শম্ভুপুরা ইউ: তথ্যসেবা কেন্দ্রের নামে চলছে হয়রানী ও অর্থবাণিজ্য
আশরাফুল আলম
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২১, ০৮:৫৫ পিএম
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ইউএনডিপির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর দেশের প্রতিটি জেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্যসেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় “ তথ্যই শক্তি স্লোগান দিয়ে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে তথ্যসেবা কার্যক্রম চালু করা হয়।
এর পর ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় যথাযথ ভাবে কাজে আসছেনা শম্ভুপুরা ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র। শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বাসীর অভিযোগ, জরুরি তথ্য সেবার নামে হয়রানী ও ভোগান্তির পাশাপাশি অর্থ বানিজ্যের কেন্দ্রস্থল শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ। জন্মসনদ, নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদপত্র নিতে গুনতে হয় নগদ টাকা। উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের কোথাও কোন টাকা পয়সা দিতে হয়না নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদপত্র নিতে একমাত্র শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া। কিন্তু শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদে একটি নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদপত্র নিতে নগদ ৫০ টাকা দিতে হয়।
তাছাড়া প্রয়োজনবোধে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের যদি কোন নাগরিক জন্মসনদ সংশোধন করার জন্য তথ্যসেবা কেন্দ্র যায় তাহলে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার মাশুল গুনতে হয় সেবা গ্রহিতাকে। শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব দেওয়ান মহিউদ্দিন কর্তন/বিয়োজন/সংশোধন নানা অজুহাতে এই টাকা আদায় করেন। তাছাড়া সম্পূর্ণ একটি পরিবার কেন্দ্রীক পরিচালনা করা হচ্ছে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ। শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদিন দাপ্তরিক কাজ করেন তার নিকট আত্মীয় ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য। যার ফলে প্রতিদিন নানা বিরম্ভনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন শম্ভুপুরা ইউনিয়নবাসী। অনেকের অভিযোগ দেওয়ান মহিউদ্দিন মানসিক বিকারগ্রস্থ্য একজন মানুষ। সাধারন মানুষের সাথে হরহামাশেই খারাপ আচরন করেন। পয়সা ছাড়া কোন কাজই হয় না তার দপ্তরে।
অপরদিকে, উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্রের যে কয়েকটি কেন্দ্রে (ইউ আই এসসি) চালু রয়েছে সে কেন্দ্র গুলোও দু-চারটি সেবার মধ্যে আটকা পড়ে আছে। কম্পিউটার ব্যবহারে অদক্ষতা, সচেতনতা, প্রচারনার অভাবে তথ্য সেবা কেন্দ্রগুলো তেমন কাজে আসছেনা সাধারন মানুষের। অভিযোগ রয়েছে, সরকার কর্তৃক সরবরাহ করা সরঞ্জাম তথ্যসেবা কেন্দ্রে যথাযথ ব্যবহারের অভাবে বিকল হয়ে পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ইউএনডিপির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক পর্যায় থেকে শুরু করে গ্রামের সাধারন মানুষ যাতে কম খরচে, কম সময়ে দেশ বিদেশে টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট সুবিধা, কম্পিউটার কম্পোজ ও প্রিন্ট, ছবি তোলা ও স্ক্যানিং, কৃষি, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা,অনলাইনে চাকুরীর তথ্য ও আবেদন, বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইনে জমির পর্চার আবেদন, সরকারি ফরম পূরন, জীবন বীমা সুবিধা, মোবাইল ব্যাংকিং, আইন ও মানবাধিকারসহ যেকোন সেবা সহজে পেতে পারে সে লক্ষে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে এসব কেন্দ্রে অল্প খরচে ইন্টারনেট সুবিধা, কম্পিউটার কম্পোজ, ফটোস্ট্যাট, ছবি তোলা ও স্ক্যানিংয়ের সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও অল্প খরচের পরিবর্তে সেবা কর্তৃপক্ষের মনগড়া মত টাকা নেওয়া হচ্ছে। তথ্য সেবা কেন্দ্রের সেবার মূল্য নির্ধারন ও মনিটরিংয়ের জন্য কমিটি থাকলেও তা নামের মাঝেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। আজও সেবার মূল্য তালিকা দেওয়া হয়নি কোন সেবা কেন্দ্রে। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে তথ্য সেবা কেন্দ্রের জন্য নিজস্ব কোন ভবন না থাকায় পরিষদের ছোট্ট একটি অফিস কক্ষে তথ্য সেবা কেন্দ্রটি চালাতা হচ্ছে।
এ সেবা কেন্দ্রে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তা জানান, এ তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে কম্পিউটার কম্পোজ এবং অনলাইনে কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু কালার প্রিন্টার নষ্ট হওয়ার কারনে ডিজিটাল ক্যামেরাটি অলস পড়ে আছে। নেই ফটোস্ট্যাট মেশিন। শুরু থেকে তথ্য সেবা কেন্দ্রগুলো অনেকটা সচল থাকলেও সম্প্রতি সেবা বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি। সে জন্য অনেকেই ইউনিয়ন পরিষদে এসে সেবার নামে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তাছাড়া তথ্য সেবা কেন্দ্র গুলিতে বিদ্যুৎ এর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি আরো বেড়েছে। তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এসব তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে সঠিক কোন সেবা পাচ্ছেনা গ্রামের সাধারন মানুষ।


