Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

সোনারগাঁয়ে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে শত শত ফার্মেসী

Icon

আশরাফুল আলম

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২১, ১০:০৪ পিএম

সোনারগাঁয়ে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে শত শত ফার্মেসী
Swapno

সারা দেশে ওষুধ প্রশাসনের কড়া নির্দেশনা থাকলেও ড্রাগ লাইসেন্স ও প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট ছাড়াই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় চলছে শত শত ফার্মেসি। ড্রাগ লাইসেন্স ও ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব ফার্মেসি থেকে দেদার বিক্রি হচ্ছে যে কোন প্রকারের ওষুধ।

 

এছাড়া অধিকাংশ ফার্মেসিতেই পাওয়া যাচ্ছে অবৈধভাবে বাজারজাত করা বিদেশি বিভিন্ন প্রকারের ওষুধ। যার ফলে মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। বর্তমান সরকার জনসাধারণের জন্য মানস¤পন্ন ওষুধ পাওয়ার এবং ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি করতে ইতিমধ্যেই ফার্মেসি এবং ওষুধের দোকান স্থাপন ও পরিচালনার জন্য একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছে। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী (লেভেল-১) ফার্মেসি ওষুধের দোকানে থাকবেন কমপক্ষে একজন স্নাতক ডিগ্রিধারী ফার্মাসিস্ট। তাছাড়া (লেভেল-২) ফার্মেসি ওষুধের দোকানে থাকবেন কমপক্ষে ডিপ্লোমাধারী ফার্মাসিস্ট। প্রশিক্ষণ নেই এমন কেউ ফার্মেসি বা ওষুধের দোকানে ওষুধ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবে না বলেও কঠোর নির্দেশনাও রয়েছে। 

 


বর্তমান সময়ে করোনা পরিস্থিতির কারনে মানুষের মাঝে ঠান্ডা, জ¦র, মাথা ব্যাথা, সর্দি, কাঁশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি যে কোন একটি উপসর্গ দেখা দিলেই মানুষ ভয় আতঙ্কে অতি দ্রæত স্বরনাপন্ন হয় গ্রাম্য চিকিৎসক অথবা স্থানীয় ভাবে গড়ে উঠা পাড়া মহল্লার ফার্মেসি গুলোতে। সাধারনত মানুষের মাঝে ঠান্ডা, জ্বর, মাথা ব্যাথা, সর্দি, কাঁশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ বিভিন্ন রোগের কারনে বাজারে ওষুধের ব্যাপক চাহিদাকে পুঁজি করে সাধারন মানুষকে জিম্মি করে ন্যায্য মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার অসাধু কিছু ব্যবসায়ী ও ফার্মেসি মালিকরা।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে ও তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর, মদনপুর, নয়াপুর, তালতলা, বারদী, আনন্দবাজার, বৈদ্যেরবাজার, উদ্ধবগঞ্জ, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, মেঘনাঘাট, মঙ্গলেরগাঁও বটতলা, পাঁচানী, হোসেনপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা ফার্মেসি ব্যবসায়ী ওষুধ দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে সরবরাহকৃত ওষুধের দাম ওষুধের প্রতিটি পাতায় (ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলের ক্ষেত্রে) লেখা থাকে না। দাম লেখা থাকে ৫ পাতা অথবা ১০ পাতার ওষুধের একটি বাক্সে। ঠান্ডা, জ¦র, মাথা ব্যাথা, সর্দি, কাঁশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি যে কোন রোগের জন্য সাধারণত ক্রেতাদের বাক্সভর্তি ওষুধের প্রয়োজন না থাকায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা প্যাকেটের গায়ের দাম দেখার সুযোগ পায় না।

 

তাছাড়া বাজারের অন্যান্য পণ্যের মতো ওষুধের দাম স¤পর্কে গ্রাম অঞ্চলের সাধারন মানুষের মাঝে ও রোগীদের ক্ষেত্রে তেমন কোন সুস্পষ্ট ধারণা থাকে না এমনকি ওষুধ ক্রয় করতে দামাদামির ঘটনাও খুব বেশি একটা হয় না। সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ ওষুধ ক্রয় করে জীবন বাঁচাতে এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য। তাইতো মানুষ তার জীবন বাঁচাতে এবং শারীরিক সুস্থতার প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে এভাবেই প্রতিদিন অধিক মূল্যে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সোনারগাঁয়ে কিছু অসাধু ফার্মেসি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারন মানুষকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে ওষুধের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করে সেবার নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

 

ওষুধের অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের পাশাপাশি ফার্মেসি গুলোতে নাম সর্বস্ব ডাক্তার বসিয়ে চলছে নানা অনিয়ম, দূর্ণীতি ও নিম্নমানের ভেজাল ওষুধের কারবার। স্থানীয় মঙ্গলেরগাঁও বটতলা বাজারের ব্যবসায়ী নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক একজন ফার্মেসি মালিক জানান, সোনারগাঁয়ে ফার্মেসি মালিক সমিতি সিন্ডিকেটের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কোন রোগীর জন্য ওষুধের দামে ১০ টা কমিশন দেওয়া হলে অন্য ফার্মেসি মালিক সমিতির কাছে অভিযোগ করলে এক হাজার জরিমানা দিতে হয়। 

 


সোনারগাঁ উপজেলা নাগরিক সমাজের অভিযোগ, সোনারগাঁ উপজেলা সদর হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে থেকে শুরু করে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, মেঘনাঘাট, মঙ্গলেরগাঁও বটতলা ও পাঁচানী এলাকা পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ফার্মেসি ওষুধের দোকান রয়েছে। এসব ফার্মেসি ব্যবসায়ী ওষুধের দোকান গুলোর বেশির ভাগই ড্রাগ লাইসেন্স নেই। দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক অভিযান পরিচালনা ও উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অতিরিক্ত মূল্যে নি¤œ মানের ভেজাল ওষুধ বিক্রি করছেন অসাধু এসব ফার্মেসি ব্যবসায়ীরা।

 

 
সরকারি ভাবে নতুন আইনের খসড়ায় ২০১৮ সালের ওষুধ নীতিতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করা শাস্তি যোগ্য অপরাধ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর একবার ওষুধের মূল্য হালনাগাদ করা যাবে। তাছাড়া কোনো ব্যক্তি সর্ব সাধারনের চলাচলের পথে যেমন মহাসড়ক, ফুটপাত, পার্ক ও কোনো গণপরিবহনে কোনো প্রকার ফেরি করে ওষুধ বিক্রয় করতে পারবে না। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ওষুধ ভেজাল করতে পারবে না। এছাড়া কোনো ব্যক্তি যদি এই বিধান লঙ্ঘন করে এক্ষেত্রে যাবৎজ্জীবন কারাদন্ড অথবা ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং ২০ লাখ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে বলে জানিয়ে ওষুধ আইন-২০১৮-এর খসড়া চুড়ান্ত করা হয়েছে।


এবিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার সাহা জানান, সোনারগাঁয়ে কোন ফার্মেসিতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও কেউ যদি অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন