নির্বাচন মানেই এক ধরনের টানটান উত্তেজনা। নির্বাচন মানে এক ধরনের আনন্দ, আর তা যদি হয় স্থানীয় নির্বাচন তাহলে তার ইমেজ আরেকটু বেড়ে যায়। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার ১’শটিরও বেশি ইউপি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। আর ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েকদিন যাবৎ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলছে নানা আলোচনা চেয়ারম্যান প্রার্থী থেকে শুরিু করে মেম্বার প্রার্থীদের নিয়েও শুরু হয়েছে চায়ের দোনে ঝড় তোলা।
ইতিমধ্যে ফতুল্লার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিশেষ করে মেম্বার প্রার্থী নতুন মুখ, আগামী নির্বাচনের বৈতরনী পাড় হতে স্থানীয় ও থানা পর্যায়ের আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে বাড়িয়ে দিয়েছেন যোগাযোগ। তবে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করলেও মেম্বার পদ প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি সরকারী দলের লোক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে পছন্দ করছেন। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের ম্যানেজ করতে ইউপি মেম্বার প্রার্থীরা শুরু করেছেন নানা দৌড়ঝাঁপ।
পাশাপাশি ফতুল্লার ৫টি ইউপিতেও চলছে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়ন পেতে বিভিন্ন স্থানে ছোটাছুটি । ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবে একাধিক, বাকি দুটিতে যাতে অন্য কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সেজন্য এখন থেকেই চলছে নানা ধরনের চেষ্টা। তবে শেষ পর্যন্ত ফতুল্লার ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচন কোন দিকে গিয়ে দাড়ায় তা নিয়েও চলছে নানা হিসেব নিকেষ।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা,এনায়েতনগর,কাশিপুর, কুতুবপুর ও বক্তাবলী ইউপিতে গেল ইউপি নির্বাচনে নানা নাটকীয় ঘটনা দেখা গিয়েছে। যদিও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের পাশাপাশি বিএনপি বা স্বতন্ত্র থেকে প্রার্থীরা ছিল। তবে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার বেলায় বিএনপি থেকে যারা দলের মনোনয়ন দিয়েছিলেন তারা তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দেননি,আবার অনেকে জমা দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ উঠেছিল। বিএনপির অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নাটক করারও অভিযোগ খোদ নিজ দলের লোকজনদের। তবে এবার ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়নের ৩টিতে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী হওয়ার আশাবাদ ব্যাক্ত করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে নৌকার টিকিট উঠে তা দেখার বিষয়। কাশিপুর ও বক্তাবলী ইউপিতে নৌকার প্রতীক প্রাপ্তিতে বর্তমান চেয়ারম্যান যারা রয়েছেন,দলের মধ্য থেকে তাদের প্রতিপক্ষ অন্য কোন প্রতিদ্বন্ধি নেই বল্লেই চলে। নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া সূত্র মতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চার হাজারেরও বেশি ইউপিতে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে।
সূত্রের দাবী, বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক মেম্বার প্রার্থী রয়েছে। তবে নতুন মুখের প্রার্থীরা এতিমধ্যে প্রভাবশালী নেতাদের আশির্বাদের জন্য গোপনে তদ্বির শুরু করে দিয়েছেন। অপরদিকে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বাররাও চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের তদ্বির। ফতুল্লার প্রতিটি ওয়ার্ডে মহিলা প্রার্থীরা থানা আওয়ামীলীগ থেকে শুরু করে জেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন। আগামী অক্টোবরের মধ্যে ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের মনোনয়ন বিষয়টি সম্পন্ন করার সম্ভাবনা রয়েছে। নৌকার টিকেট হাতে পাওয়ার পর প্রার্থীরা মাঠে নামবেন।
তবে ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থীতার ব্যাপারে সাংসদ শামীম ওসমানের দিকে তাকিয়ে আছেন অনেকে। কারন তাঁর আশির্বাদ যিনি পাবেন তিনিই আওয়ামীলীগের নৌকার টিকেট পাবেন। তবে সাংসদ শামীম ওসমানের আশির্বাদ বা তাঁর সম্মতি কেন্দ্রে বর্তমানে কতোটা গ্রহণ যোগ্য হবে তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। সূত্রের দাবী, গেল কয়েক মাস আগেই গোয়েন্দারা বিভিন্ন এলাকায় বর্তমান চেয়ারম্যানদের নানা রকম কার্যক্রম ও জনগনের সাথে তাদের সম্পর্কের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে কাজ করেছেন। শেষ পর্যন্ত ফতুল্লায় নৌকা,ধানের শীষ বা লাঙ্গলের টিকিট কার কপালে জোটে তা এখন দেখার বিষয়।


