রূপগঞ্জে এখনো উত্তপ্ত চনপাড়া বস্তি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২১, ০৯:২৫ পিএম
রূপগঞ্জে চনপাড়া বস্তিতে গত ৪ দিনের টানা সংষর্ষে অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। আজও মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে দুইপক্ষ। যে কোন সময় আবারো বড় ধরনের সংঘাতের আশংকা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে সংঘর্ষ আর লুটপাটের ভয়ে বস্তি ছাড়ছেন অনেক পরিবার। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মূল হোতা বজলুকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
তবে গতকাল বজলুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বেশ কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছেন তারা। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ বাদি হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া ভয়াবহ এই সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বজলু বাহিনীর ১০ ক্যাডারকে আটক করেছে পুলিশ। নতুন করে সংঘর্ষের আশংকায় সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ সংখ্যক পুলিশ। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকায় অবৈধ কর্মকান্ড ও মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার করতে বজলু বাহিনীর প্রধান বজলু ও তার সহযোগী সন্ত্রাসী জয়নাল, সমসের, স্বপন, শাওন, নাজমা, বজলুর ভাই বোতল মিজু ও শ্যালক জাকিরসহ সন্ত্রাসীদের একটি বড়দল চনপাড়া এলাকাকে অপরাধের স্বর্গরাজ্য হিসেবে গড়ে তোলে।
এদিকে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী শাহিন ও রাজা তাদের এলাকায় মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা করতে বাধা দেয়। এছাড়া বজলুর, পানির ব্যবসা, প্লট ব্যবসা, সুদের ব্যবসা, সাপের বিষের ব্যবসা ও চাদাবাজির বিরুদ্ধেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাজা শাহিন। চনপাড়া এলাকায় নৌকা বন্ধ করে দিয়ে বজলু সেখানে ইঞ্চিনের ট্রলার বসানোয় বিক্ষুব্ধ কয়েক‘শ নৌকা মাঝিসহ বজলুর হাতে নির্যাতিত সাধারণ হাজার হাজার মানুষ যোগ দেয় শাহিন, রাজার সাথে। এ অবস্থায় এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে গত ৪ জুলাই রাতে দুইগ্রুপের মাঝে চলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
ঐসময় রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত)সহ ৭ পুলিশ সদস্য ছাড়াও বস্তির আরো ২৮ জন আহত হয়। এদিকে গত সোমবার এবং মঙ্গলবার পৃথক সংঘর্ষে আহত হয়েছে আরো ৫০ ব্যক্তি। বুধবার দিনভর থেমে থেমে চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও বিক্ষিপ্ত সংঘাত। এসব সংঘর্ষে কয়েক হাজার বোমার বিস্ফোরনসহ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে শত শত রাউন্ড গুলি করা হয়। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত আহত হয়েছে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি। এসব ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মারুফ ও পরেশ বাগচি বাদি হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছেন।
গত মঙ্গলবার রাতে বজলুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি রিভলবারসহ প্রচুর পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এসময় কৌশলে গাঢাকা দেয় বজলু ও তার সহযোগীরা। পুলিশ এ পর্যন্ত টানা সংঘর্ষের ঘটনায় সে এলাকা থেকে ১০ জনকে আটক করেছেন। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ (গ) অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন বলেন, রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের অন্তগত চনপাড়া একটি বস্তি এলাকা। সেখানে ছোট্ট একটু জায়গায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। সেখানে স্বল্পসংখ্যক পুলিশ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পরে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি বর্তমানে আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রেখেছি। অপরাধী যতো শক্তিশালী হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। বজলুসহ অন্যান্যদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশী অব্যাহত রেখেছি।


