Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

প্রেম করে বিয়ের চারমাসেই লাশ হলো গৃহবধূ : স্বামীসহ গ্রেফতার ৩

Icon

ফতুল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:২০ পিএম

প্রেম করে বিয়ের চারমাসেই লাশ হলো গৃহবধূ : স্বামীসহ গ্রেফতার ৩
Swapno

প্রেম করে চার মাস আগে বিয়ে হয়েছে মারিয়ার। হাতে এখনো মেহেদীর রং মুছেনি। এর মধ্যেই লাশে পরিণত হয়েছে গৃহবধূ মারিয়া (১৮)। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা মডেল থানার মাসদাইর ছোট কবরস্থানের শাহাদাতের ভাড়াটিয়া বাড়িতে ঘটলে সকালে শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ মারিয়ার স্বামী রিফাতসহ শাশুড়ি ও দেবরকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।

 

মারিয়ার পরিবারের দাবি তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলছেন সকলের অগোচরে ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছে মারিয়া। মারিয়া তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে একই বাসায় থাকতো। মারিয়া মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার পূর্ব শিয়লাদির দুবাই প্রবাসী মো. শহীদ মীরের কন্যা। স্বামী রিফাত মুন্সিগঞ্জ টঙ্গিবাড়ী থানার আউশাহি গ্রামের মালেয়শিয়া প্রবাসী মো. লিটনের ছেলে।

 

নিহত মারিয়ার চাচা হুমায়ুন হাওলাদার জানান, মারিয়া আত্মহত্যা করতে পারে না। তার ভাতিজিকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন ছাঁদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। মা রহিমা আক্তার বলেন, চার মাস আগে  রিফাতের সাথে প্রেম করে মারিয়ার বিয়ে হয়। মেয়ের ইচ্ছা ও সুখের কথা চিন্তা করে তারা সে বিয়ে মেনে নিয়ে পারিবারিকভাবে অনুষ্ঠান করে মেয়েকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠায়।

 

কিন্তু বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে রিফাত মারিয়ার উপর নির্যাতন করতো এবং মারিয়াকে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। তারা তাদের মেয়েকে দেখতে মাসদাইরের ভাড়া বাসায় আসলেও দেখা করতে দিতো না। শুক্রবার ভোররাত রাত সাড়ে তিনটার দিকে তার মেয়ের শ্বশুর বাড়ি থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয় যে তার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছে। পরে তারা এখানে এসে জানতে পারে যে তার মেয়ে মারা গেছে। তিনি দাবি করেন তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে ছাঁদ থেকে ফেলে হত্যা করে এখন আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে।

 

এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান, খবর পেয়ে শহরের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে গিয়ে মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন তারা। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা তা জানার জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বামী রিফাত, শাশুরি ও দেবরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, মারিয়ার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে জানিয়েছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রিফাত ও মারিয়ার মধ্যে ঝগড়া হয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যস্থতায় তা মিমাংসা হওয়ার পর তারা সকলেই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন রাত তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে মারিয়া সকলের অগোচরে দরজা খুলে পাচঁতলা বিল্ডিংয়ের ছাদে গিয়ে নিচে লাফিয়ে পরে আত্মহত্যা করে।

 

এ বিষয়টি হত্যা না আত্মহত্যা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে, তার প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন