Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

তেল নেই, টাকা নেই!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২১, ০৯:২১ পিএম

তেল নেই, টাকা নেই!
Swapno

# অর্থের অভাবে ড্রেজার পাম্প বন্ধ


# স্থায়ী সমাধানে নিরব শামীম ওসমান


# সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে


 
ফতুল্লার লালপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। আশ্বাস দিলেও মিলছে না প্রতিকার। লালপুর পৌষার পুকুরপাড়ের বাসিন্দারা এখনো জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত। তবে, জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই মুখে কুলুপ এঁটে আছেন ওই এলাকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই জনপ্রতিনিধি। তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভুগি বাসিন্দারা।

 

এদিকে, লালপুরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় ৮ সিলিন্ডারের একটি ড্রেজার বুস্টার পাম্প ক্রয় করা হলেও বর্তমানে অর্থের অভাবে ওই পাম্পটিও বন্ধ রয়েছে। এতে অস্থায়ী সমাধানের শেষ ভরসাতেও ভাটা পড়েছে। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ড্রেজার বুস্টার পাম্পটি দৈনিক ১২ ঘন্টা চালানো হতো। এই ১২ ঘন্টা পাম্পটি পরিচালনায় দৈনিক এক ব্যারেল তথা ২০০ লিটার ডিজেল খরচ হয়ে থাকে। এক ব্যারেল তেলের মূল্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা। ড্রেজার বুস্টার পাম্পটি এযাবৎ পরিচালনায় ব্যাপক তেল ব্যয় হয়।

 

একই সাথে ব্যায় হয়েছে ব্যাপক অর্থও। পক্ষান্তরে গত ঈদুল আযহার প্রাক্কালে ৩-৪ দিনের জন্য লালপুরের সড়ক থেকে পানি নামলেও ঈদের পরবর্তী সময়ের বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধতার সেই পুরনো চিত্র ফুটে উঠে। গতকাল এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লালপুরে জলাবদ্ধতা থাকলেও তেল তথা অর্থের অভাবে পাম্পটি পরিচালনা করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ-নিজাম এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী ঈদের আগে থেকেই পাম্প পরিচালনার জন্য তেলের খরচ দিয়ে আসছিলেন।

 

এছাড়া, স্থানীয় প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও নিজ নিজ সামর্থ অনুযায়ী তেলের যোগান দিয়েছেন। কিন্তু তাদের দেয়া তেল ও অর্থ পাম্প পরিচালনায় ফুড়িয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পাম্পটি পরিচালনা করা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, শাহ-নিজাম, মীর সোহেল, ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান স্বপন ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কার্যকরি সদস্য আবু মোহাম্মদ শরীফুল হকসহ লালপুরের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও পাম্প পরিচালনায় হাপিয়ে উঠছেন। এরপরও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান এই প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিরব ভূমিকা পালন করছেন। তিনি পাম্প পরিচালনায় তার অনুসারী নেতাদের নির্দেশনা দেয়া ছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে অর্থায়ন করছেন না বলেও বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

 

এদিকে, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে শামীম ওসমান দুটি সভা করেছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। ওই সভায় সেনাবাহিনীর ডিএনডি প্রজেক্ট কর্মকর্তা ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাসহ শামীম ওসমান অনুসারী নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সভার পরপরই ইসদাইর এলাকা থেকে লিংক রোডের পূর্বে অবস্থিত রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে দিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা খাল খনন করেদেন। কিন্তু ওই খালের সাথে লালপুর এলাকার অভ্যান্তরিণ খালের কোন সংযোগ না থাকায় প্রতিকার পাচ্ছে না লালপুরবাসী।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পূর্ব লালপুর বাংলাদেশ খাদ এলাকার রেললাইনের পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত খালটি গভীর খননের মাধ্যমে যদি ইসদাইর রেললাইনের কালভার্ট হয়ে ইসদারের খননকৃত খালের সংযোগ দেয়া হয়, তাহলে লালপুরের জলাবদ্ধতার পানি ইসদাইরের খাল হয়ে বেড়িয়ে আসতে পারে। কিন্তু ইসদাইরে খাল খনন করা হলেও রেললাইনের পশ্চিম পার্শ্বে খাল খনন না করায় প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এই বিষয়ে নজর দেয়ার আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেনাবাহিনী এবং এলজিইডি’র পরিকল্পনাগুলো উত্থাপন করা হয়। এলজিইডির পক্ষ থেকে ১৭০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় ফতুল্লার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু ওই প্রকল্পটি এখনো পাশ হয়নি।

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডি নারায়ণগঞ্জ এর সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এবিএম খোরশেদ আলম দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘১৭০ কোটি টাকার যেই প্রকল্প আহবান করা হয়েছে, তা এখনো একনেকে পাশ হয়নি। এটা আন্ডার প্রসেসে আছে। আগামী মাসে এটা একনেকের বৈঠকে পাশ হতে পারে। গত এক বছর আগে থেকে আমরা এই প্রকল্প তৈরী নিয়ে কাজ করছি।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন