Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বন্দর আ’লীগের নাটাই ওসমান পরিবারের হাতে

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২১, ০৯:২৪ পিএম

বন্দর আ’লীগের নাটাই ওসমান পরিবারের হাতে
Swapno

বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নয় জাতীয়পার্টি ও ওসমান পরিবারের ছায়াতলে বিলীন হয়ে গেছে বন্দর আওয়ামী লীগ। বন্দরের ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের কাঁধে ভর করে আকাশে উড়ছে সুবিধাবাদি (কাউয়া) ও স্বার্থপর এসব নেতৃবৃন্দ। আর তাদের সুতা ও লাটাই এখন সম্পুর্ণভাবে জাতীয়পার্টি এবং ওসমান পরিবারের হাতে। দলকে নয় তারা সর্বদা ব্যস্ত থাকে ওসমান পরিবারকে খুশি করতে।

 

এক সময়ে বন্দরে যারা আওয়ামী লীগের বনেদী সমর্থক ছিল বলে দাবি করেন, তাদের অনেকেই এখন ওসমান পরিবারকে খুশি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য জাতীয় পার্টির কাছে নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছেন। আর যারা এখনো বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শকে ধারণ বা বহন করছে তারা ঐসব সুবিধাবাদিদের দ্বারা ক্ষণে ক্ষণে নিষ্পেশিত হচ্ছে। এমনকি এলাকার যেসব মাদক ব্যবসায়ী, ঘুষখোর, সুদখোর কিংবা চুরি বাটপারি চক্রের সদস্য যাদেরকে সাধারণ মানুষও পাত্তা দিত না, খুব ছোট নজরে দেখতো, তারা এখন ঐসব সুাবিধা বাদিদের লাঠিয়াল হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। এদের মধ্যেও আবার কেউ কেউ উপরের সারির নেতাদের চাটুকারিতায় তাদের প্রিয় ভাজন হয়ে স্থানীয়ভাবে তারা কত বড় মাপের নেতায় পরিণত হয়েছে তা জাহির করতে প্রকৃত ত্যাগী ও তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে, পদে পদে অপমানিত করছে।


 
বন্দরের সর্বোচ্চ লেবেল থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ার্ডের স্থানীয় পর্যায়ের এসব নেতৃবৃন্দ ত্যাগী ও পোড় খাওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীদের পরিহার করছে। ওসমান পরিবারের বাহিরে কোন দলীয় কার্যক্রমে তাদের উৎসাহ নেই। জাতীয়পার্টির স্থানীয়পর্যায়ের অনুষ্ঠানে তারা স্বাচ্ছন্দে অংশগ্রহণ করতে পারলেও প্রকৃত আওয়ামী লীগের কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে তাদের স্বার্থে লাগে। যার ফলশ্রুতিতে বন্দরের ইউনিয়ন পর্যায়ের কিংবা সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাফল্য না আসলেও আসে জাতীয়পার্টি কিংবা কাউয়াবাদি আওয়ামী লীগের সাফল্য।

 

বন্দরে আওয়ামী লীগের টপ লেবেলের নেতৃবৃন্দকে জনকল্যাণমূলক কোন কাজে দেখা না গেলেও, জেলা পর্যায়ের নিজ দলের মিটিং মিছিলে দেখা না গেলেও, ওসমান পরিবারের কোন সাধারণ অনুষ্ঠানেও তাদেরকে চাটুকারিতা করতে দেখা যায় ঠিকই। তারা কেউ সরাসরি জাতীয় পার্টি সমর্থিত স্থানীয় সাংসদ হিসেবে সেলিম ওসমানের চাটুকারিতা করছে, আবার যারা জাতীয়পার্টিকে সরাসরি সমর্থন করতে একটু লজ্জা বোধ করছেন তারা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের নাম ভাঙাচ্ছেন। মোট কথা সুবিধা ও কাউয়াবাদিরা কোন না কোনভাবে ওসমান পরিবার কেন্দ্রিক রাজনীতির মধ্যে আওয়ামী লীগকে বিলীন করে দিচ্ছে।

 

এতে করে তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে আলাদীনের আশ্চর্য্য প্রদ্বীপ চলে এসেছে। এখন থেকে এক যুগ আগেও যাদের নুন আনতে পানতা ফুরাতো এখন তারা আলিসান বাড়িসহ বিশাল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। আর তাদের ক্ষমতা ? তাতো অফুরান্ত। অর্থ, প্রশাসন, রাজনীতি এখন তাদের পকেটে। তাদের আর ধরে কে? তারা বুঝে গেছেন, দাপট দেখাতে হলে বা শর্টকাটে বিস্তর অর্থের মালিক হতে হলে হয় তাহলে সমর্থন প্রয়োজন শামীম ওসমান কিংবা সেলিম ওসমানের, আর যদি এই দুইজনের একজনকেও না ধরা যায় তাহলে ওসমান পরিবারে তাদের পরের প্রজন্মের আজমেরী ওসমান কিংবা অয়ন ওসমান। মোট কথা ওসমান পরিবারের কারো সাথে বা তাদের যোগাযোগ আছে এমন কারো সাথে তাদের সখ্যতা গড়ে তুলতে হবে। তাহলে চাঁদাবাজি, মাসোয়ারা, সম্পত্তি দখল, টেন্ডার দখল, অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য, এলাকার মাদক স¤্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতাসহ শর্টকাটে অর্থ উপার্জনের একাধিক পথ তাদের জন্য খুলে যাবে।


 
এসব কারণে বন্দরে বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে, ওসমান পরিবারের নাম এখন স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিদের মাইন্ডে সেট-আপ হয়ে গেছে। সেখানে এমনও দেখা যায়, ওসমান পরিবারের সাথে তাদের কোন সম্পর্কও নেই বা ওসমান পরিবারের কেউ তাদের নাম ঠিকানাও জানে না, অথচ ওসমান পরিবারের কোন সদস্যের সাথে ঘনিষ্ঠতা আছে বলে মিথ্যে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তারা বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও ভাবে তারা যদি সত্যিকার অর্থে ওসমান পরিবারের কারো কাছের লোক হয়ে থাকে আর তাদের যদি টাকা পয়সা না দেওয়া হয়, তাহলে তাদের ব্যবসার বারোটা বেজে যাবে। অনেকে শুধু এই ভয়েই ঐসব ভূয়া সুবিধাবাদি নেতাদেরও দাবিকৃত টাকা পয়সা দিয়ে দিতে বাধ্য হয়। আর এ ধরণের শর্টকাট পদ্ধতিতে উপার্জনের জন্য কাউয়া নেতারা ওসমান পরিবারের প্রভাব খাটিয়ে তাদের আখের গোছাতে পারবে বলে তারা সহজেই সেদিকে ঝুকছে।


 
সামনেই নির্বাচন। এ সময় স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কিংবা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য যেখানে নিজ দলের প্রার্থীদের জয়ী করার বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে জেলা আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে বসে আলাপ আলোচনা করার কথা। সেখানে বন্দর আওয়ামী লীগের টপ লেবেলের নেতাদের স্থানীয় কোন ত্যাগীদের সাথে নিয়ে তৃণমূলকে সংগঠিত করার কথা, সেখানে দেখা যায় তারা জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমানের সাথে জাতীয় পার্টি ও রাজাকারের বংশধরদের সাথে বসে তাদেরকে কীভাবে নির্বাচিত করা যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা করতে। এইসব নেতৃবৃন্দের এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের যারা প্রকাশ্যে হত্যা করে তাদেরই পৃষ্ঠপোষকতা করছে তারা।

 

এর আগেও বন্দরের বিভিন্ন নির্বাচনে শুধু মাত্র নিজের স্বার্থের জন্য নিজেদের অনুগত হওয়ায় এই সব সুবিধাবাদি নেতাদেরকে জাতীয়পার্টিসহ বিভিন্ন রাজাকারদের নির্বাচিত হতে ভূমিকা রাখতে দেখা যায়। তারা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করলেও জনগণের কোন উপকারে নিজেদের কখনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই বিষয়ে তাদের একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও তাতে তাদের কিছু আসে যায়নি। কারণ, কিছু (টাকা ও ক্ষমতা) কামাইতে হলে কিছু (মান-সম্মান) দিতে হয় এই ছবকটা তারা বেশ ভাল করেই জব্দ করেছে। কিছু কিছু জায়গায় শুধু মাত্র সরকারের রুটিন ওয়ার্কে নিজেদের জাহির করার জন্য উপস্থিত হন তারা। অথচ এসব নেতা এবং তাদের ভাই ভাতিজাদের ভান্ডার শুধু ফুলে ফেঁপেই উঠছে। এরা কখনো বঙ্গবন্ধু’র হতে পারে না, দলের হতে পারে না, জনগণের হতে পারে না, তারা শুধুই নিজের।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন