Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

চলছে সল্টু রাসেলের মাদক স্পট

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২১, ০৯:৪৮ পিএম

চলছে সল্টু রাসেলের মাদক স্পট
Swapno

ফতুল্লার আলীগঞ্জে জমে উঠেছে হেরোইন বেচাকেনার কয়েকটি স্পট। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের মাদকের হটস্পট হিসেবে পরিচিত চাঁদমারী বস্তি উচ্ছেদ হওয়ার পর থেকেই মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা দ্বিতীয় চাঁদমারীতে পরিণত করছেন আলীগঞ্জকে। শুধু তাই নয়, মাদক বেচাকেনার হটস্পট হিসেবে এই অঞ্চলকে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করছেন।

 

গুটিকয়েক মাদক ব্যবসায়ীর কাছে এলাকাবাসী জিম্মি। হরহামেশাই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ভয়ংকর মাদক। কোন অদৃশ্য ইশারায় নীরব ভুমিকা পালন করেছেন এখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। এমন নীরবতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আলীগঞ্জ এলাকার শীর্ষ মাদক সম্রাট রাসেল ওরফে সল্টু রাসেল, স্ত্রী কবিতা তার সহযোগি খোকন ওরফে খোকা, হোসেন ওরফে পিচ্চি হোসেন ও সেলিমদের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন মাদক বেচাকেনার একাধিক স্পট।

 

সেই মাদক স্পটগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে দেখা যায় এই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সল্টু রাসেলকে। নিজেকে কখনও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী, কখনও একাধিক অপারেশন রোগী, কখনওবা হিরোইনছি, সেই সুবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এলাকার স্থানীয়  লোকজন তাকে উচ্চস্বরে ধমক দিতেও ভয় পান। আসলে এইসব নাকি তার সাজানো নাটক, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার আরেকটি কৌশল মাত্র। আলীগঞ্জ স’মিল রোড এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে তার নিজস্ব বাড়ীতে বসে থেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করছেন সল্টু রাসেল। এই বিশাল মাদক ব্যবসার পরিচালনা করতে রয়েছে বেতনভুক্ত বিশ্বস্ত কয়েকজন সহযোগি।

 

শুধুকি তাই, রয়েছে প্রতিটি স্পটে কমিশন ভিত্তিক সেলসম্যান। সকাল থেকে আলীগঞ্জের তিন রাস্তার মোড়, আলীগঞ্জ রেললাইনের আশপাশের এলাকায় সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছেন আরেক অন্যতম মাদক ব্যবসায়ী খোকন ওরফে খোকা। আলীগঞ্জ পূর্বপাড়ায় রয়েছেন হোসেন ওরফে পিচ্চি হোসেন। অনুসন্ধান সূত্রে জানাযায়, ভোর সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আলীগঞ্জের এই তিনটি মাদক স্পটে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার হেরোইন বিক্রি হয়ে থাকে।

 

অনুসন্ধানে আরও জানাযায়, নারায়ণগঞ্জ চাঁদমারী বস্তি উচ্ছেদ করার পরথেকেই আলীগঞ্জ পরিণত হয় মাদকের জন্য দ্বিতীয় আরেক অভিশপ্ত চাঁদমারী, এখানে হরহামেশাই জমজমাট হয়ে উঠে মাদকসেবিদের আনাগোনা। ভোর সকালে আলীগঞ্জ রেললাইনের পশ্চিমে একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, একজন মানুষকে অনেক মানুষ ঘিরে রেখেছে, আরেকটু সামনে এগোলে নিজ চোখে দেখতে পারবেন প্রকাশ্যে হেরোইন বেচাকেনার হিড়িক। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, যারা আমাদের সমাজকে প্রকাশ্যে ক্ষতি করছে তাদের এমন কর্মকান্ডে আমরা মুখবুঝে সহ্য করছি, নিজেদের সামান্য সল্পলাভের আশায় ধ্বংস করে দিচ্ছি এই সুন্দর সমাজ ব্যবস্থাকে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে পুলিশ প্রশাসন, সংবাদকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও পুলিশের সোর্সদের ম্যানেজ করেই নাকি চালাচ্ছেন মাদকের বিশাল স্পট। এই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রাসেল ওরফে সল্টু রাসেলকে প্রায় সময় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা যায় বলেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাই থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনার আগেই সংবাদ পেয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ীরা। সেই সুবাদে চিহ্নিত মাদক স¤্রাটরা  থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্থানীয় সচেতন অভিভাবক মহলের দাবি আলীগঞ্জ এলাকার মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে অতিদ্রুত মাদক বিরোধী সাড়াশি অভিযানের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মাদক মামলার আসামি রাসেল ওরফে সল্টু রাসেল ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আমাদের আলীগঞ্জকে মাদক মুক্ত করবেন।

 


এবিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান যুগের চিন্তাকে বলেন, মাদকব্যবসার সাথে যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই জড়িত থাকুক কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা। আগের তুলনায় এখন মাদক ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে, অনেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসাও হয়েছে। যেসব এলাকায় মাদকব্যবসার বিস্তৃতির খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। এটি অব্যাহত থাকবে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন