Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

কুতুবপুরে আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাঁপ, নীরব বিএনপি

Icon

সাদ্দাম হোসেন শুভ

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৪ পিএম

কুতুবপুরে আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাঁপ, নীরব বিএনপি
Swapno

# কুতুবপুরে আ'লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাত জন, অন্যান্য প্রার্থী তিন


# কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেঁয়ে গেছে কুতুবপুর


# প্রার্থীরা সুকৌশলে চালাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন হাসিলের যুদ্ধ


# এ সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশ নেয়া ঠিক হবে না-বিএনপি


# বৃহৎ একটি দল তাই দলে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও বেশী-আ.লীগ



সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্যতম জনবহুল কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও নির্বাচনের আগেই যেন নির্বাচন শুরু হয়ে গেছে। এ ইউনিয়নেই শুধু আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাত জন, অন্যান্য তিনজন প্রার্থী। দলীয় মনোনয়ন ও ভোটারদের কাছে পরিচিতি লাভের জন্য সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা স্ব-স্ব এলাকায়  বেশ সরব হয়ে উঠেছেন।

 

কয়েকজন প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেঁয়ে গেছে কুতুবপুর ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকা। ওইসব এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার, হোটেল- রেস্তেরাঁ, দর্শনীয় স্থানসহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে রঙিন পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন।  অনেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও ভোটার এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ছাড়াও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও তদ্বিরে রয়েছেন ব্যস্ত। প্রার্থীরা নিজ নিজ জনসমর্থন ও দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে অত্যন্ত সুকৌশলে চালাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন হাসিলের যুদ্ধ।  

 

অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নব্য আওয়ামী লীগার বা হাইব্রীড আওয়ামী লীগার আখ্যা দিয়ে দলীয় নেতাদের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ দলের দুর্দিনের কান্ডারি কিংবা ত্যাগী ও পদ বঞ্চিত আওয়ামী লীগার হিসেবে নিজকে  যোগ্য প্রার্থী মনে করে মনোনয়নের জন্য ছুটছেন উপজেলা, জেলা এমনকি কেন্দ্র পর্যন্ত। কেউ কেউ করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনেই  ভোটারদের মন জয়ের জন্য বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। সরজমিনে কুতুবপুর ইউনিয়ন ঘুরে জানা গেছে এসব চিত্র।



সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে কে পাবে আওয়ামী লীগের দলীয় (নৌকা মার্কা) টিকিট তা নিয়ে খোদ প্রার্থীদের মধ্যে যেমন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, তেমনি ভোটারদের মাঝেও চলছে নানা গুঞ্জন ও কৌতূহল। তবে নৌকার টিকিট যেই পাবেন তার পক্ষে সকলে কাজ করবেন- এমনটা জানিয়েছেন দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা।  আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কুতুবপুরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় (নৌকা মার্কা) টিকিট পেতে ইতিমধ্যে কেউ প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে প্রকাশ্যে, কেউবা গোপনে  দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে কোনো তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে না। সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। মামলা-হামলা হয়রানি থেকে রেহাই পেতে কেউ কেউ আবার দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদানের চিন্তা ভাবনা করছেন।

 

এ অবস্থায় আসন্ন কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা কামাল, কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন জসিম, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব শাহ্ আলম গাজী টেনু, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক মুন্সী, কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মীর হোসেন মীরু, কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী নাজমুল হাসান শ্যামল।

 

অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের তিন বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিররুল আলম  সেন্টু, কুতুবপুর ইউনিয়ন নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব ও বাসদ নেতা এস. এম . কাদির, আলীগঞ্জের সামিউল ইসলাম সামুল। জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ বৃহৎ একটি দল। তাই দলে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও বেশী। তবে জনসমর্থন, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বিচার বিবেচনা করে কেন্দ্রে তালিকা পাঠানো হবে। কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্র যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে তার হয়ে কাজ করবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

জেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোট কারচুপি, সিলমারা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকার জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তাই এ সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশ নেয়া ঠিক হবে না। তবে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন