Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ফতুল্লায় নির্বাচনের আগেই হুমকি ধমকি শুরু

Icon

ফতুল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩৩ পিএম

ফতুল্লায় নির্বাচনের আগেই হুমকি ধমকি শুরু
Swapno

# কাশীপুর, বক্তাবলী, এনায়েত নগরে এবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের প্রস্তুতি

# ফতুল্লা ইউনিয়নে অর্ধ ডজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও নির্বাচন দিতে চান না শামীম ওসমান
# কুতুবপুর ইউনিয়নে এবার মনিরুল আলম সেন্টুকে সরিয়ে দেয়ার পায়তারা চলছে

 

ফতুল্লার চারটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদ নিয়ে হুমকি ধমকি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যানরা পদ আঁকড়ে থাকতে চাইলেও প্রত্যেকটি ইউনিয়নে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মাঠে নেমেছেন একাধিক প্রার্থী। কিন্তু এসব প্রার্থীকে বর্তমান চেয়ারম্যানদের লোকজন ব্যাপক হুমকি ধমকির মাঝে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন ওই সব প্রার্থীরা। কাশীপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন এম সাইফ উল্লাহ বাদল। গত নির্বাচনের আগে তিনি এবং সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সাবেক চেয়ারম্যান মোমেন শিকদারকে কথা দিয়েছিলেন সাইফ উল্লাহ বাদল একবারই নির্বাচন করবেন। দ্বিতীয়বার তিনি নির্বাচন করবেন না। পরেরবার মোমেন শিকদারই পাবেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন।

 

কিন্তু কথা রাখছেন না শামীম ওসমান এবং সাইফ উল্লাহ বাদল। এবারও শামীম ওসমানের অনুমতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন সাইফউল্লাহ বাদল। ফলে বাধ্য হয়ে মোমেন শিকদার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এ বিষয়টি প্রকাশ করেছেন এবং তিনি যেকোনো মূল্যে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত এরপর থেকেই মোমেন শিকদারকে হুমকি ধমকি দেয়া শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া এই ইউনিয়নে আরো একজন প্রার্থী হলেন বিএনপির ডালিম শিকদার। তিনি এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করতে চান বলে এরই মাঝে এলাকায় ব্যানার পোষ্টার লাগিয়েছেন। তাই তাকেও হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রসঙ্গত, বিগত নির্বাচনে সাইফ উল্লাহ বাদল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী ওমর আলীকে হুমকি দিয়ে বসানো হয়েছিলো বলে তখন অভিযোগ উঠেছিলো। তাই এবারও একই কায়দায় জয়ী হতে চাইছেন সাইফ উল্লাহ বাদল।

 


অপরদিকে বক্তাবলী ইউনিয়নে এবার আওয়ামী লীগ থেকে জাহাঙ্গীর এবং ভিপি আলমগীর নির্বাচন করতে চান বলে জানা গেছে। এছাড়া বিএনপি থেকেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করতে চান কয়েকজন। কিন্তু গত নির্বাচনের মতো এবারও শওকত চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চাইছেন। তাই এরই মাঝে অন্য প্রার্থীদেরকে এই বলে বার্তা দেয়া হয়েছে যে নির্বাচনের চেষ্ঠা করে কোনো লাভ নেই। শওকত আলীর বিরুদ্ধে কাউকে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। প্রসঙ্গত গত নির্বাচনে এই ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছিলেন বিএনপির আকবর আলী সুমন। কিন্তু এই আকবর আলী সুমনকে একের পর এক হুমকি দিয়ে বসিয়ে দেয়া হয়েছিলো। এবারও একই কাজ করা হচ্ছে। 

 

আগেই ঘোষনা করা হয়েছে বক্তাবলী ইউনিয়নে আর কোনো প্রার্থী দাঁড়াতে দেয়া হবে না। ফলে জাহাঙ্গীর আর বিএনপির প্রার্থীরা এরই মাঝে অনেকটা চুপসে গেছেন। এবারও বক্তাবলীর মানুষের ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন শওকত আলী।


এদিকে এনায়েতনগর ইউনিয়নেও নির্বাচন করার জন্য একাধিক প্রার্থী প্রস্তুত রয়েছেন। এদের মাঝে অন্যতম হলেন এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন। এছাড়া প্রয়াত চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনের এক ছেলেও নির্বাচন করতে চান বলে জানা গেছে। কিন্তু এরই মাঝে ঘোষণা করা হয়েছে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান নাকি আসাদুজ্জামানকেই দিচ্ছেন মনোনয়ন। যার ফলে এখানে ভয়ে তারা মাঠে নমাতে সাহস পাচ্ছেন না। সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন জানিয়েছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান যদি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাবস্থা করেন তাহলে তিনি নির্বাচন করবেন। তিনি শামীম ওসমানের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন চাইবেন। ফলে এতেই বুঝা যাচ্ছে এখান এবার কি পরিস্থিতি বিরাজ করছে?


ফতুল্লা ইউনিয়নে নির্বাচন করতে চান অন্তত অর্ধ ডজন প্রার্থী। এই ইউনিয়নে নির্বাচন হয় না প্রায় ত্রিশ বছর ধরে। তাই লুৎফর রহমান স্বপন একজন মেম্বার হয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ইউনিয়নের নয়জন মেম্বারের মাঝে পাঁচজনই মৃত্যু বরণ করেছেন। তারপরেও এখানে শামীম ওসমান কোনো নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে চান না। যারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন তাদেরকে কোনো রকম পাত্তাই দিচ্ছেন না শামীম ওসমান এমপি। তাই এবারও এখানে নির্বাচন না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।


অপরিদকে কুতুবপুর ইউনিয়নেও এবার কি হয় বলা যায় না। এরই মাঝে মোস্তফা কামাল নামক আওয়ামী লীগের এক প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। তিনি রাস্ট্রের প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের নাম বলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্ঠা করছেন। বিপরীতে এবার মনিরুল আলম সেন্টুকেও শামীম ওসমান এখনো কোনো গ্রীন সিগন্যাল দেন নাই। এরই মাঝে এখানে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের আরো অন্তত দুই প্রার্থী। এরা হলেন আবদুল খালেক মুন্সী এবং জাহাঙ্গীর মেম্বার। 

 

ফলে কুতুবপুর ইউনিয়নে এবার বিরাজ করছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। ফলে কুতুবপুরের সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কিনা? সেন্টু নির্বাচন না করলে এখানে এবার একতরফা নির্বাচন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর চেয়ারম্যান সেন্টু যদি নির্বাচন করতে চান তাহলে তাকে যে ধমকি দিয়ে বসিয়ে দেয়া হবে এতে কারোই কোনো সন্দেহ নেই। 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন