কুতুবপুরে অসহায় মানুষের বুকফাটা কান্না দেখার কেউ নেই
সাদ্দাম হোসেন শুভ
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২১, ০৮:৪৭ পিএম
ভীষণ কষ্টে আছি। এবারের লকডাউনে কেউ কোনো সাহায্য করেনি। খাওয়া-দাওয়া নিয়ে কত যে কষ্টে আছি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। গতকাল সোমবার সকালে দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা নন্দলালপুর এলাকার রিকশাচালক আব্বাস মিয়া। আব্বাসের মতো একই সুরে নয়ামাটির বাসিন্দা মন্টু বলেন, লকডাউনের কারণে দিনমজুর যারা তারা এখন গৃহবন্দি। সবকিছ্ইু বন্ধ।
যে কারণে কোনো আয় নেই। পাগলা এলাকার হতদরিদ্র রিয়াজ জানান, এবার লকডাউনে তেমন কোনো সহযোগিতা পাননি। এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারদের দেখাও মিলছে না পাড়া মহল্লায়। নন্দলালপুর নাক্কাটার বাড়ি এলাকার ইজিবাইক চালক বাবুল বলেন, ইজিবাইক নিয়ে রাস্তায় বের হতে দিচ্ছে না।
অনেক কষ্ট করে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকায় চলছি। আমাদের প্রতিদিন আয় প্রতিদিন ব্যয়। তা বন্ধ থাকায় খুব কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। গত বছর লকডাউনের সময় অনেকে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু এবার কেউ কোনো সাহায্য করেনি। আমাদের বসিয়ে রেখেছে কিন্তু কোনো সহযোগিতা করছে না। তিনি জানান, তার মতো আরো হাজার হাজার ইজিবাইক চালক এবারের লকডাউনে কষ্টে রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলমান কঠোর লকডাউনে কুতুবপুরের রিকশাচালক, গাড়িচালক, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, দোকানদার, ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ী এমনকী খেটে খাওয়া কর্মজীবীরা এখন ঘরবন্দি। তাদের জীবন চলছে ভীষণ কষ্টে। অনেকেই খাদ্য সঙ্কটে আছেন। দিন আনে দিন খায় এমন মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি বিপদে আছেন।
গতবছর লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করলেও এবার তাদের কেউ সহযোগিতা করছে না এমনটায় অভিযোগ উঠেছে। চলমান এই লকডাউনে শিল্পঞ্চল খ্যাত কুতুবপুরের কর্মহীন শ্রমিকের মলিন মুখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কাই বেশি। তারা অনেকেই শহর ছাড়ার চিন্তা করছেন। এ লকডাউনে তাদের জীবনে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় কষ্ট। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ এই করোনা সংকট মোকাবিলায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানান তারা। এদিকে চলমান লকডাউনে নিম্নআয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও পড়েছেন বিপাকে। করোনার মধ্যে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যখন কমেছে, সে সময় নিত্যপণ্যের বাজারে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। এতে ভোক্তাদের কষ্টও বেড়েছে। প্রতিনিয়ত চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে।
নন্দলালপুর নাক্কাটার বাড়ি এলাকার ইজিবাইক গ্যারেজ মালিক সুলতান হোসেন মোল্লা বলেন, কুতুবপুরে সরকারিভাবে কোনোপ্রকার ত্রাণ বিতরণ এখনও আমার চোখে পড়েনি। চাল-ডাল কেউ বিতরণ করেনি। আমাদের মতো কিছু মানুষ সামান্য সহযোগিতা করছে। তিনি বলেন, আমিও আমার সাধ্য অনুযায়ী এবারও অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু করবো। ইতোমধ্যে ২৫০টি পরিবারে মধ্যে বিতরণ শেষ হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে যা চলতে থাকবে। আমার সাধ্য অনুযায়ী যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ তা বিতরণ করা হবে। গত বছরের মতো এবারও সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষকে করোনা সংকট মোকাবিলায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানান সুলতান মোল্লা।


