# ফতুল্লার কোন ইউনিয়নেই ময়লার ডাম্পিং পয়েন্ট নেই
# নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ
# ময়লা নিয়ে বিপত্তিতে পরিচ্ছন্ন কর্মীরাও
ফতুল্লার আনাচে কানাচে তৈরী হচ্ছে গৃহস্থালী ময়লার স্তুপ। বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। নির্দিষ্ট ডাম্পিং পয়েন্ট না থাকায় সড়কের মোড়ে মোড়ে তৈরী হচ্ছে ময়লার ভাগাড়। এ যাবৎ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড সংলগ্ন জালকুড়ি এলাকায় ময়লা ফেলা হলেও সেখানেও বাঁধা দিচ্ছেন পার্শ্ববর্তী বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা। এছাড়া, লিংক রোড ছয়লেনে উন্নীত করণের কাজ চলমান থাকায় বর্তমানে লিংক রোডের পাশে আগের মত ময়লা ফেলা হচ্ছে না। তাই বিকল্প বা নির্দিষ্ট কোন ডাম্পিং পয়েন্ট না থাকায় পাড়ামহল্লাগুলোতে বিচ্ছিন্ন ভাবে ময়লা ফালানো হচ্ছে। এতে, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর সাহারা সিটির বালুর মাঠ সংলগ্ন রেল স্টেশন রোড, ফতুল্লা স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশের দেয়াল ঘেঁষা সড়ক, স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশের ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, খানিক এগিয়ে লামাপাড়া এলাকাস্থ লিংক রোডের বিভিন্ন স্থান, ফতুল্লা বাজার সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীর তীর, দক্ষিন সেহাচর এলাকার সামাদ হোসেনের বাড়ি সংলগ্ন ডোবা, পার্শ্ববর্তী ফরিদ মিয়ার খালি জায়গা, বায়তুল ফালাহ মসজিদ সংলগ্ন পুকুড়, উত্তর সেহাচর বালুর মাঠসহ বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু সড়কের মোড়ে মোড়ে ময়লার ভাগাড় তৈরী করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।
এর কারণ জানতে চাইলে স্থানীয়রা বলছেন, আগে নিয়মিত ময়লা নিতে লোক আসতো। মাসে ১০০ টাকা করে দেই। কিন্তু পরিচ্ছন্ন কর্মীরা এখন নিয়মিত ময়লা নিতে আসে না। এতে প্রায় সময়ই গৃহস্থালীর ময়লা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাই নিজ নিজ ঘর পরিস্কার রাখতে পার্শ্ববর্তী সড়কের পাশেই ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে নিত্য-নতুন তৈরী হচ্ছে একাধিক ময়লার ভাগার। গৃহিনী রোকসানা বেগম জানান, ‘আগে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নিয়মিত ময়লা নিতে আসলেও এখন নিয়মিত আসে না। ফলে ঘরে জমে থাকা ময়লা পঁচে-গলে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। ময়লা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে আশপাশে ময়লা ফেলতে হচ্ছে।’
এর কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিচ্ছন্নকর্মী দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন- ‘ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন স্থানের বিষয়ে আমরা জানি না। আগে ফতুল্লা স্টেডিয়াম সংলগ্ন লিংক রোডের পাশে ময়লা ফেলা হতো। সেখানে পার্ক তৈরী হওয়ায় লিংক রোড সংলগ্ন জালকুড়ি এলাকায় ময়লা ফেলা শুরু করি। কিন্তু সেখানে বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন করায় এবং বর্তমানে লিংক রোডের কাজ চলমান থাকায় আগের মত স্বাভাবিক ভাবে ময়লা ফেলা যায় না। তাই নিয়মিত ময়লা নিতে আসা হয় না। ময়লা নিয়ে ফেলবো কোথায়? আমরা ময়লা নিয়ে বিপত্তির মধ্যে আছি।’
ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন দৈনিক যুগের চিন্তাকে জানিয়েছিলেন, ‘ময়লা ফেলার জন্য ফতুল্লায় নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই। আমরা ফতুল্লার কোতালেরবাগ বাংলাদেশ খাদ নামক এলাকায় একটি জায়গা দেখেছিলাম। সেখানে ময়লা ডাম্পিং স্পট করার জন্য নারায়ণগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন স্যারের বরাবর আবেদন করা হয়েছিল।’ তিনি বলেন- ‘গৃহস্থালির ময়লা চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। নির্দিষ্ট কোন স্থান না থাকায়, বাসিন্দারা যে যেখানে পারছেন, সেখানেই ময়লা ফেলছে। আমার বাড়ির সামনেই ময়লার ভাগার তৈরী হয়েছে।’
এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমাদের এনায়েতনগরেও ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন জায়গা বা ডম্পিং পয়েন্ট নেই। বক্তাবলী ঘাট সংলগ্ন এলাকায় একটি পুকুর বাছাই করা হয়েছিলো ময়লা ফেলার জন্য। কিন্তু আশপাশের বাসিন্দারা বাধা দিচ্ছেন। তারা তাদের এলাকায় ময়লা ফেলতে দেবেন না। আমরা ময়লা ফেলার জন্য এনায়েতনগরে কোন জায়গা পাচ্ছি না। এই বিষয়ে জেলা বা সদর উপজেলা প্রশাসনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।’
কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেছিলেন- ‘আমাদের কুতুবপুরেও ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন স্থান নেই। বছর খানেক আগে সদর উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছিলেন। এখনও কোন উত্তর আসেনি। আমরাও নির্দিষ্ট কোন খাস জায়গা ব্যবস্থা করতে পারিনি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- ‘এই অবস্থায় ময়লার সৃষ্ট সমস্যা উত্তরণের উপায় দেখা যাচ্ছে না।’


