Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

প্রতিবেদন বিড়ম্বনায় ঝুলছে মামলা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫২ পিএম

প্রতিবেদন বিড়ম্বনায় ঝুলছে মামলা
Swapno

# কয়েকটি দপ্তর প্রতিবেদন দিলেই শুনানি করবেন হাইকোর্ট


# শুনানি হলে এই বছরই হতে পারে সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচন    


# সরেজমিনে জরিপ সম্পন্ন, বিরোধপূর্ণ অংশে কোন ভোটার নেই


 
সোনারগাঁ পৌরসভা নিয়ে চলমান রিট মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার পথে। কেবল সরকারের কয়েকটি দপ্তর তাদের জবাব তথা প্রতিবেদন জমা দিলেই মামলাটি শুনানি করবেন হাইকোর্ট। এতে এবছরই বহুল আলোচিত সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা জেগেছে। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট মামলাটি রয়েছে শুনানির অপেক্ষায়। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সীমানা জরিপ করেছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জবাব দেয়া হয়েছে বলেও সূত্রটির দাবী। এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জবাব দিলেই নির্দিষ্ট দিন ধার্য করে মামলার শুনানি করবেন আদালত।

 


সূত্রটি জানায়, সোনারগাঁয়ের যেই অংশটি নিয়ে মামলা চলমান, ওই অংশে কোন ভোটার নেই। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের জড়িপে উঠে এসেছে। সূত্রটির দাবী, ‘যেহেতু বিরোধপূর্ন সীমানায় সোনারগাঁ পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কোন ভোটার নেই, সেহেতু নির্বাচন হওয়া নিয়ে বিপত্তি থাকছে না।’ যদিও সারাদেশের চতুর্থ ধাপের তালিকায় সোনারগাঁয়ের নাম দেখা যায়নি।  

 


নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিনিয়র এক আইনজীবি দৈনিক যুগের চিন্তাকে জানান, ‘রিট মামলার পিটিশনার পৌরসভার বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমান। এর রেসপন্ডেন্ট হলেন, জেলা প্রশাসন, এলজিআরডি মন্ত্রনালয়, আইনমন্ত্রনালয়, নির্বাচন কমিশন, এসিল্যান্ড সোনারগাঁ, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও এক্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন কর্তৃপক্ষ। সীমানা জটিলতার এই বিষয় নিয়ে তাদেরকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি জবাব দেয়া হয়েছে। বর্তমানে রিটটিকে শুনানির জন্য ফিক্স করতে হবে। এখনো ফিক্স হয়নি। ফিক্স হলে শুনানির জন্য দিন ধার্য্য হবে। সেই ধার্য্যকৃত দিনেই আদালত রিটের শুনানি করবেন এবং মামলাটি নিষ্পত্তি হলে আর কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই কার্য সম্পাদন সম্ভব, যদি সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাগণ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তারা উদ্যোগ নিলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই মামলাটির নিষ্পত্তি সম্ভব।’

 


জানা গেছে, সোনারগাঁ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সনমান্দি ও মল্লিকের পাড় মৌজায় এক্সপোর্ট জোন গড়ে উঠে। এই জোনটির ৬০ শতাংশ তথা প্রায় ২৩ একর জমি পড়েছে সোনারগাঁ পৌরসভার অধিনে। এক্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন কর্তৃপক্ষ ওই ২৩ একর জমি পৌরসভা থেকে কর্তন করে মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে আবেদন করলে তা ইউনিয়নে অন্তর্ভূক্ত হয়। উদ্দেশ্য- পৌরসভার মোটা অংকের ভ্যাট ফাঁকি দেয়া। অতঃপর নিজেদের সীমানা ফিরে পেতে ২০১৮ সালে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলো সোনারগাঁ পৌরসভার মেয়র সাদেকুর রহমান। পৌরসভার স্বার্থে মামলাটি করা হলেও পরবর্তীতে রহস্যজনক কারণে কার্যক্রম এগিয়ে নেননি তিনি।

 


অন্যদিকে এক্সপোর্ট জোনের কর্তৃপক্ষ তদবির করে তাদের পক্ষে মামলার রায় নিয়ে নেয়। অর্থাৎ সোনারগাঁ পৌরসভার এক্সপোর্ট জোনের ওই বৃহৎ অংশ কর্তন হয়ে তা মোগরাপাড়া ইউনিয়নে অন্তর্ভূক্ত হয়। তবে, বিষয়টি অমিমাংসিত হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। সূত্র বলছে, সীমানা হেরফের হলে ‘নিকা’র সিদ্ধান্তক্রমে বিষয়টি আইন মন্ত্রনালয়কে অবগত করা হয়। আইন মন্ত্রনালয় বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে অবগত করবে। অতঃপর নির্বাচন কমিশন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। একটি সূত্র বলছে, সোনারগাঁ পৌরসভার এড়িয়া সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে আইনমন্ত্রনালয়ে জানানো হয়েছে। তবে, মন্ত্রনালয় থেকে এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে, রিট মামলা ও পৌরসভার নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য নারায়ণগঞ্জে যোগদান করা জেলা স্থানীয় সরকার এর উপ-পরিচালক ফাতেমা তুল জান্নাত দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জে একদমই নতুন এসেছি। এই বিষয়গুলো দেখে জেনে তারপর জানাতে পারবো।’

 


জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘সীমানা কিছু নির্ধারন করা হয়েছে, কিছু বাকি আছে। এই বিষয়ে নির্বাচন অফিসে কথা বলে বিস্তারিত জেনে তারপর জানাতে পারবো।’


প্রসঙ্গত, পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে ব্যপক উত্তাপ ছড়িয়ে ছিলো সোনারগাঁয়ে। জাতীয় পার্টির স্থানীয় সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার স্ত্রী ডালিয়া লিয়াকত পৌর মেয়র নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছিলেন। অন্যদিকে, ৬জন প্রার্থীর তালিকা কেন্দ্রে প্রেরণ করেছিলো স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা হলো, জেলা আওয়ামী যুব আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এটি ফজলে রাব্বী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছগীর আহাম্মেদ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক উপ-সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি গাজী মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বদরুন্নেছা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাসরিন সুলতানা ঝরা এবং সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গনি। নির্বাচনকে ঘিরে তারা প্রত্যেকেই ছিলো সরব।

 

তবে, মামলা জটিলতার বিষয়টি সামনে আসার পর তারা নিরব হয়ে পড়েন। তবে, মামলা জটিলতা কাটিয়ে এই বছরই পৌরসভার নির্বাচন দেয়ার জোড়ালো দাবী জানিয়েছেন প্রার্থীসহ স্থানীয় ভোটাররা। শেষ পর্যন্ত কি হতে যাচ্ছে সোনারগাঁ পৌরসভার ভাগ্যে, তা নিয়ে শঙ্কায় ভুগছেন সোনারগাঁবাসী।    
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন