Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

সদর থানা সেক্রেটারি আল মামুনের আবিষ্কার মোসলেহউদ্দিনের পদ অবৈধ!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২১, ০৭:৫৮ পিএম

সদর থানা সেক্রেটারি আল মামুনের আবিষ্কার মোসলেহউদ্দিনের পদ অবৈধ!
Swapno

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুজন নিয়ে দৈনিক যুগেরচিন্তা পত্রিকায় একই পদে দুজন ভারপ্রাপ্ত সংবাদ শিরোনাম প্রকাশিত হওয়ার পরে নেতারা নড়েচড়ে বসেছেন। এই ঘটনা নিয়ে ইউনিয়নের নেতা কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই সাথে নিন্দা জানান।

 

পাশাপাশি একাধিক নেতা কর্মী জানান, মোসলেহ উদ্দিন গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অবৈধ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। তাকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার আল মামুন আবিষ্কার করেছে বলে নেতা কর্মীদের অভিযোগ। তিনি স্বার্থবাদী কিছু নেতার কাছে এই পদ দারী হতে পারে, কিন্তু ক্ষমতাসিন দলের জন্য তার এই পদ ব্যবহার বৈধতা নেই বলে জানান একাধিক নেতা কর্মী। বিএনপির আমলে সিবিএ নেতা থেকে এখন আওয়ামীলীগের নেতা বনে যেতে চান। জেলার শীর্ষ পর্যায়ের হাই কমান্ড জানান দলের গঠনতন্ত্রের বাহিরে গিয়ে মোসলেহ উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিয়োগ দেয়ার এখতিয়া কারো নেই।

 

এদিকে গোগনগর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের আয়োজনে ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার শহীদদের স্বরনে দুটি আলোচনা সভা হয়। একটি ১৯ আগষ্ট আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গোগনগর ইউপি আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজ মাষ্টার এবং অপরটি ২৪ আগষ্ট আলোচনা সভার বেনারে উল্লেখ্য থাকে সভাপতিত্ব করেন ওই ইউপি আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন। ক্ষমতাসিন দলের এবং দলের বাহিরে মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠে আসলে কে সঠিক। অন্যদিকে কয়েকজ নেতা জানান, মোসলেহ উদ্দিন বিএনপি সরকারের আমলে জনতা ব্যংাক শ্রমিক দলের সিবিএ নেতা ছিলেন। তিনি হঠাৎ করে উরে এসে গোগনগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেন কবে। তাকে কেই বা বানালো।

 

জেলা আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতা জানান, ইউনিয়ন, থানা বা জেলা আওয়ামীলীগের কমিটির সভাপতি পদে থাকাবস্থায় কোন ব্যক্তি যদি ওই পদ থেকে সরে যান বা ইন্তেকাল করেন তখন ওই পদে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র সহ সভাপতি পদে থাকা ব্যক্তি সভাপতি হবেন। অথবা কমিটির ব্যক্তিরা আলোচনার মাধ্যমে সিনিয়র সহ সভাপতি দায়িত্ব নিতে না পারলে তার পরের জন হবে। কিন্তু দলের গঠনতন্ত্রের বাহিরে গিয়ে কেউ চাইলেই সভাপতি সেক্রেটারি হতে পারবে না। তা ভারপ্রাপ্ত হউক বা অন্য কোন পদ হউক।এই ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসিন দলের নেতা কর্মীরা নিন্দা প্রকাশ করেন। গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কমিটি গঠিত হয় ২০০৩ সনে। তখন সভাপতি হন মুক্তিযোদ্ধা নাজির মাদবর ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন আজহারুল ইসলাম।

 

পরে ২০১৯ সনের সদর থানা সম্মেলনে নাজির মাদবর থানা সভাপতি নির্বাচিত হন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মিটিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা করে গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আজিজ মাষ্টারকে সভাপতি করা হয়। কিছু দিন আগে সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনকে নিয়ে বিতর্ক তৈরী হয়। তখন সদর থানা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে ও স্বজনপ্রীতি করে কিছু ব্যক্তির নাম দেয়া হয় বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। এখন নতুন করে আবার বিতর্কে জড়িয়ে পরলেন এই নেতা। সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নাজির মাদবর বলেন, কিছু নেতা আছে অতি উৎসাহিত হয়ে এই ধরনের কাজ করছে। তাদের অতি উৎসাহের কারনে আমাদের দলের দূর্নাম সহ্য করতে হয়। আমাদেরও বদনাম হয়। আমার জানামতে গোগনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজ মাষ্টার।

 

আল মামুন বলেন, মোসলেহ উদ্দিন আহম্মেদকে আমরা অনেক আগে গোগনগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি। আমার নেতা আমাকে যে ভাবে হুকুম দিয়েছে আমি সে ভাবে দায়িত্ব পালন করছি। সদর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন জানান, কিছু ব্যক্তির কারণে দলের দুর্নাম হয়। তারা হাইব্রিডদের দলে প্রবেশ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। দলের গঠনতন্ত্রের বাহিরে গিয়ে কেউ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিয়োগ দিতে পারে না। এটা আওয়ামীলীগ। কোন সস্তা পন্য নয় কইলেই হয়ে গেল। গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজ মাষ্টার বলেন, হাইব্রীডরা মাথা চারা দিয়ে উঠতে শুরু করেছে।তারা দলের মাঝে বিশ্ঙৃখলা সৃষ্টি করছে। উইরা এসে জুইরা বসে মোসলেহ উদ্দিন কিভাবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয় তা আমার জানা নেই। গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কমিটি থেকে নাজির মাদবর পদত্যাগ করার পর আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

 

গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা নাজির মাদবর গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করার পর ওই ইউপি আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আজিজ মাষ্টারকে আলোচনার মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। দলের গঠনতন্ত্রের বাহিরে গিয়ে কবে মোসলেহ উদ্দিনকে তারা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিয়োগ দিল আমার জানা নেই। যদি দিয়েও থাকে তা অবৈধ হবে। মোসলেহ উদ্দিনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হওয়ার কোন বৈধতা নেই। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, দলের গঠন তন্ত্র অনুযায়ী গোগনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজ মাষ্টার। থানার নেতা আল মামুন কাউকে নিয়োগ দিতে পারে না।তার এখতিয়ার নেই।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন