কানাইনগরের প্রধান শিক্ষকের অর্থ-আত্মসাত ঘটনা তদন্তে সময় ৩ দিন
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২১, ০৮:০৪ পিএম
# তিন দিনের সময় চাইলো প্রধান শিক্ষক
# প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কিছুটা অনিয়ম পাওয়া গিয়েছে : শিক্ষা অফিসার
সদর উপজেলার বক্তাবলীর কানাই নগর ছোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ অর্থ আত্মসাতের তদন্ত করেন জেলা সরকারি তোলারাম কলেজের অধক্ষ্য বেলা রাণী সিংহ। গতকাল বুধবার দুপুরে বক্তাবলী কানাইনগর ছোনহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বাদী বিবাদীর সাথে সরেজমিনে গিয়ে এ তদন্ত করেন।
এসময় উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখেন তিনি। এর আগে ২০১৯ সনের মার্চ মাসে জেলা শিক্ষা অফিসার শরীফুল ইসলাম এঘটনার তদন্ত করেন। তখন তিনি বলেন, প্রায় ১ বছর আগে কানাইনগর ছোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই অভিযোগের পরিপেক্ষিতে তদন্ত করা হয়।
এবার একই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ বেলা রাণী সিংহ তদন্ত শেষে জানান, কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা এখানে জানতে পেরেছি কানাই নগর স্কুলে প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে যে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে তার কিছু কাগজপত্র দিয়েছেন। একই সাথে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। তখন আমরা বলেছি মানুষের আনা অভিযোগ যদি অসত্য হয় তাহলে তা সত্য প্রমানের জন্য সকল ডকুমেন্টসহ প্রমান দিতে হবে। কাগজপত্র সাবমিট করার জন্য কানাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদ হোসেন ৩ দিনের সময় নেন। তিনি বলেন, ৩ দিনের মাঝে যদি সঠিক কাগজপত্র দিতে পারে তা পর্যালোচনা করে রিপোর্ট জমা দেয়া হবে। আর যদি তিনি সঠিক তথ্য প্রমান না দিতে পারেন, তাহলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য বলে রিপোর্ট প্রদান করা হবে।
এদিকে সচেতন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনার প্রায় ৩ বছর হয়েছে। এতোদিন পরেও কেন তাকে সময় নিতে হয়। এতো দূর্নীতি করেও কি তিনি পার পেয়ে যাবেন? এর আগে এবিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে স্থানীয়বাসিন্দারা প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনের পদত্যাগের দাবীও জানিয়ে ছিলেন । মানব বন্ধনে প্রমাণ হিসেবে স্কুলের রশিদ ও ব্যাংক এ্যাকাউন্ট সহ নানা তথ্য-উপাত্ত্ব তুলে ধরেছিলেন। পরবর্তীতে জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক, মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, এডিসি শিক্ষাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা শিক্ষা প্রশাসনে।
এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্বে থাকা জেলা শিক্ষা অফিসার শরীফুল ইসলাম বলেন, তদন্ত অবস্থায় কোন কথা বলা যায় না। যারা অভিযোগকারি ছিল সরেজমিনে গিয়ে আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। তাদের সাথে র্দীঘক্ষন কথোপকথন করে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। সেই সাথে শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছি। রিপোর্ট দাখিল না হওয়ার পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। যে অভিযোগ গুলো উঠে আসছে, তাতে এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কিছুটা অনিয়ম পাওয়া গিয়েছে। বাকিটা রিপোর্ট দাখিল হওয়ার পরে বলা যাবে।


