সাবেক মেম্বারের বিরুদ্ধে গরু চুরির মামলা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২১, ০৭:৩২ পিএম
ফতুল্লার ধর্মগঞ্জে গরু চুরির অভিযোগে চার জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে এনায়েতনগর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিনকে। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত রুহুল আমিন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে, মামলার এজাহারভুক্ত ২ আসামী সেন্টু (৩৮) ও মরন আলীর ছেলে আব্দুল হালিম (৩৮)কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার বাদি ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হারেস দৈনিক যুগের চিন্তাকে জানান, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান এবং ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি গরু চুরি হয়েছিলো। এর মধ্যে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকা থেকে ৯টি চোরাই গরু উদ্ধার হয়। এই নয়টি গরুর মধ্যে ৩টি গরুর মালিক সিরাজদীখান এলাকার। তারা তাদের গরু চুরির বিষয়ে সিরাজদীখান থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেছে। একটি গরুর মামলা হবে ঢাকার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায়। ৯টি গরুর মধ্যে ৫টি গরুর মালিক তাৎক্ষনিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তাই এই পাঁচটি গরুর বিষয়ে আমরা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছি।
তিনি জানান, ‘সেন্টু ও হালিম নামে দু’জনকে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর জানিয়েছে যে, গরু চোর চক্রের প্রধান হচ্ছে এনায়েতনগর ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন। তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে রুহুল আমিনসহ এজাহারভুক্ত আরো এক আসামী পলাতক রয়েছে। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫জন আসামী রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত আসামীরা জানিয়েছেন, সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন তাদের কাছে গরুগুলো রেখে বিক্রি করতেন। একটি চোর চক্র আছে। এই চক্রের হোতা রুহুল আমিন বলে জানতে পেরেছি। তার বিরুদ্ধে আরো বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে।’
এদিকে, ধর্মগঞ্জ এলাকার একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, ১৯৯০ সাল থেকেই গরুর কারবার করছে রুহুল আমিন। এই চক্রটি কেবল সাধারণ মানুষের কাছেই নয়, গরু বুঝে কশাইয়ের কাছেও অল্প দামে বিক্রি করে থাকে। ইতিপুর্বে চতলার মাঠ এলাকার সুরুজ্জামান নামক এক কশাইয়ের কাছে রুহুল আমিন একটি গাভি বিক্রি করেছিলো। গাভিটির পেটে বাছুর ছিলো। ওই বাছুর সহ-ই কশাই সুরুজ্জামান গাভিটিকে জবাই করে। ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘রুহুল আমিনের সেল্সম্যান হিসেবে কাজ করে ধর্মগঞ্জের সিকু মিয়ার ছেলে জিকির আলী। এই চক্রের সাথে উঠে এসেছে রেজওয়ান নামে একজন। যার বাসা থেকে ২টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে রয়েছে ডাকাতির মামলাও। নদীপথে ডাকাতি হওয়া ট্রলার বোট রুহুল আমিনের মালিকানা ডকইয়ার্ডে রাখা হয় বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।’
পুলিশ জানায়, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে আরো মামলা রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক। তিনি সহ ওই ঘটনার সাথে আরো যারা জড়িত আছে, তাদের গ্রেফতারের অভিযান চলমান আছে। এদিকে, মামলার প্রধান আসামী সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে সংযোগ পাওয়া যায়নি।


