Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

আড়াইহাজারে বিএনপির রাজনীতিতে ফের বিতর্কিতদের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২১, ০৯:২৯ পিএম

আড়াইহাজারে বিএনপির রাজনীতিতে ফের বিতর্কিতদের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা
Swapno

আড়াইহাজারে বিএনপির রাজনীতিতে ফের বিতর্কিতরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা রীতিমত পদ-পদবী বাগানোয় উঠে পড়ে লেগেছেন। তবে এরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে অবস্থান করে আসছিলেন।

 

স্থানীয় বিএনপির বিপুল অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এ অপর্যন্ত বিপুল সংখ্যক মামলা হলেও হামলা ও মামলা এড়াতে দল থেকে সুবিধাভোগী এসব বিতর্কিতরা ছিলেন লাপাত্তা। তারা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে আসছেন। পাশাপাশি অনেকেই সুকৌশলে এরই মধ্যে জেলা বিএনপিতে ঠাঁই করে নিয়েছেন। এখন এসব ব্যক্তিরা থানা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে ঠাঁই পাওয়ার জন্য লবিং করছেন।

 


অনেকেই পেছন থেকে এসব বিতর্কিতদের আশ্রয়-প্রশয় দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিতদের অন্যতম থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বনে যাওয়া ইউছূফ আলী। তিনি সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুরের আশির্বাদপুষ্ট। ২০০১ সালে তিনি আঙ্গুরের আশিরবাদে হঠ্যাৎ সাধারণ সম্পাদক পদে ঠাঁই করে নেন। এনিয়ে তৎকালিন সময়ে দলের অনেক সিনিয়র নেতার মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, থানা বিএনপির সভাপতি প্রয়াত এএম বদরুজ্জামান খান খসরুও একই পথে হাটেন। তিনিও বিতর্কিত ব্যক্তি হাবিবুর রহমান (হাবু) কে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করেন।

 

এ ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে অনেক সিনিয়র নেতা রাজনীতিতে নিস্ক্রীয় হয়ে পড়েন। সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর। তিনি খসরু’র ছোট ভাই। তিনিও সাবেক ইউপি সদস্য বিতর্কিত ইউছূফ আলীকে বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করেন। এ ঘটনার পর আঙ্গুরের প্রয়াত এএম বদরুজ্জামান খসরু’র সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। হাবুকে সাধারণ সম্পাদক করার পর। একইভাবে খসরু’র সঙ্গেও আঙ্গুরের বিরোধ দেখা দেয়। দল নিয়ে এই দুই নেতার মনগড়া সিদ্ধান্তের কারনে থানা বিএনপিতে একাধিক ভাগে বিবক্ত হয়েছে। তাদের বিতর্কিত কর্মকান্ডে অনেক সিনিয়র নেতা ভিতরে ভিতরে ক্ষুদ্ধ হয়ে রয়েছেন।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাহমুদুর রহমান সুমন। যিনি খসরু’র ছেলে। তিনি বর্তমানে থানা বিএনপির একাংশের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনিও একই পথে হাঁটার চেষ্টা করছেন। তিনি বিতর্কিত হাবিবুর রহমান হাবুকে ফের দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সবর করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখন জিয়া পরিবারের নাম ভাঙ্গানো নজরুল ইসলাম আজাদও এবার ইউছূফ আলীকে থানা বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ঠাঁই করে দিতে গোপনে চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন খবর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এই খবরে রীতিমত তোলপাড়া শুরু হয়েছে। তাদের মনগড়া সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপিতে একাধিক ভাগে বিবক্ত হয়েছে। সুমন দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন ইলুমদী। আজাদ পাঁচরুখী। সাবেক এমপি আঙ্গুর নাইনাদী ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি ব্যাপকভাবে পালন করে যাচ্ছেন উপজেলা সদরে তার নিজ কার্যালয়ে।

 

দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, সাবেক ইউপি সদস্য ইউছূফ আলীকে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর মনগড়ামতো থানা বিএনপির পকেট কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে ঠাঁই করে দেন।  ২০০২ সালে আড়াইহাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর হিসাবে বিএনপির সমর্থন পান ইউছূফ আলী। পরে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করে গোপনে মাত্র পঞ্চশ হাজার টাকার বিনিময়ে তৎকালিন আয়াওমী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হাবিবুর রহমানের কাছে বিক্রি হয়ে যান। এক পর্যায়ে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকেই নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, সাধারণ সম্পাদক বনে গিয়ে ইউছূফ আলী নানা বিতর্কিত কমকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। রাতারাতি বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক বনে যান।

 

অভিযোগ রয়েছে, থানার দালালী, বিভিন্ন কায়দায় চাঁদাবাজী ও টেন্ডারবাজীতে জড়িয়ে যান তিনি। তার কাছ থেকে রেহায় পায়নি খোদ বিএনপির নেতাকর্মীরাও। অনেক দলীয় কর্মী তার কাছে কোন সহযোগিতার জন্য গেলে তাকে গুন হয়েছে অর্থ। তিনি (ইউছূফ) থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ঠাঁই করে নিয়ে নিজেকে টাকার কামানোর মেশিন বানিয়ে ফেলেন। এছাড়াও তিনি এলাকায় টর্চার সেল সহ ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেন। তার মনমতো না হলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপরও হামলা ও মামলা জেল-জুলুম চালাতে বিধাবোধ করতেন না।

 


দলীয় তকমাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কোটি টাকা কামিয়েছেন। তবে ১/১১-এর সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে ২০০৬ সালে তিনি আড়াইহাজার থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যান। ১৫ বছর যাবত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপনে আতাঁত করে চলছেন। এলাকায় দলীয় কোন কর্মকান্ডে জড়িত না থাকলেও তিনি গোপনে লবিং করে নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটিতে ঠাঁই করে নেন। দলের দুঃসময়ে লাপাত্তা এই ব্যক্তি সাভার এলাকায় বসবাসের পাশাপাশি গড়ে তুলেন ব্যবসা-বাণিজ্য। বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধার এবং বিএনপি চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে বিতর্কিত এই ব্যক্তিকে কখনো মাঠে দেখা যায়নি। এখন থানা বিএনপিতে পদবী বাগাতে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন। দলের তকমা কাজে লাগিয়ে নিজে বিপুল অর্থভৈববের মালিক হলেও সরকারের হামলা ও মামলা জেল যুলুম ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের কোন খোঁজখবর নেয়নি বিতর্কিত এই ব্যক্তি।

 


অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, তার ছোট ভাই বিল্লাল এবং ইউসুফ আলী পুত্র সুমন আওয়ামী লীগের নেতকর্মীদের সাথে আতাঁত করে যৌথ ক্যাডার বাহিনী নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীর ওপর অমানবিক জুলুম নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। ২০১৮ সালে বিএনপি  চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সিলেট যাওয়ার সময় দলীয় শত শত নেতাকর্মী স্বাগত জানাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পুরিন্দা এলাকায় রাস্তার দুই পাশে জড়ো হন। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় ক্যাডার বাহিনীর সঙ্গে মিলে ইউছূফ আলীর পুত্র সুমন বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

 

থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শহীদ উল্যাহ মিয়া বলেন, তৎকালিন জেলা বিএনরি কমিটিতে সদস্য পদে ঠাঁই করে নেন ইউছূফ আলী। তাকে গোপনে সহযোগিতা করেছেন জিয়া পরিবারের নাম ভাঙ্গানো নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে ইউসুফ আলীকে সদস্য পদে ঢুকিয়ে দেন। এনিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একইভাবে আড়াইহাজার থানা বিএনপি কমিটিতেও ইউছূফ আলীকে ঠাঁই করে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন নজরুল ইসলাম আজাদ। এমন খবরে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন