Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

সোনারগাঁয়ে উত্তাপ, নেপথ্যে কে?

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২১, ০৮:৪৩ পিএম

সোনারগাঁয়ে উত্তাপ, নেপথ্যে কে?
Swapno

# সোনারগাঁ আ’লীগ এক কাতারে দাঁড়িয়েছে : কায়সার
# ব্যাকফুটে চলে গেছে ডা. বীরু, বাদলে হতাশ তৃণমূল
# জাতীয় পার্টির সাংসদও আ’লীগকে দ্বিখন্ডিত করতে কলকাঠি নেড়েছে

 

আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের রাজনীতি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই বিভক্তি সৃষ্টিতে জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ন পদধারী কতিপয় নেতার কারিশমা এবং জাতীয় পার্টির এক সাংসদের পরোক্ষ মদদ রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। 


সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, সোনারগাঁয়ে বিভক্তি তৈরীর মাধ্যমে একটি পক্ষের কাছ থেকে সুবিধা ভোগ করছে জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় চতুর নেতা। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির সাংসদ ওই বিরোধ বা বিভক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাঠ খালি রাখার চেষ্টা করছেন। এতে, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগি অংশটির সাময়ীক স্বার্থ হাসিল হলেও প্রতৃকপক্ষে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ। এতে আগামী নির্বাচন বা আন্দোলন সংগ্রামগুলোতে বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বোদ্ধা মহল। 


জানা গেছে, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। তিনি বিগত কয়েকটি সভায় তার বক্তব্যের মাধ্যমে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এরপর কায়সার হাসনাতের পক্ষে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সিংহভাগ নেতারা চলে আসলে সুবিধাভোগি মহলটি শুরু করে নতুন কৌশল।


অভিযোগ উঠেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল ওরফে ভিপি বাদলের আশ্রয়ে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করে রাখার ছক কষছেন ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরু। যিনি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি যেখানে ঐক্যবদ্ধ সেখানে, জেলার সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল কোন মধুতে বীরুর পক্ষে বক্তব্য রাখছেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সোনারগায়ের নেতারা। একই সাথে বাদলের ভুমিকা নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করছে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের তৃণমূল। 


এদিকে, ভিপি বাদল ডা. বীরুর পক্ষ নিলেও বীরুর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তিনি সোনারগাঁ আওয়ামী লীগকে দ্বিখন্ডিত করার মাধ্যমে একক বলয় তৈরী করতে চাইছেন বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ। যদিও, যুগ্ম আহবায়ক কায়সার হাসনাতের পক্ষে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সিংহভাগ নেতা ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় বীরুর সেই প্রচেষ্টা ধোপে টিকছে না। তাই, সোনারগাঁয়ে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে গেছে ডা. বীরু।


অভিযোগ উঠেছে, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি গত ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও ডা. বীরু দলের মধ্যে বিভক্তি তৈরী করতে পাশাপাশি আরেকটি প্যান্ডেল করেন। একপর্যায়ে বীরুর ওই প্যান্ডেল ভাংচুর করা হয়। একটি সূত্রের দাবি, বিরুর পক্ষের লোকজনই তাদের নির্মিত প্যান্ডেল ভাংচুর করে তা সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন।


এদিকে, বীরুর রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও সমালোচনা চলছে সর্বত্র। সম্প্রতি একটি লিফলেট মানুষের হাতে হাতে ঘুরছে। ওই লিফলেটে অজ্ঞাত একটি পক্ষ উল্লেখ করেছে, বীরু তার ছাত্র জীবনে ময়মনসিংহ মেডিকেলে জামায়াত ইসলামের অংগ সংগঠন ছাত্রশিবিরের সাথে যুক্ত ছিলেন। এমনকি তার বাবাকে সোনারগাঁয়ের প্রখ্যাত রাজাকার এস এম সোলায়মানের সহযোগি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

লিফলেটে আরো উল্লেখ করা হয়- বীরুর ভাই লিটন ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি। তার ভগ্নিপতি মিয়া আব্বাস বাগেরহাটের বিএনপি সমর্থিত সাবেক এমপি, যিনি যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামী হয়ে কানাডায় পলাতক আছেন। তার আরেক বোন জামাই আব্দুল মালেক জামায়াত ইসলামের রোকন। ছাত্র জীবনে শিবির করার কারণে বীরু মারধরের শিকারও হয়েছিলেন। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতাকালে বিরু খালেদা জিয়ার সাথে বিদেশ সফরে ছিলেন বলেও অভিযোগ আনা হয়।  তিনি এক এমপির সুপারিশে স্বাচিপের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন। এছাড়াও বিএনপির তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মাজহারুল ইসলাম দোলনের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে লিফলেটে উল্লেখ করা হয়েছে।


এদিকে, আওয়ামী লীগের একাধিক নেতারা জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে আবু জাফর চৌধুরী বীরু আওয়ামী লীগের কোন পদপদবীতে ছিলেন না। তাকে সরাসরি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক পদে জায়গা দেয়া হয়েছে !  


এদিকে, লিফলেট ও এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. বীরুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গতকাল রাতে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জানা গেছে, বিরু সোনারগাঁয়ে যাদের নিয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান গড়তে চাইছেন, তাদের মধ্যে সিংহভাগই প্রকৃত আওয়ামী লীগার নন। তন্মধ্যে, উঠে এসেছে লায়ন বাবুলের নাম। অভিযোগ রয়েছে, লায়ন বাবুল বিএনপি পরিবারের সন্তান। তিনি জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ কিছু নেতাকে অর্থের বিনিময়ে খুশি করে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন।


এদিকে, অর্থের বিনিময়ে বিএনপি জামায়াত পরিবারের সদস্যদের জায়গা হলেও বাদ পড়েছেন, রাজপথে রক্ত ঝরানো নেতারা। তাদের মধ্যে অন্যতম সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম। জানা গেছে, ভিপি বাদল নিজেই কালামের বিরোধীতা করেছেন।  
এদিকে, সোনারগাঁয়ে উত্তপ্ত রাজনীতির বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমি কারো বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করতে চাই না। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। যারা সুবিধা ভোগের আশায় আওয়ামী লীগকে দ্বিখন্ডিত করতে চাইছেন, তাদের পক্ষে সোনারগাঁয়ের প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নেই।’  


সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘যারা সোনারগাঁ আওয়ামী লীগে উত্তাপ সৃষ্টি করতে চাইছে, তারা বাণিজ্যের রাজনীতি করে। সুবিধাভোগিরা সুবিধা নেয়ার জন্য ত্যাগীদের পিছে ফেলে তারা সামনে আসার চেষ্টা করে। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালি ছিলো। এটাকে দুর্বল করে সুবিধাভোগীরা সুবিধা নিয়ে থাকে। জাতীয় পার্টির এক সাংসদও এর আগে একই ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েছে।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন