বরাদ্দ ৭০ লাখ, টেন্ডার শেষে কাজে গরিমসি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২১, ০৮:৪৫ পিএম
সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের কুড়েরপাড় ব্রীজ থেকে সবুজনগর রাস্তার পিচ ঢালাইয়ের আগ পর্যন্ত সড়কটি ভেঙ্গে বেহাল অবস্থায় আছে। ব্রীজের ঢালের রাস্তা যেন মৃত্যুফাঁদ। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। ১৬ ফিট রাস্তার দুই পাশে প্রায় ৯ ফিট ভেঙে গেছে।
জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী ৪ মাস আগে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শুরু হয় নাই। এই সড়কটির জন্য ৭০ লাখ টাকা বাজেট হয়েছে। রাস্তাটিতে খানা-খন্দে পরিণত হওয়ায় মানুষের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এখানকার মানুষ রিকশা বা অটো ইজিবাইক নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কবে নাগাত কাজ শুরু হবে জানেন না স্থানীয় ইউপি মেম্বার রুহুল আমিন। সংস্কার না হওয়ার জন্য বর্তমান চেয়ারম্যান মেম্বারকে দোষারুপ করছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, ১০ থেকে ১৩ বছর আগে এই কুড়েরপাড়ের এই ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ব্রীজের দু’পাশে ঢালে কোন ধরণের ঢালাই করা হয় নাই। ইট বসানো হলেও তা ভেঙে সড়কটি খানা খন্দকে পরিনত হয়। এই সড়কে বিভিন্ন জায়গায় গর্তে ভরা। আবার অনেক জায়গায় ইট সরে বড় গর্ত হয়ে আছে। আর এতে করে এলাকাবাসিকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে পরিবহন চালকদের অভিযোগ। এই ব্রীজ দিয়ে কুড়েরপাড়, গোগনগর, সবুজনগর, গঞ্জকুমারিয়া, তৈল খিরাচর এবং আলীরটেক মানুষের যাতায়াত হয়। প্রতিদিন এ দিক দিয়ে হাজার মানুষের চলাচল হয়।
অভিযোগ করে অটো চালক ওমর ফারুক বলেন, কুড়েপাড়ের ব্রীজ দিয়ে সবজু নগর কোন যাত্রী নিয়ে যাওয়া যায়না। ব্রীজের এসে যাত্রীদের নামিয়ে দেই। কেননা যাত্রী নিয়ে সবুজ নগর, গঞ্জকুমারিয়া গেলে আসার সময় অটো গাড়ি নিয়ে উঠা যায় না। দুই থেকে ৩ জন পিছনে ঠেলে উঠাতে হয়। সবুজনগরবাসী আব্দুল্লাহ বলেন, এই সড়ক ভাঙা থাকায় এখানকার মানুষ রিকশা বা অটো ইজিবাইক নিয়ে যেতে পারে না। অটো গাড়ি নিয়ে গেলেও ব্রীজে উঠার সময় তা উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
অনেক রোগীদের নিতে হলে তাদেরকে নিজেদের বহন করে নিতে হয়। মেম্বার চেয়ারম্যানরা দেখেও যেন না দেখার ভান করে থাকে। এবার তারা কোন মুখ নিয়ে আমাদের কাছে ভোট চাইতে আসে দেখি। কাজের বেলায় থাকবো ভোটের বেলায় সবার আগে। জনপ্রতিনিধিরা যদি আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নের দিকে একটু নজর দেয়। তাহলে যদি আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়।
আলীরটেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার রুহুল আমিন বলেন, এই ব্রীজের ঢালের রাস্তাটুকু এলজিইডির মাধ্যমে টেন্ডার হয়েছে। এই সড়কের জন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্ধ হয়েছে। কারা টেন্ডার পেয়েছে তা আমি জানিনা। কবে নাগাত কাজ শুরু হবে তা এলজিইডি অফিস বলতে পারবে।
জেলা এলজিইডির সিনিয়র সহকারি পরিচালক আলী হায়দার জানান, আমি খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে বলতে পারবো। অরিয়েন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি কাজ পেয়েছে। কাজ শুরু করার প্রক্রিয়াধীন আছে।
আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘এই সড়কের কাজ টেন্ডার হয়ে গেছে। কিন্তু করোনার কারনে এতদিন স্থগিত ছিল। আশা করি কিছু দিনের মাঝে শুরু হবে।’


