স্বামী ও সন্তানকে বাঁচাতে রোজিনার আকুতি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২১, ১০:৪৩ পিএম
আহনাফ রিয়ান এর বয়স চার বছর।জন্মের পর মাত্র দেড় বছর বয়সে তার হার্টের ছিদ্র ধরা পড়ে।টানা আড়াই বছর ওষুধ খেলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। এখন অপারেশন করার উপক্রম হয়েছে। এদিকে তার বাবা মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের দেড় মাস আগে পায়ুপথে টিউমার হওয়ার পর ক্যান্সার ধরা পড়েছে। এছাড়াও করোনায় চাকরি হারিয়েছেন তিনি।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আলাউদ্দিনের চাকরি না থাকায় চিকিৎসা ও সংসার চালানোর জন্য অর্থের জোগান কিভাবে করবেন, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই তার স্ত্রী রোজিনা আক্তারের। সিদ্ধিরগঞ্জের হাউজিং এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ৬ বছর ধরে বসবাস করেন এ দম্পতি।তাদের দুজনের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ইসলামাবাদে। আহনাফ রিয়ান ছাড়াও আরমান ইসলাম নামে দুই বছরের একটি সন্তান আছে তাদের। মোহাম্মদ আলাউদ্দিন একটি টায়ার কোম্পানিতে চাকরি করতেন। করোনার প্রভাবে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজের চাপ কম থাকায় গত ৬ মাস আগে চাকরি চলে যায় আলাউদ্দিনের।
সংসারের হাল ধরতে দু মাস আগে একটি ডিটারজেন্ট পাউডার কোম্পানিতে চাকরি নেন তার স্ত্রী রোজিনা। কিন্তু ছোট্ট দুই সন্তানকে সময় দিতে গিয়ে চাকরিটা করতে পারেননি তিনি। ফলশ্রæতিতে অভাব তাদেরকে পেয়ে বসে।আর করোনাকালে আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকেও তেমন কোন সহায়তা পাচ্ছেন না তারা। ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের অধ্যাপক ডাক্তার নুরুন্নাহার ফাতেমা আগামী এক মাসের মধ্যে রিয়ানের হার্টের ছিদ্র অপারেশনের পরামর্শ দেন।অপারেশনসহ চিকিৎসা বাবদ খরচ হবে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। রোজিনার স্বামীর ক্যান্সার ধরা পড়ায় ক্যামোথেরাপি ও রেডিও থেরাপি দিতে হচ্ছে। কিন্তু টাকার অভাবে অপারেশন তো দূরের কথা পরীক্ষা নিরীক্ষাই করতে পারছেন না।
মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান,একদিনে ক্যামোথেরাপির জন্য ১৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং রেডিওথেরাপির জন্য প্রয়োজন ৩ হাজার টাকা। মোট ৫ বার ক্যামোথেরাপি ও ২৫ বার রেডিওথেরাপি দিতে হবে। তারপর অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু আলাউদ্দিন ও তার সন্তান রিয়ানের চিকিৎসার জন্য পরিবারের সেই টাকা জোগাড় করার মতো অবস্থা নেই।কোন উপায় না থাকায় স্বামী ও সন্তানকে বাঁচাতে বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন রোজিনা আক্তার। রোজিনা জানান,আমাদের ৬ মাসের বাসা ভাড়া জমে গেছে। এমনও দিন গেছে ভাত রান্না করার জন্য চাল ছিলো না। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খাবার এনে সন্তানদের দিয়েছি।
এলাকার একটি সংগঠনের (সিদ্ধিরগঞ্জ মানবকল্যাণ সংস্থা) ভাইয়েরা জানতে পেরে আমাদেরকে কিছু টাকা দিয়ে সহায়তা করছেন।ওই টাকা দিয়ে আমার স্বামী ও সন্তানের চিকিৎসা চলছে।কিন্তু আমার ছেলের অপারেশনের জন্য করার জন্য ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার প্রয়োজন। আর টাকার অভাবে স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমি এতো টাকা কই পাবো? আকুতি জানিয়ে রোজিনা বলেন, স্বামী আর সন্তানের কিছু হয়ে গেলে আমার পথে নামতে হবে। আমি আমার স্বামী ও সন্তানের জন্য সকলের কাছে সহায়তা চাই। আপনারা কিছু একটা করেন। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রসাশক মোস্তাইন বিল্লাহ এই প্রতিবেদককে বলেন, তাদেরকে কাগজপত্রসহ(মেডিকেল সার্টিফিকেট) আসতে বলুন। আমরা যতোটুকু সম্ভব সহযোগিতা করবো। কোন হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৭০০৮২৭৯৯৫ এ নাম্বারে যোগাযোগ করা যাবে।


