ভূলতা ফ্লাইওভারে অপরাধ বাড়ছে, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২১, ০৯:৪৬ পিএম
৩৫৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভূলতা ফ্লাইওভার এখন অরক্ষিত। মানুষ হত্যা করে ফেলে রাখাসহ ছিনতাইও বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ গত ৯ জুলাই চারিতালুক এলাকার অটো ড্রাইভার মোস্তফার মৃতদেহ হাত বাধা অবস্থায় ভূলতা ফ্লাইওভারে ফেলে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। পুলিশের ধারণা, ড্রাইভারকে হত্যা করে তার গাড়ী ছিনিয়ে নিয়ে যায় হত্যাকারীরা । এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। অরক্ষিত ভূলতা ফ্লাইওভারে বিভিন্ন অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলেছে। ফ্লাইওভারে পুলিশের টহল বৃদ্ধি ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবী উঠেছে সর্বমহল থেকে।
জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র ভূলতা গাউছিয়ার যানজট নিরসনে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ লেন বিশিষ্ট ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপর নির্মিত হয়েছে ভূলতা ফ্লাইওভার। তবে যানজট নিরসনের জন্য ফ্লাইওভার নির্মিত হলেও অধিকাংশ গাড়ী নিচ দিয়ে চলাচল করে। দুরপাল্লার বাসও যাত্রী উঠানামার জন্য মহা সড়ক ব্যবহার করে। ভূলতা ফ্লাইওভারে হাতে গোনা কয়েকটি প্রাইভেট কার ও কভারভ্যান চলাচল করে। এদিকে পুলিশের টহলও তেমন জোরদার না হওয়ায় প্রতিনিয়তই বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে কোন গাড়ী চলাচল না করায় অপরাধীদের অভয়ারন্যে পরিণত হয় ভূলতা ফ্লাইওভার।
গত দু’মাস আগে রূপগঞ্জ উপজেলার ডহরগাওস্থ ফেবকন ফ্যাক্টুরীর ম্যানেজারকে গাড়ীসহ ফ্লাইওভারের উপরে নিয়ে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক থেকে তোলা ৪২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীর দল। গত ৯ জুলাই ভোরে অটো ড্রাইভার মোস্তফার হাত বাধা লাশ ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও ছিনতাই ও যৌন হয়রানীসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড ঘটছে। পুলিশের টহল বৃদ্ধিসহ সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবী উঠেছে সর্বমহল থেকে। এলাকাবাসী জানান, ভূলতা ফ্লাইওভারে কয়েকদিন আগে দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ ছিল না। সন্ধ্যার পরপরই নেমে আসত ঘোর অন্ধকার।
এদিকে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। দিনের বেলায়ও এখানে অনেক ছিনতাই হয়। অনেক উচুঁ হওয়াতে উপরে কি হয় কিছুই দেখা যায়না। পুলিশের গাড়ীও তেমন দেখা যায়না। প্রথমে অনেক উৎসুক মানুষ ফ্লাইওভারে ঘুরাঘুরি করত। এখন ছিনতাই হয় বলে মানুষ ফ্লাইওভারে ওঠেনা। চারিতালুক এলাকার ডাক্তার কবির প্রধান বলেন, আমার ব্যবহৃত প্রাইভেট নিয়ে ভূলতা ফ্লাইওভারের উপরে উঠলে ভয় লাগে। নিরিবিলি পরিবেশ, যাত্রীবাহী গাড়ী তেমন দেখা যায়না। কিছুক্ষন পরপর হোন্ডা থামানো যুবকদের দেখা যায়।
তিনি বলেন, এখানে দিনের বেলায়ও অপরাধ সংগঠিত হলে কেউ জানবেনা। ফ্লাইওভারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করলে অপরাধের মাত্রা কিছুটা হলেও কমবে। দ্রুত সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবী জানান ডাক্তার কবির প্রধান। ভূলতা ফাড়িঁর পুলিশ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, ভূলতা ফ্লাইওভারে গাড়ী চলাচল কম। পাঁচতলা সমান ফ্লাইওভারে অপরাধ সংগঠিত হলেও দেখা যায়না। জনবলের অভাবে পুলিশ সবসময় টহল দিতে পারেনা জানিয়ে তিনি বলেন, ভূলতা ফ্লাইওভারসহ প্রতিটি মার্কেটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন জরুরী। তাহলে অপরাধীদের আমরা সহজেই চিহ্নিত করতে পারবো।
এ ব্যপারে ভূলতা ফ্লাইওভারের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বিকাশ রায় বলেন, আমাদের ফ্লাইওভারের প্রজেক্ট শেষ। তাই আমরা এ ব্যপারে কিছু বলতে পারছিনা। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ নুসরাত জাহান বলেন, ফ্লাইওভার পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


