সাত মাস না যেতেই ভেঙে গেছে নদীর বাঁধ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২১, ১১:০২ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার কামাল উদ্দিনের বাড়ী হতে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে ৬ মাস। সড়কটি ধলেশ্বরী শাখা নদীর সাথে মিশে আলীরটেক পুরান বাজার হয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে শেষ হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য মতে এই সড়কের জন্য ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্ধ হয়।
রাস্তা যেন ভেঙে না পরে তার জন্য নদীর পারে পাথরের বাঁধ বা ব্লক বসানো হয়। কিন্তু বছর না যেতেই মাটি সরে গিয়ে এই বাঁধ ভেঙে যায়। অভিযোগ রয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় বাঁধ ভাঙন ধরে। এর আগে সড়কের কয়েক জায়গায় ভেঙে যায়। পরে তা সংস্কার করা হয়। বাধ ভাঙ্গনের জন্য ঠিকারদার প্রতিষ্ঠানসহ জনপ্রতিনিধিদের দোষারপ করছে এলাকাবাসী। একই সাথে কাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব রয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পারের বাঁধ ৩ থেকে ৪ জায়গায় ভেঙে গেছে।
এতে করে এই সড়কটি আবারো ভেঙে যেতে পারে বলে মনে করেন সচেতন মহল। সেই সাথে বিভিন্ন পরিবহন চালকসহ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই সড়কটি করার জন্য আলীরটেকবাসী অনেক আগে থেকে দাবী জানিয়ে আসছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান এই রাস্তার জন্য বরাদ্ধ আনলেও কাজ শেষ হওয়ার ৭ মাস না যেতেই নদীর পারের বাধ ভেঙে গেছে। সচেতন মহলে মতে নিচে ভলো করে মাটি না দেয়ায় এই বাঁধ ভেঙে যায়।
এ সড়কের কাজে দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ারের তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনুর ঠিকাদার প্রতিষ্টান এস আর এন্টারপ্রাইজ এই সড়কের কাজ করছে বলে জানা যায়। করোনার আগে রাস্তাটির কাজ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দা নুর আলম জানান, এই সড়ক নির্মাণে যারা কাজ করছে তারা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণে বছর না যেতেই সড়কের বাঁধ ভেঙে যায়। বাধের নিচে ভালো করে মাটি না দেয়ায় এত তাড়াতাড়ি ফাটল ধরেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কোনরকমভাবে করে দিতে পারলেই তাদের দায় সারা। আলীরটেক, রাধানগর ও কুড়েরপাড় এলাকার লোকদের এদিক দিয়ে চলাচল হয় বেশি। প্রতিদিন হাজার মানুষ যাতায়াত করে।
সাইফুল নামে এক ব্যক্তি বলেন, রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার ৬ মাস না হতেই রাস্তা ভেঙে যায় তাতেই বুঝা যায় তারা কেমন করে কাজ করেন। যারা কাজের কন্ট্র্যাক্ট পায় তারা চিন্তা করেন কোনরকম ভাবে করে যেতে পারলেই হয়। এই ধরনের কর্মকান্ডে জনপ্রতিনিধিরা তাদের দায় এড়াতে পারে না। এলাকার বাসিন্দা কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী জন প্রতিনিধরা দেখেও যেন না দেখার ভান করে থাকেন। কেননা তাদেরতো এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয় না। বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি শহরে থাকেন। চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। জেলা সিনিয়র সহকারি ইঞ্জিনিয়ার আলী হায়দার জানান, যেহেতু ভেঙে গেছে তাই এটা সংস্কার করে দিতে হবে। আমি জামালকে ডেকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলে দিচ্ছি।
সদর উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার জামাল হোসেন জানান, এ কাজের জন্য সাজনু ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান এস আর এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি পান। ৬ মাস হয়েছে এই সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। আমি সাজনু ভাইয়ের সাথে কথা বলে দেখি কি করা যায়। আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাইছি তারা কাজ করে দিবে।


