রূপগঞ্জে ওএমএসের পণ্য কিনতে লম্বা লাইন
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২১, ১০:৩৪ পিএম
রূপগঞ্জে খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত বিশেষ ও.এম.এসের ট্রাকসেল দোকানে ন্যায্য মূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৭টি স্পটে ন্যায্য মূল্যে পণ্য সামগ্রী বিক্রি চলবে ১ মাস। এতে দীর্ঘ লাইনে নেই কোন সামাজিক দুরত্ব নেই কোন স্বাস্থ্যবিধি। গতকাল রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা গাউছিয়া মোড়ে ওএমএসের দোকানে এ চিত্র দেখা গেছে।
ও.এম.এসের পণ্য কিনতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে মানুষ। অনেকে ধারদেনা করে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছে ও.এম.এসের পণ্য কিনতে। সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে মাথা পিছু চাউল আটা দেয়া হচ্ছে। ট্রাকে করে (ট্রাকসেল) রূপগঞ্জে বিভিন্ন এলাকার ৭ টি স্পটে ন্যায্য মূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। ৫ কেজি চাউল ১৫০ টাকা ও ৫ কেজি আটা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে অনেক গরীব মানুষ উপকৃত হচ্ছে। তবে করোনা মহামারিতে ট্রাকসেলের দোকানে অধিকাংশ ক্রেতাদের মুখে মাস্ক নেই।
সামাজিক দুরত্বকে উপেক্ষা করে গাদাগাদি করে ন্যায্য মূল্যে পন্য কিনছে নিম্নআয়ের মানুষ। করোনায় হাতে কাজ নেই। নিরুপায় হয়ে স্ত্রীকে লাইনে দাড় করিয়েছি। দুজনে মিলে ট্রাক থেকে কম দামে চাউল আটা কিনলাম। আলী আকবর নামের এক বৃদ্ধ লাইনে দাড়িয়ে কথাগুলো বললেন। তিনি কিশোরগঞ্জ থেকে রূপগঞ্জে এসেছেন ৪ বছর আগে। ছেলে মেয়ে নিয়ে ভাড়া থাকেন গোলাকান্দাইল এলাকায়। তিনি বলেন, ৫ কেজির বেশী দেয়না । তাই স্ত্রীকে নিয়া কম দামে চাউল,আটা কেনার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। আরিফা খাতুন নামের এক মহিলা ও,এম,এসের দোকানে ন্যায্য মূল্যে পন্য কিনতে লাইনে দাড়িয়েছেন।
গতকাল দুপুরে কথা হয় তার সাথে। তিনি বললেন, ঘরে বাজার সদাই কিছু নেই। একজনের কাছ থেকে ৭’শ টাকা ধার করে এখানে এসেছি। এসে দেখি ৫ কেজির বেশী দেয়া হয়না। বাজার মূল্যের চেয়ে এখানে দাম কম হওয়ায় খুশি আরিফা খাতুন। দেড় কিলোমিটার হেটে কুশাবো এলাকা থেকে আব্দুল বাছেদ এসেছেন ওএমএসের পন্য কিনতে। তার অভিযোগ, ৫ কেজির বেশী চাউল আটা দেয়না। তাছাড়া চিনি ও সয়াবিন তেল এখানে দেয়া হয়না। তিনি বলেন চাউল আর আটার পাশাপাশি তেল,চিনি দেয়া হলে আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের আরও উপকার হতো।
এব্যাপারে রূপগঞ্জ ওএম,এসের ডিলার রবিউল শিকদার বলেন, রূপগঞ্জ উপজেলার ৭টি স্পটে আমরা একযুগে ও.এম.এসের ন্যায্য মূল্যে পন্য বিক্রি করছি। চলবে আগামী ১ মাস। স্বাস্থ্য বিধি কেন মানা হচ্ছেনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করি দুরত্ব বজায় রাখতে। ক্রেতারা হুমরি খেয়ে পড়ে। আমাদের কথা শুনেনা। বলছি পর্যাপ্ত পন্য আছে। সবাই নিতে পারবে তারপরও তারা কথা পাত্তা দেয়না।


