# অদৃশ্য কারণে অনেকেই পর্দার আড়ালে চলে গেছেন
# নেতারা সরকারী ত্রাণের দিকে তাকিয়ে আছে
# নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৃণমূলে
ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের নয়া কমিটির নেতাদের মধ্যে সম্বন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের পর থেকেই সংগঠনটির তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বিভিন্ন সামজিক কর্মকান্ডেও অনেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। কমিটি গঠন হওয়ার আগে অনেকের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ থাকলেও এখন অদৃশ্য কারণে অনেকেই পর্দার আড়ালে চলে গেছেন।
সাংসদ শামীম ওসমানের কাছে শুধুমাত্র সভাপতি সাইফ উল্লাহ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলীর প্রাধান্যই বেশি। কমিটির বাকি সদস্যরা শুধু নাম মাত্র কমিটিতে রয়েছেন, সঙ্গত এসব প্রশ্নকে সামনে রেখে অনেক নেতাকর্মী মুখ বুঝে আছেন। অপরদিকে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গদল নেতৃবৃন্দও করোনাকালীন সময় তথা শাট ডাউনের আগে থেকেই নিস্ক্রিয় রয়েছেন বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের করোনাকালীন সময়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে, বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিলেও ফতুল্লায় দলীয় নেতাকর্মীদের কাউকে তেমনভাবে মাঠে নামতে দেখা যায়নি। নেতারা সরকারী ত্রাণের দিকে তাকিয়ে আছে। সরকারের দেয়া ত্রাণ নিয়ে মানুষের পাশে নিয়ে গিয়ে নিজে জাহির করার জন্য ইতিমধ্যে অনেকে প্রস্তুতও হয়ে আছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মধ্যে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের উল্লেখ্যযোগ্য একটি অবস্থান রয়েছে। ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগকে ৮০ দশক থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বলিষ্ট নেতৃত্ব দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে এসেছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আব্দুল লতিফ, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ, নুর উদ্দিন মেম্বার, শহিদুল্লাহ প্রমুখ। ২০০১ সালে সাংসদ শামীম ওসমান তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের আমলে দেশের বাইরে অবস্থান করেন। ২০০৩ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে এম সাইফ উল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এম শওকত আলী নির্বাচিত হন। এরপর থেকে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগে ভিন্ন রাজনীতি শুরু হয় বলে মনে করেন অনেকে। শুধু মাত্র সাংসদ শামীম ওসমানের সান্নিধ্যে ছিলেন সাইফ উল্লাহ বাদল ও শওকত আলী।
অভিযোগ রয়েছে,এই দুই জনের কারনে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাবেক কমিটির অনেক নেতাকর্মীসহ তৃণমূলের অনেকে শামীম ওসমানের বিরাগ ভাজন হয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমান কমিটি থেকে পূর্বের কমিটির অনেক নেতাকর্মী বাদ পড়েছেন। নতুন অনেক মুখ যোগ হয়েছে নয়া কমিটিতে। বর্তমান করোনাকালীন সময়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের কমিটির মধ্যে অনেক সামর্থ্যবান ব্যাক্তি থাকলেও তেমন কেউ অসহায়দের পাশে দাঁড়াননি। এ নিয়েও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন।
সূত্রের দাবী, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ বলতে সাংসদ শামীম ওসমান শুধু মাত্র সাইফ উল্লাহ বাদল ও শওকত আলীকেই বুঝেন। পূর্বের কমিটির অনেককেই তিনি এই দুইজন বাদে বাকি কাউকে তেমন মূল্যায়ন করেননি। সাংসদ শামীম ওসমান বিভিন্ন সভা সমাবেশে থানা আওয়ামীলীগ নেতাদের নাম মুখে বল্লেও কাজের বেলায় ঐ দুজনই। বাকিরা ন্যায্য কোনো দাবী করলেও সাংসদ তেমন পাত্তা দিতেন না। ফতুল্লায় বাদল-শওকত যা করেন তা অঘোষিতভাবে সাংসদ শামীম ওসমানের নির্দেশই। এসমস্ত কারনে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের পূর্বের অনেক নেতার মনে ক্ষোভ জন্মে ছিল। তবে তাদের ক্ষোভ শামীম ওসমান বুঝেও না বুঝার ভান করেছেন বিভিন্ন সময়ে। বর্তমান কমিটির অনেকে পূর্বের কমিটির অনেকের সাথে আলোচনা করে নীরব ভুমিকা পালন করছে বলেও সূত্রের দাবী।
আরেকটি সূত্রের দাবী, করোনাকালীন সময়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের দিক নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে ছিল অনেকে। কিন্তু সভাপতি সাইফ উল্লাহ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে কাউকে কোনো রকম নির্দেশনা দেননি। আবার অনেক নেতা মনে করেন ফতুল্লার এমন কোনো বিষয় নেই যা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নলেজে নেই। কোনো কিছু হলেই সভাপতি সাধারন সম্পাদককে সাংসদ তলব করেন। বাকি গুরুত্বপূর্ণ পদের কাউকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তেমন মূল্যায়ন করেন না। ফলে করোনাকালীন সময়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের অনেক নেতা নীরব ভুমিকা পালন করছেন।
ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফ উল্লাহ বাদলের পক্ষে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নেতা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ চেউন অব কমান্ডে চলে। তেমনি ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগও। সাংসদ শামীম ওসমান যেভাবে নির্দেশ দেবেন দলের নেতাকর্মীরা সেভাবে কাজ করবেন। সাংসদ দেশের বাইরে থাকায় দিক নির্দেশনা তেনভাবে কেউ পাননি। তিনি যখনই নির্দেশ দেবেন তখনই মাঠে অসহায়দের পাশে দাঁড়াবে সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ।


