গোগনগরে হাইব্রিডদের নিয়ে বিব্রত তৃণমূল
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২১, ০৭:৪০ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ বিভক্ত হয়ে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলীয় এই বিভক্ত হওয়ার পিছনে নেপথ্যে কাজ করছে গোগনগরের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী। তার মাঝে একজন হচ্ছে গোগনগরের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত নওশেদ আলীর ভাই ও আওয়ামীলীগ নেতা ফজর আলী এবং আরেক জন হচ্ছেন সদর থানা আওয়ামীলীগে সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন।
একাধিক তৃনমুল নেতা জানান, ফজর আলী আওয়ামীলীগের হাইব্রিড নেতা। তিনি আগে কখনো আওয়ামীলীগ করেন নাই। এবার প্রাথমিক সদস্য হয়েছে। সামনে ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য তিনি এখন নিজেকে নেতা মনে করেন। সদর থানা আওয়ামীলীগের কমিটিতে সহ সভাপতি পদ নিতে ভালো টাকাও ঢালেন বলে জানান দলের একটি সুত্র। তা নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি তা অনুমোদন দেন নাই বলে তার এক বক্তব্যে স্পষ্ট করেন।
এদিকে গত কয়েক দিন ১৫ আগষ্ট শোক দিবস উপলক্ষে গত শনিবার গোগনগর ইউনিয়নে দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। একটি গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ব্যানারে অপরটি সদর থানার বেনারে পৃথক স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই সভায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকেরা উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূল নেতাদের তথ্যমতে সদর থানা আওয়ামীলীগের ব্যানারে গোগনগরের মসিনাবন্দ সমাজ কল্যান সংসদের সভায় কয়েকজন হাইব্রিড নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজর আলী সমর্থনকারী লোক বলে জানান তৃনমূল পর্যায়ের কয়েকজন নেতা কর্মী।
এদিকে গোগনগরে হাইব্রিডদের নিয়ে জেলার শীর্ষ নেতাসহ গোগনগরের কয়েকজন নেতা এক সভায় সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে। একই সাথে তাদের নিয়ে বিব্রত অনুভব করছে তৃনমূল নেতা কর্মীরা। বৃহস্পতিবার গোগনগরে এক সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, এত কাউয়া হাইব্রিড আগে কখনও দেখি নাই।দলের দুর্দিনে সকল কাউয়া আর হাইব্রিডদের মিছিল মিটিংয়ে খুঁজেও পাওয়া যায় নাই। কাউয়াদের ভীড়ে নৌকা ডুবে যাচ্ছে। আসলে তাদের আসল উদ্দেশ্য ক্ষমতা ভোগ করা। ছোট খাটো অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়া। তিনি জানান, এই হাইব্রিডরা দলে প্রবেশ করে জমি দখল, জুট সন্ত্রাসী করে বেড়ানো তাদের কাজ। দলের অনুপ্রবেশকারীরা এখন কাটা হয়ে গেছে। এদের না পারতাছি রাখতে আবার ফেলতেও পারছি না। জামাত বিএনপি থেকে এসে তারা আমাদের চেয়ে জোর গলায় জয় বাংলার স্লোগান দেয়। এদের থেকে সচেতন থাকতে হবে।
ওই সভায় একই ভাবে গোগনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, দলের কিছ অসাধু নেতা কাউয়া হাইব্রিডদের পদে বসানোর জন্য উঠে পরে লেগেছে। যারা দুর্দিনে রাজ পথে মিছিল মিটিং করেছে তাদের মূল্যায়ন না করে অন্যদের বসানো হলে আমরা তা মেনে নিবো না। যে ব্যক্তি নাকি কখনো আওয়ামীলীগ করে নাই ওই ব্যক্তি এখন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সেক্রেটারি হতে চায়। এত বড় দুঃসাহস তাদের হয় কি করে। কিছু অসাধু ব্যক্তি নেতা হয়ে টাকার বিনিময়ে সদর থানা ও ইউনিয়নে কয়েকজন কাউয়া হাইব্রিডদের পদ পদবী দেয়ার চেষ্টা করছে। আওয়ামীলীগ এত সস্তা না। হাইব্রিডদের দলে জায়গা দেয়া হলে আমরা তাদেরকে মেনে নিবো না। তাদের বক্তব্যের একই দাবী জানান গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম।
অন্যদিকে গোগনগর ইউনিয়নের আলোচনা সভায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে বলেন, হাইব্রিড আওয়ামীলীগাররা দলীয় ঐক্য নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাঁদের প্রতিহত করতে হবে। হাইব্রিড আওয়ামীলীগাররা বিএনপি জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দলে অনুপ্রবেশ করেছে। তাঁরা দলীয় ঐক্য নষ্ট করতে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছে। আওয়ামীলীগ কারো টাকায় চলে না। কেউ যদি মনে করে দুই একজন নেতাকে টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়ে সে বড় নেতা হয়ে যাবে তাহলে তিনি ভুলের মাঝে আছে। আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র আছে। তার বাইরে কেউ যেতে পারবে না। ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও সাংগঠনিক দূরত্ব হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে দলের ভেতর ও বাইরের কিছু নাধারী নেতা বনে যাওয়া ব্যক্তি। যার প্রভাব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর। এই পরিস্থিথির জন্য গোগনগর ইউনিয়নের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দায়ী করছেন। তাদের সাথে রয়েছে সদর থানার আওয়ামীলীগের সভাপতি নাজির মাদবর এবং সেক্রেটারি আল মামুন।


