Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বিরোধের নেপথ্যে প্রতীক বাসনা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২১, ০৯:২২ পিএম

বিরোধের নেপথ্যে প্রতীক বাসনা
Swapno

দীর্ঘদিন ছন্নছাড়া অবস্থায় দেখা গিয়েছিলো সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগকে। কেন্দ্রের অনুমোদনহীন পূর্বের আহবায়ক কমিটির মাধ্যমে বিভেদ ও বিভ্রান্ত ছড়ানো হয়েছিলো সোনারগাঁ আওয়ামী লীগে। ওই কমিটিতে রাখা হয়নি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামকে।

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগের বৃহৎ একটি অংশ ওই কমিটির বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে দেখা গিয়েছিলো কেন্দ্রের অনুমোদনহীন ওই কমিটির পক্ষে দৌড়ঝাপ করতে। তাদের পক্ষে পাল্লা ভাড়ি করার প্রচেষ্টাও চলেছিলো। এমনকি কায়সার হাসনাত ও কালামকে আক্রমণ করে বক্তব্যও রেখেছিলেন ভিপি বাদল।  

 


শেষমেষ কেন্দ্রের হস্তক্ষেপেই সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের ওই আহবায়ক কমিটি বাতিল করে গঠন করা হয় ২২ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহবায়ক কমিটি। ওই কমিটিতে প্রথম যুগ্ম আহবায়ক পদে কায়সার হাসনাতকে রাখা হলেও মাহফুজুর রহমান কালামকে রাখা হয়নি। তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা এখনো চলমান। এদিকে, আহবায়ক কমিটিতে কায়সারের অর্ন্তভুক্তিতে একটি মহলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে নেতাকর্মীদের মাঝে চাউর হচ্ছে। তাই পূর্বে যারা কায়সার হাসনাতের বিরোধীতা করেছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই এখনো ভিন্ন ভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

 

জানা গেছে, যারা দলের বাইরে গিয়ে বলয় তৈরী করতে চাইছেন, তাদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সোনারগাঁয়ের আহবায়ক কমিটির সদস্য ডা. আবু জাফর চৌধুরী অন্যতম। তিনি ইতিমধ্যেই আহবায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিদ্রোহী ভাবে শোকদিবস ও ২১ আগস্টের কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে, দলে বিদ্রোহ করতে যাওয়া সেই বিরুর পক্ষেই দেখা যাচ্ছে জেলার সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলকে। অভিযোগ উঠেছে, কায়সারের সাথে বিরোধীতা করে পাল্লা ভাড়ি করতেই ডা. বিরু প্রকাশ্যে এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘ডা. বিরু আগামীতে সোনারগাঁ অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তির বাসনায় আছেন। কিন্তু তার এই বাসনা পুরনে বাধা হিসেবে দেখছেন কায়সার হাসনাতকে। তাই বিরু সোনারগাঁয়ে পৃথক বলয় তৈরী করতে চাইছেন। বিরু যেহেতু ইতিমধ্যে ভিপি বাদলের সাথে সক্ষতা তৈরী করেছেন, সেহেতু ভিপি বাদলও বিরুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এতে করে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। আগামীতে এই বিশৃঙ্খলা আরো বৃদ্ধি পাওয়া আশঙ্কা করছেন বোদ্ধা মহল।’

 

এদিকে, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত। এরপর ভিন্নতা পোষন করেছিলেন, তাদের মধ্যে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুমসহ অন্যান্যরা এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছেন। এতে কায়সার হাসনাতের পাল্লা আরো ভারি হয়েছে।

 

অন্যদিকে, ব্যাকফুটে চলে গেছেন ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরু। এদিকে, সোনারগাঁয়ের সাবেক সাংসদ ও থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ হয়তো বীরু সামনে প্রার্থী হতে চায়। তাই তিনি সোনারগাঁয়ে বলয় তৈরী করতে চাইছেন। কিন্তু তার পক্ষে তেমন কোন উল্লেখ যোগ্য নেতা নেই। তিনি প্রার্থী হতে চাইলেও দলের নেতাদের পাশে পাচ্ছেন না। তাই দলের মধ্যে গ্রুপিং করতে গিয়ে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগকে অস্থির করতে চাইছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে যেকোন ব্যক্তিই মনোনয়ন চাইতে পারে। দলের মধ্যে একটি প্লাটফর্মে থাকলে এটি স্বাভাবিক। কিন্তু দলের বাইরে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশা করাটা যৌক্তিক বলে মনে করি না।’

 


তিনি বলেন, ‘আহবায়ক সামছুল ইসলাম ভূইয়া চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় আছেন। তাই ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হিসেবে আমাকেই দল নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু আমি আহবায়ক কমিটির হয়ে তাদের ডাকলে তারা মনে করে এটা আমি ডেকেছি, দল নয়। এখানেই তার ইগো সমস্যা কাজ করছে হয়তো। বীরুর সাথে আমার রাজনৈতিক বা প্রফেশনাল কোন দ্বন্দ্ব নেই। গণতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে যেকোন ব্যক্তিই মনোনয়ন চাইতে পারে। কিন্তু আমি কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বি ভাববো আর ওনাদের বিরুদ্ধে স্টেটম্যান্ট দিতেই থাকবো, এটাতো হতে পারে না। ইদানিং দেখালাম বিরু আমার বিরুদ্ধে স্টেটম্যান্ট দিতে শুরু করেছে। এটাতে ওনার ভাবমূর্তি বৃদ্ধি হবে কিনা আমি জানি না। এখন উনি কি মনে করছেন, তা উনিই ভালো জানেন।’

 

কায়সার হাসনাত বলেন, ‘আমরা ৮ তারিখে সিদ্ধান্ত নেই যে, ১৫ তারিখে শোক দিবস একত্রে পালন করবো। আমাদের আহবায়ক কমিটির ২২ জনের মধ্যে একজন মারা গেছেন এবং আহবায়ক আমেরিকায় আছেন। বাকি ২০ জনের মধ্যে ১৭জনই ওই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। যারা প্রত্যেকেই একত্রে শোকদিবসের কর্মসূচি পালনের পক্ষ্যে মত দিয়েছেন। ওই সভায় বিরু আসেননি। কিন্তু আমি নিজে তাকে ম্যাসেজ দিয়েছি, ফোন করেছি। তিনি আমার ফোন রিসিভ করেননি। এখানে আমার কিছু না, এটাতো আহবায়ক কমিটির মিটিং। তিনি সদস্য হিসেবে আহবায়ক কমিটির কার্যক্রমে আসবেন। কিন্তু তিনি না এসে উপরন্ত ইউটিউবে স্টেটম্যান্ট দিয়েছে সোনারগাঁয়ের আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে।’

 

জেলা কমিটির সেক্রেটারি ভিপি বাদল প্রসঙ্গে কায়সার বলেন, ‘১৫ আগস্টের পর আমরা ১৮ আগস্ট একটি জরুরী সভা ডাকি। ওই সভার বিষয় বস্তু ছিলো “১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির পরবর্তী পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন এবং ২১ আগস্টের প্রস্তুতি সভা” ওই সভায় জেলার সভাপতি আব্দুল হাই সাহেবকে ইনভাইট করি। জেলার সেক্রেটারি বাদল ভাইকেও ইনভাইট করার জন্য বহুবার ফোন দিয়েছিলাম। তিনি ফোন ধরেনি। ডা. বিরুকেও ম্যাসেজ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু সেও আসেনি। ফোনও ধরেনি। ২১ তারিখের কর্মসূচিতে আব্দুল হাই সাহেব প্রধান অতিথি ছিলেন। অথচ, বাদল ভাইকে বারংবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।’  

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন