সোনারগাঁয়ে হোসেনপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় দুর্নীতির আখড়া
আশরাফুল আলম
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২১, ০৬:৩২ পিএম
সোনারগাঁ উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় যেন অনিয়ম দুর্নীতির আখড়া। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঠিক নজরদারীর অভাবে হোসেনপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে হরহামেশা চলছে অনিয়ম দূর্ণীতির মহাউৎসব। তাছাড়া উপ-সহকারী তহসিলদার আনোয়ার হোসেনের দাপটে অসহায় হোসেনপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে নামজারী, জমাভাগ ও খাজনা পরিশোধ করতে আসা সেবা গ্রহিতা সাধারন মানুষ।
ইউনিয়ণ ভূমি কার্যালয়ে কর্মরত প্রতিটি কর্মকর্তার চেয়ারের পাশে ফেস্টুন আকারে দেয়ালে সাটানো রয়েছে সমস্যা আপনার সমাধানের দায়িত্ব আমাদের। ভূমি সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা নিয়ে সরাসরি কথা বলুন তহসিলদারের সঙ্গে। এছাড়া সেবা প্রার্থীদের সচেতন করার লক্ষে ফেস্টুনে আরো লিখা রয়েছে নিজের কাজ নিজে করুন, দালাল ও প্রতারক চক্র থেকে দুরে থাকুন। এ যেন ভূতের মুখে রাম নাম। আসলে দেয়ালে সাটানো লিখার বাস্তব কোন ভিত্তি নেই। ভেতরে দেখা যায় অন্য চিত্র, এখানে অনিয়মই হল আসলে নিয়ম।
সরেজমিন হোসেনপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তহসিলদার আতাউর রহমানের কোন রকম কর্তৃত্ব নেই। তিনি যেন ঠুটু জগনাথ। তার অধিনস্থ্য কর্মচারী উপ-সহকারী তহসিলদার আনোয়ার হোসেন, সেলিম মিয়া ও রূপালী আক্তার সারাক্ষন তার উপর দায় চাপিয়ে প্রাধান্য বিস্তার করছে হোসেনপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে।
তাছাড়া সব রকমের ঘুষ লেনদেনের কাজ করেন এই তিন জন মিলে। উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে গড়ে উঠা বিভিন্ন শিল্প মালিকদের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়োগকৃত প্রতিনিধি ও অসাধু কয়েকটি দালাল চক্রের কারনে সাধারন মানুষের কথা শুনার সময় নেই তাদের কাছে। ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে এমন দৃশ্যও চোখে পড়ে ভূমি কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত শিল্প মালিকদের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়োগকৃত প্রতিনিধি ও অসাধু দালাল চক্রের সদস্যদের জন্য খাবার পরিবেশনসহ আদর আপ্পায়নের কোন কমতি নেই। আপ্পায়নের ধরন দেখলে মনে হয় প্রতিনিধি ও দালাল চক্রের সদস্যরা তাদের কাছে যেন ডিম পাড়া হাঁস।
গতকাল রবিবার দুপুরে হোসেনপুর ইউনিয়ণ ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, উপ-সহকারী তহসিলদার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে নামজারী, জমাভাগ নিয়ে ভূক্তভোগী একজন ব্যক্তির অশালীন ভাষায় বাকবিতন্ডা হয়। ভূক্তিভোগী ব্যক্তির অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র সব কিছু ঠিকঠাক মত দাখিল করার পরেও শুধুমাত্র দাবিকৃত ঘুষের টাকা না পেয়ে একটি নামজারী করতে ৬ মাস সময় ধরে কোন রকম কার্যক্রম চালায়নি উপ-সহকারী তহসিলদার আনোয়ার হোসেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ভূক্তভোগী ব্যক্তি তহসিলদার আতাউর রহমানকে অবগত করলে তিনি কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি। নানা অযুহাত দেখিয়ে পরে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের।
উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের তাতুয়াকান্দি এলাকার বাসিন্দা ভূক্তভোগী ইদুন আলী বলেন, গজারিয়াপাড় মৌজায় আমার প্রত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হইয়া ১৫ শতাংশ জমি নামজারী করার জন্য হোসেনপুর ইউনিয়ণ ভূমি কার্যালয়ে নামজারী আবেদন জমা দিয়েছি। ভূমি কার্যালয়ের লোকজন আমার কাছে নামজারী কাজের জন্য ঘুষ বাবৎ অনেক টাকা পয়সা চায়। আমি ঠিকমত ঘুষের টাকা না দেওয়ায় ৬ মাসের অধিক সময় আমার নামজারী তারা কোন কাজই করে নাই।
দুধঘাটা এলাকার বাসিন্দা ভূক্তভোগী আক্তার হোসেন শিকদার বলেন, আমি জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র তেমন বুঝিনা বিধায় কোন এক ব্যক্তির মাধ্যমে দুধঘাটা মৌজায় একটি জমির নামজারী করার জন্য জমা দেই। দীর্ঘ ৬ মাস সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আমি নিজে নামজারীর খোঁজ খবর নিতে হোসেনপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে যাই। ভূমি কার্যালয়ে কর্মরত লোকজনের দাবীকৃত ঘুষের টাকা না দিতে পারায় তারা কোন কাজই করেন নাই। তিনি আরো বলেন, আমার মত আরো অনেক সাধারন মানুষ তাদের ঘুষ বানিজ্যের কারনে অহরহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
এবিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি গোলাম মোস্তফা মুন্নার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


