Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ট্রাজেডি, তদন্তে ধরা পড়েছে গাফিলতি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২১, ০৯:০৮ পিএম

জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ট্রাজেডি, তদন্তে ধরা পড়েছে গাফিলতি
Swapno

# ডিসির হাতে জেলা প্রশাসনের ৪৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
# তদন্ত কাজে ২১ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ
# কিছু ডিপার্টমেন্টের গাফিলতি আছে, মন্ত্রণালয়ে জানাবো, তারা দেখবে : ডিসি

 

রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার হাশেম ফুড এন্ড বেভারেজ কোম্পানীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। গত ৫ আগস্ট জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ’র কাছে ৪৪ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারী। গতকাল জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারী দৈনিক যুগের চিন্তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরের গাফিলতি। এসব দপ্তরগুলোর গাফিলতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে অবগত করবে জেলা প্রশাসন। অতঃপর গাফিলতি থাকা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিষয়ে ব্যবস্থা বা সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘কিছু কিছু ডিপার্টমেন্টের গাফিলতি আছে। সংশ্লিষ্ট ওই দপ্তরগুলো যথেষ্ট পরিমান মনিটরিং করেননি। এই বিষয়গুলো তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এবং আমরা প্রাথমিক ভাবে যখন গিয়েছিলাম, তখনও এগুলো জানতে পেরেছি।

 

প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে যদি সঠিক মনিটরিং করতো, তাহলে সেখানে শিশু শ্রম থাকতো না, বিল্ডিং কোর্ডের অসঙ্গতি থাকতো না। ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা পর্যাপ্ত থাকতো। তাদের মনিটরিংয়ের কমতি আছে। যেহেতু তারা অন্য মিনিস্ট্রিতে কাজ করে, সেহেতু আমরা এই বিষয়গুলো কনসার্ন মিনিস্ট্রিকে বলবো। আমরা এগুলো কেবিনেট, লেবার মিনিস্ট্রি এবং কনসার্ন মিনিস্ট্রিতে পাঠাবো। তারা এগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

 

জেলা প্রশাসক জানান, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে ২০টি সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের প্রথম সুপারিশে বলা হয়েছে যে, সেখানে শিশু শ্রম ছিলো। সেই শ্রম যাতে বন্ধ করা হয়। দ্বিতীয়ত, যারা মারা গেছে তাদের শ্রম আইন অনুসারে ২ লাখ টাকা এবং যারা আহত হয়েছে, তাদের আড়াই লক্ষ টাকা করে যেন মালিক পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়। বিল্ডিং কোড মানা, অগ্নি নিবার্পন যন্ত্র আরো বেশি রাখা এবং প্রশিক্ষিত অগ্নিনিবার্পন দল কারখানায় রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।’  

 

এদিকে, নীচ তলার সেন্ট্রাল রুমে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে।   জানা গেছে, গত ৮ জুলাই রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডিতে ৫২ জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরই  প্রশ্ন উঠে সরকারের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তর নিয়ে। রূপগঞ্জের ওই প্রতিষ্ঠানটির ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিলো না। পর্যাপ্ত সেফটি ব্যবস্থা না থাকা সত্বেও রহস্যজনক ভাবে ওই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে বিস্ফোরক ও ফায়ার সেফটির সনদপত্র!

 

শিশু শ্রম থাকা সত্ত্বেও কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও দিয়েছে সনদপত্র। বছর বছর তা নবায়নও হচ্ছে!  শুধু কী তাই? ওই ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোডও মানা হয়নি। অদৃশ্য কারণে সেদিকে নজর দেয়নি রাজউক। শিশু শ্রম, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, ফায়ার এক্সিট বা ইমারজেন্সি এক্সিট ব্যবস্থা না থাকা এবং বিল্ডিং কোড না মেনেও কোন পন্থায় মিলেছে এসব দপ্তরগুলোর সনদপত্র- সেই প্রশ্নই এখন সচেতন মহলের।

 

যদিও ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, ‘এই ঘটনার পেছনে কারো যদি দায়িত্ব অবহেলা থেকে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা প্রশাসনের ৪৪ পৃষ্ঠার তদন্তে যে সকল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব অবহেলা নির্ণয় করা হয়েছে, সেসকল প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদৌ কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা- সেই প্রশ্নই সচেতন মহলের।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন