Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

পূর্বাচলে মসজিদের জমিতে ভিন্নপ্রতিষ্ঠান মুসুল্লিদের মাঝে উত্তেজনা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৮ পিএম

পূর্বাচলে মসজিদের জমিতে ভিন্নপ্রতিষ্ঠান মুসুল্লিদের মাঝে উত্তেজনা
Swapno

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সরকারী প্লটে পারিবারিক ফাউন্ডেশনের নামে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ৪৫ কাঠা জমি দখলে রেখেছেন এক রাজউক কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, ওই জমিটির দখল স্থায়ী কারণে রাজউক থেকে বরাদ্দ পেতে করেছেন আবেদন।

 

তবে সেটি স্থানীয় ৩ গ্রামের অধিবাসী মুসুল্লিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য উচ্চ আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। যদিও অভিযুক্ত কর্মকর্তার দাবী রাজউক তাকে বরাদ্দ দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের নির্মাণাধীন রাজউকের অধীনস্থ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায়। এ ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে স্থানীয় মুসুল্লিদের মাঝে।    

 


সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২১ সেক্টরের ২২৪নং রোডের ০০৩এ প্লটটিতে তৈরী রয়েছে আধাপাকা বিশাল দৈর্ঘ্যের একাধিক ভবন। এসব ভবনে পাঠদান চলছে বাগরাইয়ার টেক তাকওয়া দারুসুন্নাহ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এতে ক্গাজে কলমে শিক্ষার্থী রয়েছেন শতাধিক। তবে বাস্তবে ২০ জন শিক্ষার্থী দেখা গেছে।  এর পাশেই রয়েছে রঘুরামপুর জামে মসজিদ নামে আরো একাধিক ভবন। ওখানে মুসুল্লিরা নামাজ আদায় করছেন নিয়মিত। আবার রাজউকের প্রকাশিত নকশায় এ প্লটটির অবস্থান দেখা যায় সাড়ে ২৭ কাঠা জমি ভবিষ্যতে মসজিদের জন্য রাখা হয়েছে। কিন্তু ওই জমিতে রাজউক কোন প্রতিষ্ঠান না গড়েনি এখনো। এছাড়াও পূর্বাচলের অধিবাসী ফুলবাড়ি ও রঘুরামপুর পৃথক দুটি যৌধ সমাজের লোকজন রঘুরামপুর  জামে মসজিদ ও পাশের সেক্টর থেকে আসা অপর রাজউক কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান মোল্লার পারিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত তাকওয়া। ফাউন্ডেশনের অধীনে একাই আরো ১৮ কাঠাসহ উভয় পক্ষ ৪৫ কাঠা দখলে নিয়েছে। তাই মুজিবুর রহমান মোল্লার পরিবার ও ফুলবাড়িয়া ,রঘুরামপুর গ্রামের মুসুল্লিদের মাঝে চরম ওত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ।

 

এদিকে স্থানীয় মুসুল্লিদের দাবী, রাজউকের সরকারী প্লট নকশ্য়া মসজিদের জন্য বরাদ্দ। তাতে কোন ব্যক্তি ও পরিবারের লোকজন দখল নিতে পারে না। মসজিদ মাদরাসায় সকল মুসুল্লিদের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। কোন একক মালিকানায় হতে পারে না। স্থানীয় রঘুরামপুর জামে মসজিদের নিয়মিত মুসুল্লি আব্দুর রউফ মালূম বলেন, রাজউক এ জমি কাউকে বরাদ্দ দেয়নি। অথচ রাজউকে কর্মরত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান মোল্লা তার পারিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত তাকওয়া ফাউন্ডেশনের অধীনে ৪৫ কাঠা পুরোই দখলে রেখেছে। এমনকি ওই দখল স্থায়ী করনে রাজউক থেকে অনুমোদন নিতে পায়তারা করছে। অথচ ২০১৬ ইং সালের পূর্বে পূর্বাচল উপশহরের পূর্বাচল তাক্বওয়া মাদ্রাসা নামে কোনো অস্তিত্ব ছিলো না। এমনকি ওই প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো জমি ওয়াকফ ছিলো না।  

 

যদিও স্থানীয় মুসুল্লিদের আবেদনে ওই প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাগরাইয়াটেক জামে মসজিদের জন্য ৪নং সেক্টরের ১০৪ নং রোডের ০২/এ প্লটটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর নকশায় থাকা ২১ নং সেক্টরে স্থানীয় দুটি সমাজের লোকজন যৌথভাবে রঘুরাম পুর ফুলবাড়িয়া জামে মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এরআগে রঘুরামপুর জামে মসজিদের নামে ১৯৬১ সালে মরহুম সৈয়দ আলী সাহেব ১০ শতাংশ এবং ফুলবাড়িয়া জামে মসজিদের জন্য হাজী আফাজদ্দিন ১৯৮৮ সালে ৪ শতাংশ জমি ওয়াকফ প্রদান করেন।

 


রঘুরামপুর জামে মসজিদের সভাপতি ছইনদ্দিন বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে যেখানে মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ ঠিক ওই জমিতেই আমরা রঘুরামপুর ফুলবাড়িয়া জামে মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করছি। কিন্তু ১৯৯৩ এর পর অধিগ্রহণকৃত এলাকার কোন হস্তান্তর দলিল কার্যকর হওয়ার নিয়ম না থাকলেও রাজউক কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান মোল্লা বাগরাইয়াটেক তাক্বওয়া মসজিদ ও মাদরাসা নামে দখলে নিয়েছে ৪৫ কাঠা পুরোই। আমরা দাবী করেছি, সকল মুসুল্লিদের অধিকার রক্ষায় তার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ যেন না দেয়। এতে সরকারী সম্পদ ব্যক্তিমালিকানাধীন লোকের হাতে চলে যাবে। আর তার তাকওয়ার প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান, মোতওয়াল্লী এমনকি সভাপতি পদটাও সে দখলে রাখে। ফলে স্থানীয় মুসল্লিদের ক্ষোভের শেষ নেই। রাজউক তার নামে বরাদ্দ দিলে মুসুল্লিরা বৃহৎ আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।  

 


স্থানীয় মুসুল্লি মজিবুর রহমান খান বলেন, যেখানে নকশায় মসজিদের জমি ওখানে মসজিদই হবে। মাদরাসা যদি সমাজবাসির অধীনে হতো তাতে আপত্তি থাকার কথা নয়। যখন নিজের নামের বাণিজ্যিক শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান করতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছে, তখন আমরা বাধ্য হয়ে এ প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছি।  অথচ স্থানীয় মুসুল্লিদেরকেই উল্টো দখলদার বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

 


এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান মোল্লা বলেন, আমার পূর্ব পুরুষের রেখে যাওয়া পূর্বাচলের অধিবাসিদের মধ্যে শেখ সাবু মোল্লা গংদের মালিকানায় কবরস্থানের নামে দেয়া ওয়াকফকৃত জমিতে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু চায়না বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ এক্সিভিশন বাণিজ্য মেলার অবস্থান। ওই জমিতে সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানযুক্ত ছিলো। যা বাণিজ্যমেলা বাস্তবায়নের স্বার্থে  ২০১৮ইং সনে ওই জমি ছাড়তে বাধ্য হই। নারায়ণগঞ্জ এলএ শাখা থেকে বিল উত্তোলন করিনি। পরবর্তিতে রাজউক ১৯৯৭ সনের মে ৬ষ্ঠ খন্ডের ৪১০ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত গ্যাজেটে ৮২ শতক জমি অবমুক্ত রাখে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়।

 

পরবর্তিতে ২০১৯ এর প্রথম দিকে রাজউকের আইন শাখা থেকে এওয়াজ ছাহাম সূত্রে বিকল্প জমি হিসেবে ২১ নং সেক্টরের ৪১ এর ১৯ নথি মতে বর্তমানে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের অধীনে মসজিদ ও মাদরাসার নামে ৪৫ কাঠা দখলে রয়েছে। এখানে সবার সেবা ও শিক্ষা নেয়ার সমান অধিকার বিদ্যমান।  তিনি আরো দাবী করেন, ২০১৯ এর ৬ এর বোর্ড সভায় ওই জমিটি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এমনকি রাজউকের কর্মকর্তারা ওই প্লটটি ঘরোয়াভাবে হস্তান্তর করলে মসজিদ ও মাদরাসার কাজ শুরু করি। এখন কিছু লোক প্রতিহিংসাবশত ব্যক্তি বা পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ভেবে মানতে না পেরে বরাদ্দ বাতিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।          

 


এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্প ব্যবস্থাপক (পিএম) বদিউল আলম বলেন, মুসুল্লিদের সুবিধার্থে ২১নং সেক্টরের সংশ্লিষ্ট প্লটটিতে সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জেনেছি। বরাদ্দ বিষয়টি কার নামে কিংবা চুড়ান্ত হয়েছি  কি না তা জানা নেই। এসব প্লটে কারো  মনগড়া প্রতিষ্ঠান গড়তে দেয়া হবে না। রাজউকের পরিকল্পণার বাইরে কোন প্রতিষ্ঠান রাখা হবে না। হোক তা সামাজিক কিংবা ব্যক্তিগত।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন