Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

গর্ভধারিনী মা নবজাতকের হত্যাকারী

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৫ পিএম

গর্ভধারিনী মা নবজাতকের হত্যাকারী
Swapno

# চিরকুটের সূত্র ধরে রহস্যের উম্মোচন
# দুই মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে পুকুরে ফেলেন মা
# মানুষের উপহাসের কারণে তিক্ত হয়ে এ কাণ্ড ঘটান তিনি

 

‘মা’ ডাকটি পৃথিবীর সবচাইতে মধুর ডাক। মায়ের চেয়ে আপন কেউ এই পৃথিবীতে আর কেউই নন। কিন্তু সেই গর্ভধারিনী মা যখন নিজ সন্তানের হন্তারক হন সেটিও মেনে নেওয়া কঠিন। এমনই এক ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই)। একটি চিরকুটের সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নবজাতক ইমাম হোসেনের হত্যাকারী হিসেবে তার গর্ভধারিনী মাকে শনাক্ত করেছে পিবিআই। গতকাল নারায়নগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিন এর আদালতে নিজ দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন নিজ সন্তানের হন্তারক মোসা.খাদিজা আক্তার পিংকি।

 

ভিকটিম নবজাতক শিশু ইমাম হোসেনের বাবা রুবেলের দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ১নং মাধবপাশা (কান্দিপাড়া) এলাকা থেকে রুবেলের শ্বশুর জবেদ আলীর বসতবাড়ী হতে ভিকটিম ইমাম হোসেন হারিয়ে যায়। তখন ভিকটিমের মা মোসা. খাদিজা আক্তার পিংকি চিৎকার দিলে বাড়ীর লোকজন আসে। তখন জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় সে এবং তার ছেলে ইমাম হোসেন ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় কে বা কাহারা তার ছেলেকে চুরি করে নিয়ে যায়।

 

পরে গত ২০২০ সালের ২১ এপ্রিল সকাল ৭টার সময় খাদিজা আক্তার পিংকির বসত বাড়ীর পাশে পুকুর হতে তার ছেলে ইমাম হোসেনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। উক্ত বিষয়ে ভিকটিমের পিতা মো. রুবেল বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। বন্দর থানা পুলিশ মামলা তদšে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় এক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের আবেদন এর প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এরনির্দেশে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। গত ২০২০ সারের ৩০ জুলাই থেকে  মামলাটির ব্যপক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়।

 

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, মামলাটির নিবিড় তদন্তকালে ঘটনাস্থল হতে সাত শব্দের একটি ছোট কাগজের টুকরা আলামত হিসেবে জব্দ করেন। জব্দকৃত কাগজে লেখা থাকে “বাচা গড়ে গড়ে চুরি করমু সাব থাব” উক্ত কাগজের হস্ত লেখার বিষয়ে ঘটনাস্থল  ভিকটিমের মায়ের বসতবাড়ীসহ আসপাশের লোকজনের নমুনা লেখা সংগ্রহ করে পর্যালোচনার এক পর্যায়ে ভিকটিমের মা খাদিজা আক্তার পিংকির হাতের লেখার সহিত জব্দ লেখার মিল থাকায় খাদিজা আক্তার পিংকির হাতের লেখা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে সংগ্রহ করেন মুনা হাতের লেখা বিশেষজ্ঞ দ্বারা তুলনামূলক পরীক্ষা করে জব্দ লেখা ভিকটিমের মাতা খাদিজা আক্তার পিংকির লেখার সাথে মিল পায়।

 

হস্তলেখার মিল পাওয়ায় গতকাল ৫ সেপ্টেম্বর খাদিজা আক্তার পিংকিকে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ অফিসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় তার স্বামী তাকে বারবার টাকার জন্য চাপ দিত। তার স¦ামী (বাদী রুবেল) চাইত তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার পিংকি তাকে কামাই করে খাওয়াবে। সে বাবার বাড়ীতে আসার পর তার স¦ামী (বাদী) তার কোন ভরণপোষণ দিত না। এটা নিয়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে উপহাস করত। তাই সে চাপ সহ্য করতে না পেরে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টার সময় তার ঘুমন্ত ছেলে ভিকটিম ইমাম হোসেনকে (দুই মাস) কোলে নিয়ে ঘরের পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন ভিকটিমের হত্যাকারীনি মা খাদিজা আক্তার পিংকি। 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন