জলাবদ্ধতা নিরসনে আসবেন প্রতিমন্ত্রী
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২১, ০৮:০৬ পিএম
# বৈঠকে শামীম ওসমানের ফোন
ডিএনডি বাধের আওতাভুক্ত হওয়া সত্বেও হাজার কোটি টাকার প্রজেক্টের আওতাভুক্ত হয়নি ফতুল্লার লালপুর, ইসদাইর, গাবতলী ও টাগারপাড় এলাকাসহ কুতুবপুরের বেশ কিছু অংশ। তাই প্রজেক্টের কাজ চলমান থাকলেও এসব এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হয়নি আজও। তা নিয়ে ভুক্তভুগি মানুষের মাঝে রয়েছে হাহাকার। সংবাদ মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন ও স্থানীয়দের বিক্ষোভের পর এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কয়েক দফায় মিটিংয়ের পর গতকাল শামীম ওসমানের অংশগ্রহণে মিটিংয়ে বসেছে জেলা প্রশাসন, ডিএনডি প্রজেক্ট কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ড এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। এদিকে, মিটিং চলাকালেই পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুককে ফোন করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। এসময় তিনি প্রতিমন্ত্রীর কাছে লালপুর ও ইসদাইর এলাকার চিত্র বর্ণনা করেন এবং আগামী রোববার প্রতিমন্ত্রীকে নারায়ণগঞ্জে আসার আহবান জানান। আহবানে সারা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক মুঠোফোনে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ডিএনডি প্রকল্পটা অনেক পুরনো প্রকল্প। এটা ১৯৬২-৬৮ সালে করা হয়েছিলো। এটা ইরিগেশন প্রজেক্ট ছিলো। সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি করা হয়।
পরবর্তীতে এখানে অপরিকল্পিত ভাবে আবাসিক এলাকা এবং শিল্প কারখানা গড়ে উঠায় পর্যায়ক্রমে এখানে জলাবদ্ধতা শুরু হয়। এরপর আমরা এখানে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিস্কাশনের জন্য ২০১৬ সালের ৯ই আগস্ট একনেকের মাধ্যমে প্রকল্প নেওয়া হয়। শুরুতে ৫১৮ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এই প্রকল্প নেয়া হলেও কাজ করতে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকাটিতে প্রায় ৯ হাজার ৮১০টি অবৈধ স্থাপনা ছিলো। একতলা ভবন ছিলো ২৫৩১টি, ১৯০০টি তিনতলা ভবন, ২৪৩টি ৪তলা ভবন, ছোট বড় মিলিয়ে ৫ হাজার দোকান এবং ৮২টি ফ্যাক্টরী ছিলো। মসজিদ ছিলো, মন্দির ছিলো, স্কুলও ছিলো।
এগুলো প্রকল্পের আওতায় ক্লিয়ার করতে গিয়ে ৫১৮ কোটি ১৯ লক্ষ টাকায় কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছিল না। এরপর ২০২০ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর প্রথম সংশোধিত বাজেটে ১২৯৯ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে। সিমরাইল, ফতুল্লা, লালপুরে আমাদের পাম্প চলছে। আমাদের প্রকল্প এড়িয়ার মধ্যে পানি নেই। পানি আছে প্রকল্প এড়িয়ার বাইরে। আমি সেনাবাহিনীকে বলেছি এটার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। আর শামীম ওসমান ভাই যেহেতু আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সেহেতু আমি আগামী রোববার আসবো। তখন যেই যেই কাজ বাকি আছে, সেগুলো দেখবো এবং সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেব। জলাবদ্ধতা দুর করতে হবে। এই জন্য নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে আমার আহবান থাকবে যে, যেসমস্ত এলাকায় খাল খনন করা হয়েছে, সেগুলোর সাথে বাসাবাড়ির সুয়ারেজ লাইন বন্ধ করতে হবে। বন্ধ না করলে একদিক দিয়ে ড্রেজিং করা হলে আবার আরেক দিক দিয়ে এগুলো ভরাট হয়ে যাবে ময়লা আবর্জনা আসবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিএনডি প্রজেক্টের মানুষের কথা ভেবেই কিন্তু ডিএনডি প্রজেক্টের জন্য এতো টাকা বরাদ্ধ দিয়েছেন। প্রথমে ৫১৮ কোটি টাকা থেকে সেটা বাড়িয়ে ১২৯৯ কোটি টাকা করেছেন। তাই আমি মনে করি, ডিএনডিবাসি যাতে আরামে বসবাস করতে পারে, সেই লক্ষেই তিনি প্রকল্পটা অনুমোদন দিয়েছেন। তাই যেই সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, আগামী রোববার সরেজমিনে এসে এই বিষয়ে সেনাবাহিনীর সাথে আলোচনা করে সেই সমস্যা দুর করতে আমি সক্ষম হবো বলে আশা করছি। সভায় জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, ডিএনডি প্রজেক্ট সহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা।


