Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

জনসংখ্যা অনুপাতে টিকা চেয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২১, ০৬:১৬ পিএম

জনসংখ্যা অনুপাতে টিকা চেয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা
Swapno


# ফতুল্লার চার ইউনিয়নে লোক বাস করেন দশ লাখের বেশি

ফতুল্লা থানা এলাকাটি হলো দেশের অন্যতম একটি শিল্প এলাকা। আর এই থানায় ইউনিয়ন রয়েছে পাঁচটি। আর এই চারটি ইউনিয়নে লোক বাস করেন অন্তত দশ লাখের বেশি। কারন এসব ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ শহরের অংশ হলেও রাজনৈতিক কারনে এখনো সিটি করপোরেশনের অংশ হতে পারেনি। ফতুল্লার জনগন অনেকের মতে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান চাননা বলেই এই ইউনিয়নগুলি সিটি করপোরেশনের অংশ হতে পারেনি। কাগজে কলমে ফতুল্লা এখনো গ্রামই রয়ে গেছে। যার ফলে শহরের সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়নগুলি। আর এই মুহুর্ত্বে সারা দেশে যে গণ টিকা কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে তাতেও বঞ্চিত হতে পারে ফতুল্লার ইউনিয়নগুলি।

 

কারন সরকারী ভাবে সারা বাংলাদেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদে সমান সংখ্যক টিকা দেয়া হচ্ছে। এতে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন জনবহুল ইউনিয়ন গুলি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ শহরের ফতুল্লা থানা এলাকার ইউনিয়নগুলিকে বিপুল সংখ্যক মানুষ বসবাস করেন। এখানে অন্তত চারটি ইউনিয়নে লোক বাস করেন লাখ লাখ। যেমন এক কুতুবপুর ইউনিয়নেই লোক বাস করে অন্তত পাঁচ লাখ। কারন এই ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যাই হলো আড়াই লাখের বেশি। ফলে জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখের বেশি। তাই দেশের অধিকাংশ ইউনিয়নে তিন হাজার থেকে পনেরো হাজার লোক বাস করেন। তাই সেই ইউনিয়নগুলিতে যে পরিমান মানুষ টিকা পাচ্ছেন বিপরিতে ২/৩ লাখ লোক বাস করেন এমন ইউনিয়নের লোকেরাও সমান সংখ্যক টিকা পাচ্ছেন। এতে ফতুল্লার জনবহুল ইউনিয়নগুলির চেয়ারম্যানদের মাঝে চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পরেছে।


এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ইউনিয়ন রয়েছে মোট ৪৪টি। আর এই ৪৪ ইউনিয়নের মাঝে সবচেয়ে বেশি লোক বাস করেন ফতুল্লা থানার চারটি ইউনিয়নে। এই চারটি ইউনিয়ন হলো কাশীপুর, এনায়েতনগর, ফতুল্লা এবং কুতুবপুর। এ বিষয়ে কাশীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম সাইফ উল্লাহ বাদল বলেন, কামীপুর ইউনিয়নে এখন প্রায় দুই লাখ লোক বসবাস করেন। তাই জেলার যে সকল ইউনিয়নে ১০/১৫ হাজার লোক বাস করে আমাদের এখানে সমান সংখ্যক টিকা দিলে চলবে না। আমরা জেলা প্রশাসক মহোদ্বয়কে অনুরোধ করবো ফতুল্লার ইউনিয়গুলিতে তিনি যেনো অন্য সকল এলাকার অন্তত পাঁচ গুন বেশি টিকাক্যাম্প স্থাপন করেন।

 

অন্যথায় আমাদের এই ইউনিয়নগুলিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ টিকা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে। তিনি আরো বলেন গোটা ফতুল্লা থানা এলাকাটি একটি শিল্প এলাকা হওয়ায় অত্র এলাকায় অন্তত দশ লাখ লোক বাস করেন। তাই এমন বিপুল সংখ্যক মানুষকে এতো অল্প পরিমান টিকা দিয়ে সামলানো যাবে না। তাই আমি মনে করি ফতুল্লার পাঁচটি ইউনিয়নের জন্য মাননীয় জেলা প্রশাসককে বিকল্প ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে।

 


এদিকে একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু। তিনি বলেন, আমার কুতুবপুর ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যাই এবার আড়াই লাখের বেশি। সব মিলিয়ে মানুষ বাস করেন অন্তত পাঁচ লাখ। তাই এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে ছয়শ বা এক হাজার করে টিকা দিলে চলবে না। কুতুবপুর ইউনিয়নের প্রত্যেক ওয়ার্ডে অন্তত তিনটি করে টিকা দান কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। অন্যথায় অল্প কিছু মানুষ টিকা পেলেও টিকার বাহিরে থেকে যাবে প্রায় সব মানুষ। তাই আমি মাননীয় জেলা প্রশাসকের কাছে অুনরোধ করবো তিনি যেনো এই জেলার ইউনিয়নগুলিতে জনসংখ্যা অনুপাতে টিকা দেয়ার ব্যাবস্থা করেন। 

 


এদিকে একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন ফতুল্লার চারটি ইউনিয়নের চার চেয়ারম্যান। এনায়েতনগরের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান এবং ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপনও চান তাদের ইউনিয়নগুলিতে যাতে জনসংখ্যা অনুপাতে টিকা দেয়ার ব্যাবস্থা করা হয়। কারন তাদের দুটি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে অন্তত তিন লাখ করে মানুষ বাস করেন। তাই এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক কি করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন