১৮ বছরের কিশোর ফজর আলী। স্কুলে পড়ালেখা করার সময় গ্রেপ্তার হয় দুইবার। কারণ নগরীর সবচেয়ে বড় মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত চাঁনমারির ডন সে। তার বোন রুমিও মাদককারবারি। তারা ভাই বোন মিলেই দীর্ঘদিন ধরে চাঁনমারি বস্তি নিয়ন্ত্রণ করেছিলো। সেখানে যারা মাদক বিক্রি তারা অধিকাশংরাই তাদের স্বজন। বর্তমানে চাঁনমারি বস্তি উচ্ছেদ হওয়ায় তারা আশপাশের বিভিন্ন এলাকা সহ বন্দরে ছড়িয়ে পরেছে। সেখানেও মাদক কারবারি শুরু করছে তারা।
সূত্রে জানা গেছে, ফজর আলীর পিতার নাম মোক্কা মিয়া। তিনি নিজেও এক সময় মাদক বিক্রি করতো চাঁনমারিতে। তাদের গ্রামের বাড়ি জামালপুরে পাশপাশি টাংগাইলেও আরেক বাড়ি রয়েছে। ফজর আলী ফতুল্লার ইসদাইর এলাকার রাবেয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেছে তবে অষ্টম শ্রেণী ও নবম শ্রেনীতে পড়ালেখা করার সময় মাদক সহ গ্রেপ্তার হয়েছে পুলিশের হাতে। এরপর থেকে চাঁনমারির মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ নেয়া শুরু করে সে। মাদক বিক্রিতে ফজর আলী বড় বোন রুমি তার প্রধান সহযোগি। তার মাধ্যমে অনেকে তার সাথে সংযুক্ত ছিলো।
এক কথায় ভাইয়ের চেয়ে বোন আরো ভয়স্কর। বস্তি উচ্ছেদের আগেও তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো ওই এলাকার মাদক বিক্রি। তবে বস্তি উচ্ছেদের পর সেগুলো ছড়িয়েছে ইসদাইর, তল্লা ও বন্দরে। এখনো আড়াল থেকে তা নিয়ন্ত্রণ করছে ফজর আলী। চাঁনমারি বস্তি উচ্ছেদের পর এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে স্থানীদের কাছ থেকে। স্থানীয়রা জানান, ফজর আলী কিশোর হলেও তার সাথে অনেক বড় বড় মাদক কারবারিদের যোগাযোগ রয়েছে। কিশোর বয়সে সে চাঁনমারি বস্তির মাদক নিয়ন্ত্রণ করেছে। তার কারণ হলো যারা চাঁনমারিতে মাদক বিক্রি করতো তারা অধিকাংশই ফজর আলীর আত্মীয় স্বজন। তারা গ্রেপ্তার হলে ফজর আলী ছাড়িয়ে আনতো। এমন কি সবার আগে পুলিশ আসার খবরও পেয়ে যেতো ফজর আলী।
কারণ তার সাথে কতিপয় প্রশাসনের ব্যক্তি ও পাতি নেতাদের যোগাযোগ ও সখ্যতা রয়েছে। ফজর আলী তাদের ম্যানেজ করে সব চালাতো। স্থানীয়রা আরও জানান, ফজর আলী প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন ফোন কিনেন। তার হাতে সব সময় আইফোন ও ওয়ান প্লাস সহ বিভিন্ন দামি মোবাইল থাকে। সে মাদক বিক্রির নানা কৌশল জানে এ কারণে অনেকে তাকে চাঁনমারির মাদকের ডন হিসেবে মানতো। তবে চাঁনমারি বস্তি উচ্ছেদের পর থাকে সে আরও কৌশলী হয়ে গেছে। ফজর আলী বন্দরে অবস্থান করলেও ফতুল্লার ইসদাইর, তল্লা, চাষাঢ়া রেল স্টেশন ও বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে তবে পুলিশ প্রশাসন তাকে ধরতে পারে না।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিপক চন্দ্র সাহা জানান, আমরা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান করি। নতুন করে শহর থেকে এসে বন্দরে মাদক বিক্রির চেষ্টাও করা হলে আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।


