রূপগঞ্জে ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২১, ০৮:০৬ পিএম
তিন দিনের ভারী বর্ষণে রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। পানি দ্রুত নিস্কাশন, সুইচ গেইট ও ক্যানাল দখল হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ভারী বর্ষণে বাড়ি- ঘর ও রাস্তা ঘাট তলিয়ে গিয়ে উপজেলার ২১ গ্রামের ৩০ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলী জমি। গবাদি পশু অন্যত্র সরিয়ে নিলেও ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।
এদিকে পানি বন্দি মানুষ বাড়ির ছাদের উপর বা ঘরে বাঁশের মাঁচার উপর দূর্বিসহ জীবনযাপন করছে। কয়েকটি শিল্পকারখানার বর্জ্যের পানি এ জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী বলে জানা গেছে । এলাকা ঘুরে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার, তারাবো, বরপা, ভূলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নে গত তিন দিনের বর্ষনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি অপসারনের ব্যবস্থা না থাকায় এসব এলাকার ৩০ হাজার পরিবারের প্রায় ১ লক্ষ লোক পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। গত ১২ বছর যাবৎ এসব এলাকার মানুষের বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট তলিয়ে ঘরে ঘরে পানি উঠে দূর্বিসহ জীবন যাপন করতে হয় এসব এলাকার মানুষের। শুকনো খাবার খেয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বেঁচে থাকলেও শিশুদের কষ্টের সীমা থাকেনা। অনেকে নিজ বসত বাড়ি ছেড়ে আত্মীয় স্বজন বা ভাড়া বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আর যারা গরীব অসহায় তারা বেড়িবাধেঁ বা ঘরে মাচাঁ দিয়ে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড, ৫নং ওয়ার্ড ও ৬ নং ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌ বাজার, বাগমোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয় নগর, মদিনা নগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, যাত্রামূড়া, রূপসী ও ভূলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনাব, পাচাইখা ও ইসলামপুর এলাকার ৩০ হাজার পরিবারের প্রায় ১ লাখ মানুষ পানির সাথে বসবাস করছে।
গত তিন দিনের বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ও বসত বাড়ি তলিয়ে গেছে। অনেকের বসত ঘরে ৩/৪ ফুট পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি থেকে বাচঁতে অনেকে বাড়ির ছাদে, বেরি বাধে আবার কেউ ঘরে মাচাঁ দিয়ে জীবন যাপন করছে। এসময় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ক্যামিকেল ও দূর্গন্ধযুক্ত কালো পানি দূষন হয়ে রোগাক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এলাকাবাসী জানান, কয়েকটি শিল্পকারখানা এসব এলাকার জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী। এদের মধ্যে এনজেড টেক্সটাইল, পদ্মা বেøচিং এন্ড ডাইং, সেজান জুস, অলটেক্স ডাইং মিলের ক্যামিকেল যুক্ত পানি সাড়া বছর কৃষকের জমিতে পড়ে ফসলী জমি নষ্ট করছে। পুকুরের মাছ মওে গিয়ে এলাকার পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানাল দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। যে কারণে বেড়ি বাঁধের পানি অপসারণ হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গত এক যুগ ধরে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।
নাগের বাগ এলাকার শহিদ ফকির জানান, আমরা কয়েক হাজার পরিবার গত কয়েকদিন যাবৎ পানির সাথে বসবাস করছি। আমার ঘরে হাটু পানি। ঘরে আগুন জ্বলেনা। খাবার নেই। বিশুদ্ধ পানি নেই। শুকনো খাবার খেয়ে আর কতদিন বাচঁবো। অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। আমরা সরকারীভাবে কোন সাহায্যে পাইনা। এভাবে চলতে থাকলে আমরা না খেয়ে মারা যাব। একই এলাকার শামীম জানান, গত তিন দিনের বৃষ্টিতে আমাদের বাড়ি তলিয়ে গেছে। অনেকে বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু আমার তো ছাদ নেই আমি পরিবার নিয়ে কোথায় যাব। বাহির থেকে কয়দিন খাবার কিনে খাব। দ্রুত পানি অপসারণের দাবী জানান তিনি।
গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নাসির হোসেন জানান, গত তিন দিনের ভারী বর্ষণে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বাড়িতে পানি উঠে গিয়াছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যেগে পানি দ্রুত নিস্কাশনের ব্যবস্থা করেছি। গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন ভূইয়ার প্রচেষ্টায় আমাদের মাননীয় মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতিক) মহোদ্বয়ের হস্তক্ষেপে ১টি ড্রেজার, কয়েকটি সেচ পাম্প ও বেড়ি বাধের বটতলার পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি অপসারনের কাজ শুরু করেছি। বৃষ্টি না হলে দু’দিনের মধ্যে পানি সরাতে পারবো আশা করছি। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ নুসরাত জাহান বলেন, ভারী বৃষ্টিতে বেরি বাঁধের ভেতরে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সুইচ গেইট নির্মাণ করে পানি অপসারনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।


