কুতুবপুর ইউনিয়ন আ’লীগ ঐক্যবদ্ধ, তৃণমূলে স্বস্তি
সাদ্দাম হোসেন শুভ
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২১, ০৭:৩৫ পিএম
# আমাদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল- জসিম উদ্দিন
# আমাদের মধ্যে বিবদমান সৃষ্টি করেন কিছু হাইব্রিড- খালেক
# একজন কর্মীর চাওয়া-পাওয়া বা সমস্যা পরিবারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ- মীরু
# যেখানে সেখানে একে অপরের সমালোচনা করা সমীচিন নয়- ইসহাক
সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মধ্যে বিবদমান অনৈক্য অবশেষে ঐক্যের পথে হাটতে শুরু করেছে। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে কুতুবপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে জ্যেষ্ঠ নেতারা একমঞ্চে উপস্থিত হন। এই উপস্থিতির মধ্য দিয়ে বহুল প্রতিক্ষিত সেই ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে নতুন চেহারায় দেখতে পেয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ও সমর্থকেরা। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। সেই ভুল বোঝাবুঝি এখন আর নেই। আমরা জাতে মাতাল তালে ঠিক। আমরা সবাই বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। এখন থেকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে সু-সংগঠিত করাসহ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম শামীম ওসমানের হাতকে শক্তিশালী করবো। তিনি আরো বলেন, আমাদের মধ্যে কোন ধরণের অনৈক্য নেই। অতএব দলের ভেতর যারা অনৈক্য সৃষ্টি করবে তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক মুন্সী বলেন, রাজনীতি একটি ব্রত। জনসেবার জন্য, দেশ সেবার জন্য এবং সবার সেবার জন্য। এটি মাথায় রেখেই সবার রাজনীতি করা প্রয়োজন। যারা রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা লাভের সোপান হিসেবে ব্যবহার করতে চায় বা প্রতিপত্তি লাভের সোপান হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তাদের স্থান আওয়ামী লীগে হওয়া উচিত নয়।
তিনি আরো বলেন, আমাদের মধ্যে বিবদমান সৃষ্টি তৈরী করেন কিছু নামধারী, হাইব্রিড, নব্যআওয়ামী লীগ নেতারাই। তাদের দিকে প্রত্যেকের সজাগ দৃষ্টি রাখারও আহবান জানান তিনি। কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মীর হোসেন মীরু বলেন, আওয়ামী লীগ একটি পরিবার। যারা সত্যিকার অর্থে এই দল করেন, তারা নিজের পরিবারের চেয়েও দলকে বেশি ভালবাসেন এবং দলকে বেশি সময় দেন। যারা রাজনীতিকে ব্রত হিসেবে নিয়ে দল করেন, তাদের কাছে একজন কর্মীর চাওয়া-পাওয়া বা সমস্যা পরিবারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।’
আমি নিজেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম ভাই এবং ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এইচ এম ইসহাক ভাইয়ের দিকনির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতেও এই ধরা অব্যাহত রাখবো। সবাইকে সাথে নিয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাবো 'ইনশাআল্লাহ'। ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগকে অভিনন্দন জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রেদোয়ান আহাম্মেদ নিনাদ বলেন, এক সময় নারায়নগঞ্জে খ্যাত ছিলো কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলিগের দুর্গ । দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দলের কারনে সেই দুর্গের দেয়ালে স্যাতস্যাতে শ্যাওলা পরতে শুরু করলেও ফাটল ধরার আগেই সম্প্রতি কোন্দল মিটিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ হওয়াতে আমি আওয়ামীলীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ পরিবারের সদস্য হিসেবে আমি দারুণ আশাবাদী। কুতুবপুর আওয়ামীলীগ পরিবারের সকলকে সাধুবাদ এবং অভিনন্দন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এইচ এম ইসহাক বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এবং মানুষের ভাগ্য পারিবর্তনের জন্য আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। জননেত্রী শেখ হাসিনা সে লক্ষেই দিবা-নিশি কাজ করে যাচ্ছেন। দলের মধ্যে যারা পোড় খাওয়া লোক, পরীক্ষিত লোক এবং বহু অভিমানী কর্মী আছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে নেতৃত্বে বসাতে হবে। অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন যারা বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে গেছেন, তারা দলের জন্য রক্ত, ঘাম, শ্রম এবং যৌবনের সোনালী দিনগুলো উৎসর্গ করেছেন, তাদেরও খোঁজ-খবর রাখা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, মনে রাখতে হবে, শত্রু সদা সজাগ। এজন্য দলের ঐক্য-সংহতি বজায় রাখতে হবে। যেখানে সেখানে একে অপরের সমালোচনা করা সমীচিন নয়। সমালোচনা হবে অভ্যন্তরীণ ভাবে দলীয় ফোরামে কিন্তু জনসম্মুখে নয়। তাহলেই আমাদের ঐক্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।


