দেওভোগের আলোচিত সেই ফরিদ আহমেদ চাকুরি পেয়েছে। করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া নিজের হোসিয়ারি (গেঞ্জি) কারখানা চালু করতে পারেননি ফরিদ তাই অন্য একটি কারখানায় চাকরি নিয়েছেন। চোখের জ্যোতি কম, বয়সের কারণে ভারী কাজও করতে পারেন না। তাই কাজ নিয়েছেন পলিম্যান হিসেবে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ নাগবাড়ী এলাকায় এ এম আবুল হোসিয়ারি নামে কারখানাটিতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়। সেখানে উৎপাদিত পোশাক প্যাকেট করছিলেন ফরিদ আহমেদ। অতীতকে ভুলে গিয়ে মাসে ৯ হাজার টাকা বেতনে এই চাকুরি তার। সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট নয় কোনোমতে, তবে তিন বেলা ডালভাত খেয়ে বাঁচা যাবে, এই দুঃসহ সময়ে এটাই তার কাছে অনেক কিছু।
৩৩৩ নম্বরে ত্রাণ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে উল্টো ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা হয় ফরিদ আহমেকে। তার বাড়িতে গিয়ে অবস্থা দেখে শাস্তির ঘোষণা দেন ইউএনও আরিফা জহুরা। ইউএনওর বরাত দিয়ে এই সংবাদ গণমাধ্যমে এলে পাঠকরা ফরিদকে গালমন্দ করে। কিন্তু ২৫ মে ত্রাণ বিতরণের দিন তার জীবনকাহিনি প্রচার হওয়ার পর তোলপাড় পড়ে যায় জেলা জুড়ে।
ফরিদ বলেন, স্ত্রী, মেয়ে ও প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে এখন অনেক ভালো আছি। তবে ঘটনার পর থেকে আত্মীয়স্বজনরা আগের মতো যোগাযোগ করে না। কিন্তু তারপরও অনেক ভালো আছি। ত্রাণ বিতরণের পর দিন বাসায় প্রশাসনের লোকদের আনাগোনার বিষয়ে ফরিদ বলেন, তারা দেখছে আমার প্রতিবন্ধী ছেলেটারে। তাই যাওয়ার সময় কইছিল, আমাগো সহযোগিতা করব। কিন্তু তারা যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করে নাই।
ফরিদ আহমদকে সাহায্যের আশ্বাসের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, ফরিদ আহমদ একজন বৃদ্ধ মানুষ। তিনি জেলা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন বিধায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র দিলে তাকে সহায়তা করা হবে।


