অনিয়ম দুর্নীতির আখড়া শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ
আশরাফুল আলম
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২১, ১১:১৮ পিএম
শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকায় তার অবর্তমানে অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ। গত ১৩ ই এপ্রিল সোনারগাঁ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও শম্ভুপুরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করার পর আদালতে পাঠায় পুলিশ। সেই থেকে চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ কারাগারে রয়েছেন।
চেয়ারম্যানের অবর্তমানে শম্ভুপুরা ইউনিয়ণ পরিষদ সচিব দেওয়ান মহিউদ্দিনের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছেন ওই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। শম্ভুপুরা ইউনিয়নবাসীর অভিযোগ, তাৎক্ষণিকভাবে নাগরিক সুবিধা পাওয়ার লক্ষে জরুরি কোন কাজ নিয়ে পরিষদে গেলে সুবিধার পরিবর্তে প্রতিদিন নানাবিধ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
তাছাড়া সম্পূর্ণ একটি পরিবার কেন্দ্রীক পরিচালনা করা হচ্ছে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ। কৃষক পর্যায় থেকে শুরু করে গ্রামের সাধারন মানুষ যাতে কম খরচে, কম সময়ে, দেশ বিদেশে টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট সুবিধা, কম্পিউটার কম্পোজ ও প্রিন্ট, ছবি তোলা ও স্ক্যানিং, কৃষি, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, অনলাইনে চাকুরীর তথ্য ও আবেদন, বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইনে জমির পর্চার আবেদন, সরকারি ফরম পূরণ, জীবন বীমা সুবিধা, মোবাইল ব্যাংকিং, আইন ও মানবাধিকারসহ যেকোন সেবা সহজে পাওয়ার কথা থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ সচিব দেওয়ান মহিউদ্দিনের কারনে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেবা গ্রহিতারা।
অল্প খরচে ইন্টারনেট সুবিধা, কম্পিউটার কম্পোজ, ফটোস্ট্যাট, ছবি তোলা ও স্ক্যানিংয়ের সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও অল্প খরচের পরিবর্তে সেবা কর্তৃপক্ষের মনগড়া মত নেওয়া হচ্ছে টাকা। শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদে একটি নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদপত্র নিতে নগদ ৫০ টাকা দিতে হয়। তাছাড়া প্রয়োজনবোধে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের যদি কোন নাগরিক জন্মসনদ সংশোধন করার জন্য তথ্যসেবা কেন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদে যায় তাহলে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার মাশুল গুনতে হয় সেবা গ্রহিতাকে। শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব দেওয়ান মহিউদ্দিন তখন কর্তন বিয়োজন, সংশোধন, সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, অফিস খরচ নানা অজুহাতে এই টাকা আদায় করেন।
ভূক্তভোগী সাধারণ মানুষ জানান, সরাসরি জরুরি কোন কাজ নিয়ে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তাৎক্ষনিকভাবে সচিব দেওয়ান মহিউদ্দিনের নিকট আমরা কোন সেবা পাইনা। স্থানীয় ভাবে কিছু দালাল চক্র ও কিছু অসাধু গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে জরুরি অনেক কাগজপত্র ঠিক করতে হয়। তাছাড়া যেকোন বিষয় সচিব মহিউদ্দিন নিজেই সাধারন মানুষকে পরামর্শ দেয় পরিষদে কর্মরত তার নিজেস্ব লোকজনের সঙ্গে কথা বলে কাজ সমাধা করার জন্য। শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদে সচিব মহিউদ্দিনের পরিবারের নারী কম্পিউটার অপারেটর, গ্রাম পুলিশ সদস্য, দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজ করার জন্য ৪ জন লোক রয়েছে। যার ফলে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের সাধারন মানুষ অনেকটা তার কাছে প্রায় জিম্মি হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন শম্ভুপুরা ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সম্পূর্ণ একটি পরিবার কেন্দ্রীক পরিচালিত হচ্ছে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সচিবের কোন দায় দায়িত্ব নেই বললেই চলে। তার কক্ষে জরুরি অনেক ফাইলপত্র অগোছালো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছে। তাছাড়া আকলিমা আক্তার নামে একজন নারী গ্রাম পুলিশ সদস্য সচিবের উপর প্রাধান্য বিস্তার করছে। নারী গ্রাম পুলিশ সদস্যের হুকুমে সচিব অনেক কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। নারী গ্রাম পুলিশ সদস্য আকলিমা আক্তার তার নিকট আত্মীয় ও সচিবের জন্য ডিম পাড়া হাঁস।
তার দ্বারা সচিব দেওয়ান মহিউদ্দিনের অনেক রোজিরোজগার হয়। বাস্তব চিত্র এরকম দেওয়ান মহিউদ্দিনের গাফলতির কারনে পরিবেশগত ভারসাম্য একেবারে নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত লোকজন ও ইউপি সদস্যরা দেওয়ান মহিউদ্দিনকে অনেকটা মানসিক বিকার গ্রস্থ পাগল উম্মাদ মনে করেন। আসলে সে তার নিজ ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। হয়রানী ও ভোগান্তির শিকার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের লোকজন বলেন, তাকে অন্যত্র অপসারন করা হলে এলাকাবাসী অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা পেত।
শম্ভুপুরা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কবির জানান, সচিব দেওয়ান মহিউদ্দিনের কাজ কর্মে কিছুটা গাফলতি থাকতে পারে। আমি তাকে মানুষের প্রতি আরো আন্তরিক হওয়ার জন্য বলব।


