Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

সাত থানার মাঝে সবচেয়ে পিছিয়ে ফতুল্লা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২১, ০৯:০৫ পিএম

সাত থানার মাঝে সবচেয়ে পিছিয়ে ফতুল্লা
Swapno

নারায়ণগঞ্জের সাতটি থানা এলাকার মাঝে উন্নয়নে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে ফতুল্লা থানা এলাকা। ফতুল্লায় কোনো উন্নয়নই হচ্ছে না। উল্টো গত কয়েক বছর ধরে এমন জলাবদ্ধতা হচ্ছে যে এই অঞ্চলের অনেক এলাকায় এখন মানুষ বাস করতে পারছেন না। অনেক এলাকায় মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে তাদের বাড়িঘর।

 

এমন কি খোদ ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হয়ে এলাকা নিজের বহুতল ভবন ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে ভাড়ায় উঠেছেন বক্তাবলীর চেয়ারম্যান শওকত আলী। তার নিজের বাড়ি ফতুল্লার লালপুর এলাকায়। আর অত্র এলাকা এখন কোমর সমান পানির নিচে ডুবে আছে। রাস্তার উপর দিয়ে চলছে নৌকা। এছাড়া ফতুল্লার রাস্তাগুলিও পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে না। রাস্তার পাশে নেই কোনো পরিকল্পিত ড্রেন। এছাড়া ফতুল্লায় এতো খালবিল আর জলাশয় রয়েছে কিন্তু মেয়র আইভীর মতো এসব খালবিলের কোনো উন্নয়ন শামীম ওসমান করছেন না। বা এসব উন্নয়ন নিয়ে তার কোনো পরিকল্পনাই নেই। নেই কোনো একটি ভালো হাসপাতাল বা ক্লিনিক।

 

বক্তাবলী খেয়াঘাট দিয়ে একটি ব্রিজ করার কথা। কয়েক বছর আগে এমপি ঘটা করে ব্রিজের সয়েল টেস্টও করলেন। কিন্তু ব্রিজ আর হলো না। মূলত এভাবে সব দিক থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে ফতুল্লা। তাই ফতুল্লাবাসী মনে করেন তিন বারের এমপি শামীম ওসমানের কোনো আন্তরিকতাই নেই। তাই ওই এলাকায় কোনো উন্নয়নও হচ্ছে না। ফলে এখন বঞ্চিত ফতুল্লাবাসী এসব ইস্যুতে স্বোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

 


এদিকে এবিষয়ে প্রায় প্রতি দিনই প্রতিবাদের স্বোচ্চার থাকছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক শহীদ উল্লাহ। তিনি প্রায় ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে ফতুল্লার জনগণের পক্ষে কথা বলছেন। এমন কি শামীম ওসমান যখন প্রথম এমপি হন তখন এই শহীদ উল্লাহ তার নমিনেশনের জন্য নেত্রীর পায়ে ধরেছিলেন। কিন্তু সেই শহীদ উল্লাহকে বহু বছর ধরে পাত্তা দেন না শামীম ওসমান। কারণ তিনি সন্ত্রাস আর দূর্ণীতির বিরুদ্ধে স্বোচ্চার থাকেন। তিনি প্রকৃত উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেন। আর এসব কারনেই তাকে বাদ দিয়ে যারা শামীম ওসমানকে জি হুজুর বলে পথ চলেন তাদেরকে এনে পদায়ন করেছেন শামীম ওসমান।

 

ফলে এস বিষয় নিয়ে শহীদ উল্লাহ এখন প্রায় প্রতি দিনই ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জানতে চাইছেন কোনো ফতুল্লাকে এভাবে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে। শামীম ওসমান কোনো ফতুল্লার কোনো উন্নয়ন করছেন না। মানুষ কেনো এভাবে পানিতে ভাসবে। এমন হাজারো প্রশ্ন তুলে তিনি লিখে যাচ্ছেন প্রতি দিন। তিনি আরো লিখছেন আইভী পারলে শামীম কেনো পারেন না। আসলে শামীম পারতে চান না। শামীমের নেশা নিজের উন্নয়ন আর তার নিজের লোক বলে যারা পরিচিত তাদের ব্যাক্তিগত উন্নয়ন। জনগনের উন্নয়নের আগ্রহ শামীম ওসমানের নেই। কিন্তু শহীদ উল্লাহর এই প্রতিবাদকে মোটেও পাত্তা দেন নাই শামীম ওসমান। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। দিনে দিনে ফতুল্লা বসবাসের অযোগ্য হয়েছে। তাই এখন বলা হচ্ছে শামীম ওসমান আসলে ফতুল্লার সন্তান নন। তাই ফতুল্লার উন্নয়নে তার কোনো আগ্রহও নেই বলে শহীদ উল্লাও মনে করেন। আর শামীম ওসমানের এই ব্যর্থতার জন্য তিনি নিজেকেই দায়ী করেন।

 


এদিকে ফতুল্লার অপর নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ মনে করেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বিগত পঞ্চাশ বছরে ফতুল্লার মানুষ কোনো এমপি পান নাই। তখন থেকে এই আসনে যারাই এমপি মন্ত্রী হয়েছেন তারা সকলেই বহিরাগত। সেই আফজাল আর ছাত্তার থেকে শুরু করে বর্তমান শামীম ওসমান পর্যন্ত কেউই ফতুল্লার সন্তান নন। তারা কেউই ফতুল্লায় বাস করেননি। তাই ফতুল্লাবাসীর জন্য তাদের তেমন কোনো দরদও ছিলো না এবং নেই। গতকাল দৈনিক যুগের চিন্তাকে এসব কথা বলেন ফতুল্লার সন্তান ও বাংলাদেশ শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহম্মেদ পলাশ।

 

তিনি আরো বলেন বর্ষা শুরু হওয়ার আগে থেকেই সেই বৈশাখ মাস থেকে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা ডুবে আছে। কিন্তু স্থানীয় এমপি এখন পর্যন্ত কার্যকর তেমন কিছু করেন নাই। তিনি বসে আছেন সরকারে আশায়। তিনি যদি আন্তরিক হতেন তাহলে আরো অনেক আগেই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানি নিস্কাশনের ক্যানেলগুলি পরিস্কার করে দিতে পারতেন। পারতেন কিছু অস্থায়ী পাম্প বসাতে। কিন্তু তিনি তা করেননি। এখন বলছেন আগামী বর্ষায় যাতে পানি না জমে সেই ব্যাবস্থা করবেন তিনি।

 

অথচ এখনো আষাঢ় মাস শেষ হয়নি। সামনে শ্রাবণ মাস। আরো অন্তত দুই মাস ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এখনই পানি নামার নালাগুলি পরিস্কার করে দিতে হবে। প্রয়োজনে বেশ কিছু অস্থায়ী পাম্প বসাতে হবে। তিনি আরো বলেন, আপনারা এসে দেখুন আমি আমার ব্যক্তিগত উদ্যেগে আলীগঞ্জের আশপাশের পানি নামাতে দুটি পাম্প সারা বছর চালিয়ে রাখছি। এমপি যদি আন্তরিক হতেন তাহলে এই ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা তার জন্য তেমন কোনো বিষয় ছিলো না।

 

এ বিষয়ে কাউসার আহম্মেদ পলাশ আরো বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে স্বধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা ফতুল্লার মাটির সন্তান এমন কোনো এমপি পাইনি। কেউই ফতুল্লায় বাস করেনি। তাই ফতুল্লার মানুষের কষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করে না। তার নিজের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমি সব সময় মানুষের পাশেই রয়েছি। কিন্তু আমারতো কোনো প্রশাসনিক পাওয়ার নেই। আর প্রশাসনিক পাওয়ার না থাকলে কতোটুকুই বা করা যায়।

 

তবে আমি আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের সুখে দু:খে তাদের পাশেই থাকবো ইনশাল্লাহ। আর কোনো দিন যদি প্রশাসনিক ভাবে কিছু করার সুযোগ পাই তাহলে অন্তত ফতুল্লাবাসীর জন্য স্থায়ীভাবে কিছু করে যাবার চেষ্ঠা করবো। আর এখনো আমি চুপ করে বসে থাকবো না। অবিলম্বে জলাবদ্ধতার এই দুর্ভোগ লাগব করা না হলে প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো। 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন