেন্ট কর্মী হাঁটু পানি মাড়িয়ে কাজে যাচ্ছেন আর আসছেন।
পরিস্থিতি এতোটাই খারাপ যে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পানি। পানি ঢুকছে আশপাশের শিল্প কারখানায়। পুরো এলাকা ময়লা নোংরা পানিতে একেবারে সয়লাব। পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ যে অনেক লোক এরই মাঝে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গত প্রায় দেড় মাস ধরেই অত্র এলাকায় এভাবে বৃষ্টির পানি জমে আছে। তাই অত্র এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী।
একদিনের বৃষ্টিতে আবার ডুবেছে গোটা ফতুল্লার ডিএনডি এলাকা। ইসদাইর, গাবতলী, টাগারের পাড়, লালপুরসহ গোটা এলাকা পানিতে সয়লাব। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও আবার কোমড় পানি। আর লালপুর এলাকায়তো গত দেড় মাস ধরে নৌকা চলছে। ফতুল্লা এবং কুতুবপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকাই এখন বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের উদাসিনতার কারণেই গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা এলেই তাদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কারণ ফতুল্লা থানা এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব হলো শামীম ওসমানের হাতে।
এদিকে এলাকাবাসী মনে করেন তাদের ভাগ্য এতোটাই মন্দ যে শামীম ওসমানের মতো একজন এমপি তারা পেয়েছেন। শামীম ওসমান সব সময় বড় বড় কথা বলতে পছন্দ করেন। কিন্তু তিনি জনগণের উন্নয়নে কোনো কাজ করেন না। তার কথার সাথে কাজের কোনো মিল নেই। তারা আরো বলেন, গত চৌদ্দ বছরে বর্তমান সরকারের আমলে দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে তার ছিটা ফোটাও হয়নি ফতুল্লা এলাকার। শামীম ওসমান কিছু রাস্তাঘাট পাকা করা ছাড়া আর কিছুই করেননি। তাও এখন আবার এই সকল রাস্তাঘাট ডুবে থাকে পানির নিচে। মানুষ চলাচল করতে পারে না। ফলে একেবারে অসহায় হয়ে পরেছে ওই সব এলাকার মানুষ।
এদিকে ফতুল্লায় যারা শামীম ওসমানের লোক হিসাবে পরিচিত তারা সকলেই নিজেদের আখের গুছাতে ব্যস্ত রয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, শামীম ওসমান নিজে ফতুল্লার উন্নয়ন দেখেন না। কারণ, তার চাল-চলন হলো জমিদার গোছের। চলনে-বলনে শামীম ওসমান যেন কোনো রাজা-বাদশা। তাই সহজে তার নাগাল পায় না এলাকাবাসী। এছাড়া তিনি উন্নয়নের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন তার কিছু বিশ্বস্ত লোকের হাতে। আর এই বিশ্বস্ত লোকেরাই তার বারোটা বাজাচ্ছে। ওইসব লোকজন কেবল নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত রয়েছেন।
ফলে একদিকে শামীম ওসমান নিজে এলাকার মানুষের দুঃখের সময় পাশে নেই। অপরদিকে তার লোকেরাও সাধারণ মানুষের পাশে নেই। ফলে একেবারে অভিবাবকহীন হয়ে পরেছেন ফতুল্লার জনগণ। এছাড়া নিরুপায় মানুষ বাধ্য হয়ে তাদের এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারদের স্মরাণাপন্ন হচ্ছেন। কিন্ত চেয়ারম্যান মেম্বাররা কোনো সমাধান দিতে পারছেন না। এদিকে এলাকাবাসী আরো মনে করেন, শামীম ওসমান যদি আন্তরিক হতেন তাহলে তিনি ফতুল্লা অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন করতে পারতেন। আসলে তিনি ভালো মতো জানেনও না কোথায় কি সমস্যা আছে। কারণ তিনি কখনোই সরেজমিন গিয়ে কোনো সমস্যা দেখেন না।
এছাড়া তিনি নারায়ণগঞ্জ আসলে সব সময় চাটুকার পরিবেষ্টিত থাকেন। আর এই চাটুকাররা কখনোই তাকে কোনো সঠিক তথ্য দেন না। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। উন্নয়ন বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে গোটা ফতুল্লা থানা এলাকা। তাই ফতুল্লাবাসী মনে করেন তারা এক অবিবেচক নেতার খপ্পরে পড়েছেন। যেখান থেকে তারা মুক্তির কোনো পথ দেখছেন না। ফলে ফতুল্লার মানুষ এই জিম্মিদশা তকে কবে মুক্তি পাবে সেটাও জানেন না।


