Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ফতুল্লায় অর্থ বনাম যোগ্যতার লড়াই

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২১, ০৭:৩৩ পিএম

ফতুল্লায় অর্থ বনাম যোগ্যতার লড়াই
Swapno

#  আজাদ বিশ্বাস ও পান্না মোল্লার অর্থের খেলা


# ফতুল্লা ঘটতে পারে ক্ষোভের বিস্ফোরণ



একদা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে শক্তির যোগান মিলতো ফতুল্লা থেকে। তবে, দলে থাকা কতিপয় নেতাদের বলয় কেন্দ্রীক রাজনৈতির কারণে ফতুল্লা বিএনপি সেই জৌলুশ হারিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যারা ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতৃত্ব পেয়েছেন, তারা আন্দোলন সংগ্রামে দিয়েছেন ব্যর্থতার পরিচয়। এই তালিকায় আওয়ামী লীগের পোষ্যতা স্বীকার করা অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস এবং সমালোচিত পান্না মোল্লা অন্যতম।

 

ইতিপূর্বে ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক ছিলেন এই আজাদ বিশ্বাস এবং সদস্য সচিব ছিলেন পান্না মোল্লা। তাদের হাতে ফতুল্লা বিএনপির নেতৃত্ব লাভের পর থেকে সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল হয়ে পরে অঞ্চলটি। তবে, সাংগঠনিক কর্মকান্ডে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসা সেই আজাদ বিশ্বাস ও পান্না মোল্লার হাতেই আবারও ফতুল্লা থানা বিএনপির দায়িত্ব তুলে দেয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এমনকি সাবেক বিএনপি নেতা শাহ-আলম এবং জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা অর্থের খেলায় নেমেছেন আজাদ ও পান্না মোল্লার পক্ষে।

 

অন্যদিকে, যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের পক্ষে রয়েছেন দলের পরীক্ষিত নেতারা। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ন অঞ্চল ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন যাবত চলমান আছে। কমিটির প্রস্তাবিত সদস্যদের নামের তালিকা করার দায়িত্ব পেয়েছেন জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন। যোগ্য ব্যক্তিদের দ্বারা ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটির তালিকা করার নির্দেশনা থাকলেও সাংগঠনিক এই কাজে বিভিন্ন মহলের চাপের শিকার হচ্ছেন তিনি- এমন অভিযোগ জানিয়েছেন দলের একাধিক নেতা।  

 


বিতর্কিত আজাদ বিশ্বাস এবং সমালোচিত পান্না মোল্লাকে যেন ফতুল্লা বিএনপির সভাপতি-সেক্রেটারি করা হয়, সে বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি থেকে অব্যাহতি নেয়া শিল্পপতি শাহ-আলমের বিরুদ্ধে। দেন-দরবারের এই খেলায় উঠে এসেছে বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের নামও। এতে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পোড় খাওয়া নেতারা। তারা বলছেন, অর্থের বিনিময়ে অযোগ্যদের হাতে হাতে নেতৃত্ব তুলে দিলে ফতুল্লায় ঘটবে প্রকৃত নেতাদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ।

 


জানা গেছে, ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক বা সভাপতি পদে তৃণমূলের আলোচনায় আছেন থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম ও জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু। অন্যদিকে, সদস্য সচিব বা সাধারণ সম্পাদক পদে তৃণমূলের আলোচনায় আছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন খন্দকার শিপন এবং বিএনপি নেতা হাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তৃণমূল নেতারা বলছেন, ফতুল্লা থানা বিএনপিকে গতিশীল করতে হলে তাদের হাতেই তুলে দিতে হবে নেতৃত্ব। তবে, তৃণমূলের আলোচনায় তারা থাকলেও দায়িত্বশীলদের অনেকেই সেদিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থের বিনিময়ে সমালোচিত আজাদ বিশ্বাস এবং পান্না মোল্লার হাতেই কমিটি তুলে দেয়ার পায়তারা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ।  

 


এদিকে, ফতুল্লার দায়িত্ব পাওয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নাসির উদ্দিনের সাথে গতকাল যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনের সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে, গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছিলেন, যারাই প্রার্থী হতে চান সকলের নামই প্রস্তাবনায় উল্লেখ থাকবে। কমিটিতে আসতে চাওয়া কারও নাম বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই প্রস্তাবিত কমিটির তালিকা জেলা কমিটির আহ্বায়কের কাছে জমা দেওয়া হবে। সেই তালিকা আবার কেন্দ্রে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে শেষ পর্যন্ত অর্থের বিনিময়ে কমিটি দেয়া হবে? নাকি ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে তৃণমূলের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে যোগ্যদের হাতে তুলে দেয়া হবে নেতৃত্ব, সেটা দেখার অপেক্ষায় কর্মী সমর্থকরা।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন