এবার সৈয়দপুর স্কুলের সভা নিয়ে বিতর্ক
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৫০ পিএম
# গোগনগরে সমালোচনার ঝড়
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় দলীয় এবং সামাজিক কর্মকান্ড নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরী হচ্ছে। ওই এলাকার মানুষের ভাষ্যমতে এই বিতর্কের মাস্টারম মাইন্ড হিসেবে পিছন থেকে কলকাটি নারেন কথিত আওয়ামীলীগ নেতা ফজর আলী। ইঐঅখঙ ইজওউওঘএ ঞঐঊ এজঙটচ সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (ভালো) নামে একটি সংগঠন সোমবার বিকেল ননএমপিও ভুক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এবার এই অনুষ্ঠানকে নিয়ে জেলার শহরে বাহিরে বিভিন্ন সমালোচনা তৈরী হয়। এই অনুষ্ঠানকে সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তোফায়েল আহাম্মদ প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
গোগনগরের একাধিক ব্যক্তি জানান, সোমবার ননএমপি ভুক্ত শিক্ষকদের মাঝে আর্থিক সহায়তার জন্য একটি বিদেশী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইঐঅখঙ ইজওউওঘএ ঞঐঊ এজঙটচ (ভালো) আর্থিক অনুদান প্রদান আয়োজন করা হলেও এর মূল উদ্দেশ্য ফজর আলী এখানে একটি সভা করা। এবং তাই করা হয়। অনুষ্ঠানটি শিক্ষকদের আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠান করা হলেও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের রেশ সামনে টেনে সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনকে বাদ দিয়ে আয়োজন করা হয়। জসিম উদ্দিন বিদ্যালয়ের কমিটির সভাপতি হওয়া স্বত্বেও তাকে বাদ দিয়ে প্রধান শিক্ষককে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। যা নিয়ে গোগনগর বাসি সহ বিভিন্ন শিক্ষাবিদরা সমালোচনা করেন।
তারা বলেন, অনুষ্ঠান বিদেশি একটি সংগঠনের এর সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফায়ের আহম্মেদ। এ নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে প্রশ্ন উঠে এই সংগঠনের কি সভাপতি সেক্রেটারি বা কোন দায়িত্বরত ব্যক্তি নাই। প্রধান শিক্ষক ওই বা কেন সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে সমালোচনার মুখে পরলেন। একটি মহলের নির্দেশে দুই বার ব্যানারের নাম পরিবর্তন করা হয়। আর সেখানে সভাপতিত্বে নামে স্থান পায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তোফায়েল আহাম্মদ এর নাম এবং অতিথির স্থানে নাম আসে শীতলক্ষ্যা ব্রীজের মালামাল চুরির শেল্টার দাতা হাইব্রীড আওয়ামী লীগ নেতা ফজর আলী।এতে সচেতন শিক্ষক সমাজ ও এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়।
অনুষ্ঠানে সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো তোফায়েল আহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ,বিশেষ অতিথি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা জহুরা,নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু,হাইব্রীড আওয়ামী লীগ নেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফজর আলী। জেলার সম্মানিত ব্যক্তিদের পাশে বিতর্কিত নেতাকে দেখে এই সমালোচনা তৈরী হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, অনুষ্ঠানটি শামীম ওসমানের লোকেরা করেন। এই বিষয়ে আমি জানি না। ব্যানারে কি লিখা সেটাই তো আমি জানি না। হয়তো ব্যানারে জসিম সাহেবের নাম নেই তাই তিনি আসেননি। গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের এমপি এ কে এম সেলিম ওসমানের অর্ন্তভূক্ত হয়েও কিভাবে শামীম ওসমান অনুষ্ঠান করে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,অনুষ্ঠানটি শামীম ওসমানের শালা তানভীর আহামেদ টিটু আয়োজন করেছে। তিনি তাহলে তো শামীম ওসমানের লোক।
সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন,আমার পূর্ব পুরুষ যারা আছে তাদের নিয়ে বকলমের মত বিভিন্ন বিরুপ মন্তব্য করে। এই মন্তব্যের পরে আমি কিভাবে আসবো। গতকালের বিষয়ে আমি অবগত নই তার উপর এমনেই এই ঘটনায় আমি লজ্জিত। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে জেলার ডিসি সাহেব আসবে আমরা তাকে সম্মানের সাথে বরন করে নিবো। সেই জায়গায় এমন দলাদলি থাকবে কেন। একটি কুচক্রী মহলের নির্দেশে ব্যানার দুই বার পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই আমিও মনে করেছি আমার নাম আসবে না তাই আসিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন সদস্য জানান, কখনো বিদ্যালয়ের উন্নয়নের পাশে পায়নি ফজর আলীকে। সেই ফজর আলী তার বক্তব্যে বলেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে শামীম ওসমানের কাছ থেকে অনুদান এনেছি বিদ্যালয়ের উন্নয়ের জন্য। অথচ ওই সময় তিনি প্রবাসে ছিলেন। তার এই মিথ্যা বক্তব্যে উপস্থিত মানুষ সমালোচনা করেন।
এর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শোক দিবসের অনুষ্ঠানের এক সভায় সদর থানা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি আল মামুনের বক্তব্য নিয়ে তুমূল সমালোচনা হয়। ওই বক্ত্যবের কারনে তাকে দল থেকে বহিস্কারের দাবী তুলা হয়। যা ১৮ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে সিদ্ধান্ত হতে পারে। ওই সভায় আল মামুন বলেন, নৌকার দরকার নেই। নৌকা একটা মার্কা। আম পাতা মার্কা নিয়ে হলেও আমরা ফজর আলীকে নির্বাচিত করবো।


