নাজিম হত্যা মামলার আসামিরা ঘুরছে প্রকাশ্যে
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১৭ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর নাজিম উদ্দিন ভূইয়া হত্যা মামলার আসামীরা পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারনে স্থানীয় প্রশাসন তাদের গ্রেফতার করছে না। মামলার বাদিসহ নিহতের স্বজনরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে নিহতের স্ত্রী ও মেয়ে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল বার্মাস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যবসায়ী অকিল উদ্দিন ভুইয়ার সাথে একই এলাকার শাহ আলম চেয়ারম্যানের ছেলে মামুন প্রধানের সাথে ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে মামুন প্রধান, শাকিল প্রধান, শাহজালাল প্রধান, আনোয়ার হোসেন, মনির হোসেন, নূর নবী, সাহারা খাতুন, আওলাদ হোসেন, আবু তাহের সহ ১৫/২০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পিটিয়ে অকিল উদ্দিন ভুইয়ার ভাই নাজিম উদ্দিন ভুইয়াকে মারাত্মকভাবে আহত করে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজিম উদ্দিন ভূইয়া হাসপাতালে মারা যান। নিহতের ভাতিজা আলামিন ভুইয়া বাদি হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামীরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। সম্প্রতি হত্যা মামলার আসামী মামুন প্রধান, শাকিল প্রধান ও শাহজালাল প্রধান জমিনে বের হয়ে এসে মামলার বাদিসহ নিহতের পরিবারের সদস্যদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি প্রদান করছেন। এতে নাজিম উদ্দিন ভুইয়ার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নাজিম উদ্দিন ভুইয়ার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার স্ত্রী সনিয়া আক্তারের সাথে তিনি জানান, আমার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। কোন রকমে বেঁচে আছি। একটি মেয়ে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে স্বামী হত্যার বিচার পাওয়ার আসায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদেরকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি দিচ্ছে। নাজিম উদ্দিন ভুইয়ার একমাত্র শিশু সন্তান নুফিজা ভুইয়া জানান, আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছে তাদেরকে একইভাবে ফাঁসির রশি ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডের দাবি জানান শিশুটি।
তিনি বলেন, আব্বু আমাকে কত আদর করত, আমার জন্য কতকিছু নিয়ে আসত। আমার বান্ধবীদের বাবারা অনেক জায়গায় তাদেরকে ঘুরতে নিয়ে যায়, আমার বাবা নাই বলে আমি কোথায়ও ঘুরতে যেতে পারিনা। এ কথা বলতেই শিশুটির চোখ থেকে ছলছল করে পানি বের হতে থাকে। নাজিম উদ্দিন ভুইয়ার শাশুড়ি লাকি বেগম জানান, যারা আমার মেয়ের জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছে আল্লাহ যেন তাদের কোন দিন শান্তি না দেয়। মেয়ের জামাই মারা যাওয়ার পর কোন স্বজনরা আমার মেয়ে ও নাতনীর খবর নিতে আসেননি। কতরাত আমার মেয়ের চোখের জলে কেঁটেছে আমি মা হয়ে নীরবে তা দেখেছি।
মামলার বাদি আলামিন ভুইয়া জনান, মামলার আসামীরা এলাকায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। জামিনে বের হয়ে এসে এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, তেল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। আমাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতিও দেখাচ্ছে। তাই প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। তিনি বলেন, মামলার আসামীদের যাতে করে ফাঁসি হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্টমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোদনাইল এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, মামুন প্রধান, শাকিল প্রধান, শাহজালাল প্রধানসহ একটি সন্ত্রাসী বাহিনী জামিনে ফিরে এসে পুরো এলাকায় পূর্বেরন্যায় সন্ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করছে। যে কটা দিন জেলে ছিলো এলাকাটি শান্তিতে ছিলো। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যাকে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা না হলে নাজিম উদ্দিন ভুইয়ার মতো আরো অনেক মায়ের কোল খালি হতে পারে বলে ধারনা তাদের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, নাজিম উদ্দিন ভুইয়া হত্যা মামলার আসামীরা জামিনে রয়েছেন। যদি আসামীরা নিহত পরিবারের কাউকে হুমকি ধামকি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর নাজিম ভুইয়া হত্যা মামলাটি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। আসামীরা এলাকায় যাতে কোন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটাতে পারে সেজন্য আসামীরা নজরদারিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে.কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা জানান, হত্যা মামলার আসামীরা কোন ভাবেই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করতে পারবেনা। যদি অভিযোগ পাই তাহলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।


