মাছ চাষীদের কারণে ডিএনডির কদমতলীতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২১, ০৭:৫৪ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলীতে দীর্ঘদিন যাবত মাছের ঘের তৈরী করে মাছ চাষ করছে কিছু মাছ চাষী। স্থায়ী পুকুর বানিয়ে মাছ চাষের ফলে ঐ পানি তারা ডিএনডির নিষ্কাশন খালে যেতে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে রেখেছে। এতে ডিএনডির কদমতলী এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় দূর্ভোগের মধ্যে কালাতিপাত করছে। এ ব্যাপারে কদমতলী এলাকাবাসী সম্প্রতি মানববন্ধনও করেছে। ইতিপূর্বে তারা মৌখিকভাবে জলাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে ডিএনডি পাম্প হাউজসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে। কিন্তু এতে তাদের কোন লাভ হয়নি। বরং জলাবদ্ধতা বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রমতে জানা যায়, ডিএনডির সিদ্ধিরগঞ্জের বাতানপাড়া এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যান রওশনের ভাই ইব্রাহীম, পাগলাবাড়ি এলাকার আব্দুল আউয়াল, শুক্কুর আলী, ইকবালসহ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ডিএনডির বাতানপাড়া বিল এলাকায় ছোট-বড় জলাশয় তৈরী করে মাছ চাষ করছে দীর্ঘদিন যাবত। তাদের জলাশয় বা পুকুরগুলো কদমতলী এলাকার পশ্চিমপাশে অবস্থিত। এই জলাশয়গুলোর কারণে কদমতলী, মিজমিজি পাগলাবাড়ি ও মিজমিজি বাগানবাড়ি এলাকার পানিগুলো আটকে থাকে। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। মাছ চাষীরা তাদের এমনভাবে জলাশায়গুলো তৈরী করেছে যে, ঐ জলাশয় থেকে কোন পানি ডিএনডির নিষ্কাশন ক্যানেলে আসার সুযোগ নেই। ফলে পানিগুলো মেইন ক্যানেল আসতে না পারায় অনেক এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এছাড়া এ মাছের ঘের গুলোতে ৫০০-১০০০ টাকায় টিকিটের বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এলাকাবাসী এ ব্যাপারটি পানি উন্নয়নবোর্ডের শিমরাইল পাম্প হাউজের কর্মকর্তাদেরসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করলেও এর কোনো পরিত্রাণ তারা পায়নি। এলাকাবাসী জানায়, ঐ মাছ চাষীরা মাছ চাষ করুক এতে তাদের কোন আক্ষেপ নেই। মাছ চাষীরা শুধু ঐ এলাকার রাস্তাগুলোর নীচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে পানি ডিএনডি খালে যাওয়ার ব্যবস্থা করলেই হবে। অনেক রাস্তায় পানি চলাচলের পাইপ থাকা সত্বেও ঐ পাইপগুলো মাছ চাষীরা বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। কেননা পানি আটকিয়ে রাখতে পারলে মাছ চাষীরা শুষ্ক মৌসুমেও তাদের মাছ চাষ চালিয়ে যেতে পারবে।
এজন্য তারা পানিগুলো আটকিয়ে রাখে। কদমতলী এলাকার গত কয়েক মাসের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বিক্ষুব্দ এলাকাবাসী গত ২২ জুন চিটাগাংরোড- নারায়ণগঞ্জ সড়কের আদমজীর কদমতলী ব্রীজ এলাকায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে মানববন্ধনও করেছিলো। কিন্তু তারপরও তারা জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ পায়নি। জলাবদ্ধতার চিত্র দিয়ে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেছেন ঐ এলাকার বাসিন্দা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এম এ মাসুদ বাদল। তার লেখায় তিনি জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধও জানিয়েছেন। এছাড়াও এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় পাম্প হাউজ ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে তাদের দূর্ভোগের কথা উত্থাপন করেছেন। এতকিছুর পরও তারা জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছেন না।


