Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

রুবেল হত্যা : অধরা শামীম-মানিক

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২১, ১০:০৩ পিএম

রুবেল হত্যা : অধরা শামীম-মানিক
Swapno

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় মাদকের মাসোহারাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে রাজমিস্ত্রী রুবেল হত্যাকান্ডের ঘটনায় মূল হোতা শামীম ও মানিক এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। যদিও ওই মামলায় এখনো পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। তবে, হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যতম আসামী শামীম ও মানিক এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে নানামুখি আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

 

পুলিশ বলছে, হত্যাকান্ডের পরপরই গা ঢাকা দিয়েছে মাদক ব্যবসায়ী শামীম ও মানিক। তবে, তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম। জানা গেছে, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শামীম ও কেতরা মানিক ইসদাইর এলাকার এক জাতীয় পার্টির নেতার সেল্টারে এলাকায় মাথাচারা দিয়ে উঠে। জাতীয় পার্টির ওই নেতা আদোতে কোন পদপদবিতে না থাকলেও তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী একটি পরিবারের জাতীয় পার্টির প্রয়াত এক সাংসদ পুত্রের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে নিজেকে জাহির করে আসছেন।

 

মূলত প্রয়াত ওই সাংসদ পুত্রের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েই তিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল ইসদাইর ও চাষাঢ়া রেলস্টেশন এলাকায়। মাদক ব্যবসায়ী রুবেল ও কেতরা মানিক ইসদাইরের ওই নেতার আশ্রয়েই মাদকসহ কিশোরগ্যাং লালন করে আসছিলো। তাদের গ্রæপে রয়েছে ধারালো অস্ত্রের মজুদ।
জানা গেছে, রুবেল হত্যা মামলায় এখনো পর্যন্ত কয়েক দফায় মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এর মধ্যে ৯ জন এজাহারভুক্ত এবং বাকি পাঁচ জন এজাহারে উল্লেখিত অজ্ঞাতনামা আসামী ছিলো।

 

এই ছয় জন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিলো বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ইসদাইরের সম্রাট, সেলিম, আলী, রাকিব ওরফে টাইগার, শিমুল, বিজয়, শরীফ, জুয়েল, সাগর, মোঃ শাকিল, মাঈনুল ওরফে আলাউদ্দিন ওরফে ভুতু। এদের মধ্যে শরীফ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গত সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। জানা গেছে, গত ২৮ জুন রাতে ইসদাইর রেললাইন ও চাষাঢ়া রেলস্টেশনে মাদকের স্পট থেকে মাসোহারা আদায় করাকে কেন্দ্র করে মাদককারবারী শামীম, রকি ও মানিক গ্রুপের সাথে ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকার জামান, সোহাগ ও শিমুল গ্রুপের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের মধ্যে পরে শামীম গ্রুপের হাতে নির্মম ভাবে খুন হয় রুবেল নামে এক রাজমিস্ত্রি। একই ঘটনায় মাদকের মাসোহারা দাবি করা সোহাগও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।

 

পরবর্তীতে জামান, সোহাগ ও শিমুল গ্রুপের লোকজন পাল্টা হামলা চালায়। এসময় ইসদাইর বাজারে অবস্থিত অখ্যাত ‘জয়যাত্রা ক্লাব’ ও কয়েকটি দোকান ভাংচুর করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। জানা গেছে, ওই সংঘর্ষে রাজমিস্ত্রী রুবেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েকৃত মামলায় উভয় পক্ষের ৩৩ জনের নাম উল্লেখ ও ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে, গ্রেফতারদের মধ্যে ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকার ফারুক হোসেন শিমুল ফতুল্লা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং এক আওয়ামী লীগ নেতার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে এলাকায় পরিচিত। চাষাঢ়া রেলস্টেশন ও ইসদাইর রেললাইন এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা শিমুল ও তার সহযোগিরা মাসোহারা আদায় করতো বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 


স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, কিশোরগ্যাংয়ের আধিপত্ত বিস্তার ও বিভিন্ন সেক্টর দখলের লক্ষ্যে এমন একাধিক গ্রæপ সক্রিয় রয়েছে ইসদাইরে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা শিমুল, তার সহযোগি জামান, সোহাগ এবং মাদক ব্যবসায়ী শামীম ও মানিক গ্রæপ ছাড়াও রয়েছে কাপুরাপট্টি এলাকার মাদক ব্যবসায়ী পেটকাটা রকি, ইসদাইর এলাকার পায়েল, কমল, মানিক, হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী কিশোরগ্যাং লিডার ইভন, হাসান, উজ্জল, খান বাবু, অনন্ত ও মুরগি মামুন।

 


তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে থানায় মামলা ও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপেই রয়েছে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ। পান থেকে চুন খসলেই আধিপত্ত বিস্তারের লক্ষ্যে ইসদাইরে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মহড়া চালায় এসব সন্ত্রাসীরা। জড়িয়ে পড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। ভয়ানক হয়ে উঠা এসব অপরাধীদের উৎপাতে ভীত হয়ে পড়েছেন ইসদাইর এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা। 

 


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন এজাহারনামীয় আসামী আর বাকি পাঁচজন এজাহারে উল্লেখিত অজ্ঞাতনামা আসামী। তারা ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো বলে তথ্য প্রমান পাওয়া গেছে। আর এজাহারনামীয় আসামীদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। আর মাদক বিক্রেতা শামীম ও কেতরা মানিক এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যারাই এই ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত আছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। আর নির্দোষ কোন ব্যক্তি যাতে কোন ভাবে সাফারার না হয়, সেই দিকে সতর্ক থেকে আমরা গভীর ভাবে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’  


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন