সোনারগাঁয়ে অনৈক্য, কেন্দ্রে যাবে নালিশ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২১, ০৮:৪৩ পিএম
দীর্ঘদিন ধরেই অনৈক্য দেখা যাচ্ছে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগে। আহবায়ক কমিটি গঠন হলেও ওই কমিটিতে থাকা নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছে অন্তর্দ্বন্দ্ব। ফলে দলীয় কর্মসূচিতেও এক হতে পারছেন না অন্তর্দ্বন্দ্ব পুষে রাখা নেতারা। এর বিরুপ প্রভাব পড়ছে স্থানীয় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝেও।
জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষ্যে প্রস্ততি মূলক সভার আয়োজন করে সোনারগাঁ উপজেলার আহবায়ক কমিটি। মোগরাপাড়ায় অবস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত।
সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে কায়সার হাসনাত যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরু ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দারের সাথে। তাদের বারংবার ফোন করা হলেও তা রিসিভ করেননি। এমনকি প্রস্তুতি মূলক সভাতেও তারা উপস্থিত হননি। তা নিয়ে ক্ষোভ ঝেরেছেন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক কায়সার হাসনাত।
তিনি বলেন, ‘কমিটির আহবায়ক অ্যাড, শামসুল ইসলাম ভূইয়া চক্ষু অপারেশনের জন্য আমেরিকায় আছেন। তাই ১৫ আগষ্ট এর প্রস্তুতি মূলক সভা করার জন্য আমি ব্যক্তিগত ভাবে সবাইকে ফোন দেই। লজ্জার কথা, কমিটির সদস্য ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরু ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও আমার ফোনই তারা রিসিভ করেননি। যারা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, তারা সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ করার যোগ্যতা রাখে না।’
ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে এই আসন থেকে বারবার আওয়ামী লীগ বঞ্চিত হয়েছে উল্লেখ করে কায়সার হাসনাত বলেন, একটা আসন থেকে ১৮-২০ জনের মত প্রার্থী হয়। তাই আমাদের এখন নবীন ও প্রবীনদের নিয়ে সঠিক ভাবে দিক নির্দেশনা মেনে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করা আমাদের দায়িত্ব। এদিকে, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেও কোন স্বার্থের কারণে এক কাতারে দাঁড়াতে পারছে না সোনারগাঁয়ের আওয়ামী লীগ নেতারা- তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দলটির সমর্থকরা।
এই বিষয়ে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহফুজুর রহমান কালাম দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে দূর্বল করে রাখার জন্য এখানে একটি পক্ষ আছে। যারা দলের স্বার্থে কাজ করেন না। ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তারা গ্রুপিং করে। ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী বা জাতীয় শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি মূলক সভায় দলের আহবানের পরও যদি গ্রুপিংয়ে বিশ্বাসী নেতারা অনুপস্থিত থাকে, তাহলেতো তাদের দল করার অধিকার থাকে না। তারা অনুপ্রবেশকারী। সুযোগ-সন্ধানি লোক। দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। কিন্তু দলের দুঃসময়ে থাকে না। তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে নালিশ যাবে।


