প্রস্তুত আ’লীগ, জোটে আগ্রহী জাপা, সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএনপি
লতিফ রানা
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২৭ পিএম
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেও লেগেছে নির্বাচনের হাওয়া। করোনা মহামারির কারণে এই হাওয়ায় কিছুটা ব্যত্যয় ঘটলেও এখন নতুন উদ্যোমে চলছে এই প্রস্তুতি।
তবে বন্দর উপজেলায় অবস্থিত পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইলেও জাতীয়পার্টি চাচ্ছে আগের মতোই আওয়ামী লীগের সাথে ভাগাভাগি করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে। বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানদের মধ্যে মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এমএ সালাম ও ধামগড়ের আলহাজ্ব মাসুম আহমেদ আওয়ামী লীগ মনোনীত। অন্যদিকে মুসাপুর ইউপি’র চেয়ারম্যান মাকসুদ, বন্দর ইউপি’র চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ ও কলাগাছিয়া ইউপি’র চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান হলেন জাতীয়পার্টি মনোনীত।
সরোজমিনে এসব ঘুরে জানা যায়, এরই মধ্যে উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন থেকে শুরু করে মদনপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত সকল ইউনিয়নেই এই নির্বাচন নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিভিন্ন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তাদের নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের বিষয়টি বিভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এসব এলাকার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে তাদের আগ্রহের কথা জানা যায়। এর জন্যে তারা দলীয় নীতি নির্ধারকদের কাছে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনেকে আবার কোন দলীয় না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার কথা জানাচ্ছেন।
তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ জানায়, গত কোরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয়পার্টির নেতৃবৃন্দকে দেখা যায় ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে এলাকাবাসিকে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে নিজেদের পরিচিতি জানান দিচ্ছে। এখন তারা আবার একই পদ্ধতিতে এলাকাবাসির প্রতি নির্বাচনী সালাম প্রচার করছে। এদের মধ্যে অনেকেই নিজেকে দলীয় যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন, দলের পক্ষ হতে তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচন বিষয়ক কোন সিদ্ধান্ত এখনো না নেয়ায় নেতৃবৃন্দের তেমন একটা নির্বাচনী প্রচার কার্য না দেখা গেলেও তারা জনসংযোগ বজায় রাখছেন। তবে অনেকে দলীয়ভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত না নিলেও তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টু বলেন, আমরা এখনো নির্বাচনের বিষয়ে চুড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেইনি। নারায়ণগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত ঘোষণা হয়নি। যখন ঘোষণা করা হবে তখন আমরা কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করব। কেন্দ্র থেকে যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা বলে তখন আমরা এখানে যে সমস্ত বিএনপি মনা নির্বাচন করতে চায়, তাদের মনোনয়নপত্র ক্রয় করার জন্য বলব। এখনো আমরা সিদ্ধান্ত নেইনি আমরা নির্বাচনে যাব কি যাব না। তিনি বলেন, বিএনপি সব সময়ই একটি গণতান্ত্রিক দল, নির্বাচন বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল। অতীতেও আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন থেকে কেন বিরত আছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা বিরত নই, সরকার আমাদেরকে নির্বাচন থেকে বিরত করেছে। মানুষ এখন ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আগের নির্বাচন গুলোতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তাই আমাদের ভোটের বিষয়ে কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ও বন্দর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু বলেন, আমরা আগে যেভাবে দলীয় প্রার্থী দিয়েছি এবারও আমরা সেভাবেই দলীয় প্রার্থী দিব। আগের বার যেভাবে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি এবারও সেভাবে অংশগ্রহণ করব। বন্দর উপজেলা পরিষদের ৫টি ইউনিয়নে আলাদাভাবে জাতীয়পার্টি থেকে প্রার্থী দেয়া হবে কি না এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ৫টি ইউনিয়নে প্রার্থী দিব না, গত নির্বাচনে মহাজোটের হিসেবে যেভাবে আমরা প্রার্থী দিয়েছি এবারও সেভাবেই প্রার্থী দিব।
তিনি বলেন, এককভাবে জাতীয়পার্টি থেকে আলাদাভাবে কোন প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা নাই, মহাজোটের হিসেবে গতবার যেভাবে প্রার্থী ছিল এবারও সেভাবে নির্বাচন হবে। আমরা গত তিনবার এভাবেই চেয়ারম্যান এনেছি আগামীতেও আমরা আশাবাদী, আমাদের দলীয় কার্যক্রমও ভাল, আমাদের দলের চাহিদা আছে সেই হিসেবে আমাদের আশা ভাল থাকবেই। তিনি বলেন, অন্যান্য সব দলের ভিতর কোন্দল থাকতে পারে কিন্তু আমাদের দলে কোন কোন্দল নাই। আমরা পল্লী বন্ধু হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে যখন জাতীয়পার্টি দল গঠন করি তখন থেকে আমাদের মধ্যে কোনদিন দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল না আশাকরি আগামীতেও থাকবে না।
বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বন্দর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ রশিদ বলেন, নির্বাচনের জন্য বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে। ঈদের (কোরবানীর ঈদ) আগেও নির্বাচনের জন্য একটা সময় দেয়া হয়েছিল, করোনার জন্য সময়টা পিছিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিষয়ে আমরা একশত পার্সেন্ট প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। তিনি বলেন, বন্দরে যত নির্বাচন হয়েছে প্রত্যেকটি নির্বাচনে আমরা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। এই বছরও আমরা আওয়ামী লীগের যারা আছি তারা ঐক্যবদ্ধ আছি।
বন্দর উপজেলায় অবস্থিত পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যেকটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে নির্বাচিত করা যাবে কি না এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রস্তুত আছে। আমরা যাদের নমিনেশন দিব, আমরা আশাকরি তাদের নির্বাচিত করে নিয়ে আসতে পারবো। তিনি বলেন, দলীয়ভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের যেভাবে নির্দেশ দিবেন সেভাবে আমরা প্রার্থী নির্বাচন করব। একমাত্র দলীয় নির্দেশ অনুযায়ীই আমরা এগিয়ে যাব।


