Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

সোনারগাঁয়ে ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সরব প্রার্থীরা নীরব

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০০ পিএম

সোনারগাঁয়ে ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সরব প্রার্থীরা নীরব
Swapno

মহামারী করোনা কালীন সময়েও বছর খানেক আগে নির্বাচন কেন্দ্রীক অংশ গ্রহণমূলক প্রচার প্রচারনায় মাঠে সরব ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা। সে সময় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ নতুন আরো অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় আনুকুল্য পেতে প্রকাশ্যে ও গোপনে জোর লবিং চালিয়ে স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারনায় মাঠে সরব ছিলেন তারা।

 

কিন্তু সোনারগাঁ রয়েল রির্সোটে হেফাজত নেতা মামুনুল হক কান্ড ও উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটি পূর্ণগঠন করার পর থেকেই অনেকটাই নিরব হয়ে গেছেন নির্বাচীত জনপ্রতিনিধিসহ সম্ভাব্য সব প্রার্থীরা। এখন প্রকাশ্যে তাদের তেমন একটা দেখা যায় না নির্বাচনী প্রচারনার জন্য মাঠে ময়দানে ও নেতাদের সঙ্গে কোন সভা মঞ্চে। সম্প্রতি গঠিত সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটিতে যে সব নেতা স্থান পেয়েছেন তারা মাঝে মধ্যে দলীয় কর্মসূচীতে একত্রিত হলেও পরক্ষনে তাদের কোন কর্মকান্ডে আর দেখা মিলেনা।

 


নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে থেকে জানা যায়, মহামারী করোনার প্রার্দূভাব শুরু হওয়ার আগে সোনারগাঁ পৌরসভাসহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভবনা তৈরি হলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করার আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন। সেই আশ্বাসের পর থেকে উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ও সম্ভাব্য সব প্রার্থীরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তাদের সমর্থীত নেতার ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন লাগিয়ে পুরো উপজেলা রঙ্গিন করে তোলেন। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের দলীয় কর্মসূচী ও জাতীয় বিভিন্ন দিবসের অনুষ্ঠান গুলোতে তাদের প্রচার প্রচারনা ছিল সবচেয়ে বেশী। নির্বাচনে অংশ গ্রহন, দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পূনরায় নির্বাচিত হওয়ার লক্ষে স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামীলীগ নেতাদের সঙ্গে সুনিভীর সম্পর্ক ও সখ্যতা গড়ে তুলেন। সিনিয়র সব নেতাদের খুশি করতে তারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বতঃপূতভাবে অংশ গ্রহন করেন।

 

এছাড়া তারা পূনরায় নির্বাচিত হতে উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সোনারগাঁ জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরাম নামে একটি সংগঠনও করেন। কিন্তুু চলতি বছরের ৩রা এপ্রিল সোনারগাঁ রয়েল রির্সোটে হেফাজত নেতা মামুনুল হক কান্ডের পর কয়েকটি মামলা হওয়ার কারনে ও উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটি পূর্নগঠন করার পর বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনেকটা নিরব হয়ে যান। এছাড়া দলীয় ফোরামে প্রতিটি ইউনিয়নে একাধীক প্রার্থী থাকায় সম্ভাব্য সব প্রার্থীদের কাছে নেতাদের কদরও অনেকটা বেড়ে যায়। এদিকে, করোনা কালীন সময়েও এবার অনেক জনপ্রতিনিধি ও সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী ছিলেন আন্ডার গ্রাউন্ডে। করোনা কালীন সময়ে সরকারী ত্রান ছাড়া দুই একজন নির্বাচীত জনপ্রতিনিধি তাদের নিজস্ব অর্থায়ন ছাড়া কেউ মানবতার সাহায্যার্থে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নির্বাচীত জনপ্রতিনিধি জানান, মামুনুল হক কাণ্ডের পর উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় নেতা থেকে শুরু করে জাতীয়পার্টিসহ অনেক নেতার বিরুদ্ধে হয়রানী ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে কয়েকটি মামলা হয়েছে। এতে করে অনেক জনপ্রতিনিধি বেকায়দায় পড়েছেন। এ মামলায় সম্প্রতি একজন নির্বাচীত জনপ্রতিনিধি গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাভোগে রয়েছেন। তাছাড়া নতুন করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষনার পর উপজেলার নির্বাচনী প্রেক্ষাপট বদলাতে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রার্থীরা এখন কাকে ছেড়ে কাকে ধরবেন সে চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। এক নেতার কাছে গেলে অন্য নেতারা তাদের উপর নাখোস হোন। এতে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে ও নির্বাচিত হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন সেই আশঙ্কায় রয়েছেন। সে জন্য সব নেতাকে বাদ দিয়ে যে যার যার মতো নিজের ইউনিয়নের জনগনকে সময় দিচ্ছেন যাতে কোন নেতার উপর ভর করে নয় জনগণের উপর ভর করে আগামী নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারেন। সেই জন্যই মাঠে সরব থাকা প্রার্থীরা হঠাৎ করে নিরব হয়ে গেছেন।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন