সোনারগাঁ উপজেলায় বইছে নির্বাচনি হাওয়া। গত ২ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দৃশ্যপটে এসেছে পরিবর্তন। নড়েচরে বসেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নৌকার প্রতীক পেতে আগ্রহী প্রার্থীরা উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা ও কেন্দ্র পর্যন্ত লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে।
এতে নির্বাচনি আমেজ ক্রমশই ঘনিভুত হচ্ছে। জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন ক্রয় ও জমা দেয়ার সময় নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৩ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুলাই রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। তার পর থেকেই শূণ্য ওই আসনে প্রার্থী হতে উপ-নির্বাচনে একের পর এক নাম আসছে। এদিকে, উপজেলার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের মধ্যে অনেকের নামই শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু ও সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাঠ গুছিয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের আলোচনা তাদের ঘিরেই। তবে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থী একাধিক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটবে নৌকার প্রতীক, সেই আলোচনা ও বিচার বিশ্লেষন চলছে সোনারগাঁয়ে।
অন্যদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. শামসুল ইসলাম ভূইয়া নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তিনি অসুস্থ থাকায় আমেরিকায় চিকিৎসারত অবস্থায় আছেন। নির্বাচনের যথা সময়ের মধ্যে তার বাংলাদেশে আসা হচ্ছে না বলে বিভিন্ন সূত্র দাবী করেছে। তাই আগামী নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে না। এদিকে, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এই নির্বাচনে আসছে না বলে আগাম ধারণা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে, বিএনপি স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশ নিচ্ছেন না বলে আগেই জানিয়েছে। দলের হাইকমান্ডের বরাত দিয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার জানিয়েছেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার পক্ষে তারা নন।’
এদিকে, জাতীয় পার্টি উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দেবে কিনা, তাও এখনো চুড়ান্ত হয়নি। এই বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. লিয়াকত হোসেন খোকা দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনে জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী থাকবে কি না, এই বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত বা আলোচনা এখনো হয়নি। কেন্দ্রে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত পাবো। আমাদের দলের চেইন অব কমান্ড আছে। চেইন অব কমান্ড যাকে প্রার্থী দেবে সেই হবে, আর প্রার্থী না দিলে নেই।’
এক্ষেত্রে বিএনপি যেমন তাদের প্রার্থী না দেয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে, তেমনই জাতীয় পার্টিও প্রার্থী দিচ্ছে না বলে আগাম ধারণা করা যাচ্ছে। তাছাড়া, জাতীয় পার্টির হয়ে উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার মত হেভীওয়েট কোন প্রার্থীও নেই। তাই রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল বলছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী একাধিক হলেও যার ভাগ্যে মিলবে নৌকার প্রতীক, বিজয় হবে তার সু-নিশ্চিত। তাইতো মনোয়ন পাওয়ার লক্ষে ভেতরে ভেতরে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন নৌকা প্রত্যাশিরা।
জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করবো। আমাদের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং আস্থা রাখে, তাহলে আমি নৌকার বিজয়ের মাধ্যমে এর প্রতিদান দেব ইনশাআল্লাহ।’
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমি নির্বাচন করতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে নৌকা দেয়, তাহলে আমি দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবো। আমি শতভাগ আশাবাদি যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকার প্রতীক দিবে। নৌকা প্রতীক পেলে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবো ইনশা-আল্লাহ।’
উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার বলেন, ‘আমি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। তফসিল ঘোষণা করায় মনোনয়ন পত্র ক্রয় করবো। নৌকার প্রতীক নিয়ে বিজয় অর্জন করবো ইনশাআল্লাহ।’
জানতে চাইলে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘সোনারগাঁ উপজেলায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তালিকা তৈরী করে আগামী ৬ তারিখে আমরা জেলা আওয়ামী লীগে পাঠাবো। জেলা কমিটি এই তালিকা কেন্দ্রে পাঠাবে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে যাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে, আমরা তার সাথেই কাজ করবো এবং নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘সোনারগাঁ থেকে আমাদের হাতে এখনো প্রার্থীদের তালিকা পাঠায়নি। সোনারগাঁয়ের আহবায়ক কমিটি আমাদের কাছে প্রার্থীদের নাম পাঠাবে, তারপর আমরা নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠাবো। কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।’


